আজ: বুধবার | ২০শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ৭ই জমাদিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি | রাত ১২:১৯

সংবাদ দেখার জন্য ধন্যবাদ

আ’লীগ নেতা রোকনউদ্দিনকে চোখের জলে শেষ বিদায়

০২ ডিসেম্বর, ২০২০ | ৭:৫৭ পূর্বাহ্ন | ডান্ডিবার্তা | 253 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি, সরকারী তোলারাম কলেজের সাবেক ভিপি রোকন উদ্দিন আহমেদ ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্নালিল্লাহি…রাজিউন)। বিজয়ের মাসের প্রথম দিনে গতকাল মঙ্গলবার ভোর ৫টায় শহরের বালুরমাঠ এলাকাতে নিজ বাসায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। দুপুরে নারায়ণগঞ্জ শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তাঁর মরদেহ রাখা হলে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার লোকজন শ্রদ্ধা জানান। শহীদ মিনারের সামনেই অনুষ্ঠিত হয় জানাযার নামাজ। নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী নেতা ছিলেন মহানগর কমিটির সহ সভাপতি রোকন উদ্দিন আহমেদ। তুখোড় ছাত্রনেতা থেকে তিনি সবশেষ মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি হিসেব দায়িত্ব পালন করছেন। রোকন উদ্দিন আহমেদ ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মিলে প্রথম জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার প্রতিবাদ মিছিল করেছিলেন। এদিকে ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও অশ্রুশিক্ত নয়নে প্রগতিশীল আন্দোলনের অন্যতম প্রতিকৃত রোকন উদ্দিন আহমেদকে বিদায় জানালেন নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী সহ বিভিন্ন শ্রেনি পেশার মানুষ।
মঙ্গলবার দুপুরে শহরের চাষাঢ়ায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের আয়োজনে শ্রদ্ধাঞ্জলি আয়োজনের মধ্যে দিয়ে এ বিদায় জানানো হয়। প্রবীন এই আওয়ামীলীগ নেতার মৃত্যুতে কান্না জড়িত কন্ঠে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন বললেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের সঙ্গী ছিল তিনি, জ্ঞাত-অজ্ঞাত ভুল-ত্রুটির জন্য ক্ষমাও চান সকলের কাছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে বঙ্গবন্ধু সড়কে বিশিষ্ট রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রোকনউদ্দিন আহমেদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার পূর্বে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কাঁদেন আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, ‘তোলারাম কলেজের ছাত্র থাকাবস্থায় রোকন ছিল ভিপি আর আমি জিএস। সে ছাত্র ইউনিয়ন করতো, আমি ছিলাম ছাত্রলীগের। কিন্তু আমাদের মধ্যে ভাব ছিল। আমাদের মতের অমিল হলে নিজেরাই সংশোধন করে নিয়েছি। ১৯৭৫ সালের ১৭ আগস্ট আনোয়ার-রোকনের নেতৃত্বেই বঙ্গবন্ধুর হত্যার প্রতিবাদে প্রথম মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের এই বন্ধুকে হারিয়ে আমি ব্যথিত।’ রাজনীতির শুরুর দিকে ছাত্র ইউনিয়নের তুখোর নেতা ছিলেন রোকন উদ্দিন আহমেদ। নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী সরকারি তোলারাম কলেজ ছাত্রছাত্রী সংসদের নির্বাচিত সহসভাপতি (ভিপি) ছিলেন তিনি। পরে কমিউনিস্ট পার্টির নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হন। নব্বইয়ের দশকে কমিউনিস্ট পার্টি ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ছিলেন তিনি। এছাড়া উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথেও জড়িত ছিলেন। ছয় বছর পূর্বে মেডিকেল পরীক্ষায় মোটর নিউরন ডিজিজের মতো দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি জানা যায়। পরে তাকে ভারত ও বাংলাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। চলতে থাকে থেরাপি। চলতি বছরের শুরুর দিকে হাত-পা নড়াচড়া বন্ধ হয়ে যায়। মার্চের দিকে পুরো শরীর অবশ হয়ে যায়। প্রায় বছরখানেক শয্যাশায়ী থাকার পর মঙ্গলবার ভোর পাঁচটার দিকে নিজ বাসায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বেলা ১২টার দিকে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আনা হয় রোকনউদ্দিন আহমেদের মরদেহ। মহানগর আওয়ামী লীগের এই আয়োজনে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। শোকাহত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান মেয়র। শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করেন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন, সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চ, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট, নারায়ণগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ইউনিয়ন, কমিউনিস্ট পার্টি, খেলাঘর আসর, গণসংহতি আন্দোলন, ওয়ার্কার্স পার্টি, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, জাসদ, তোলারাম কলেজ ছাত্রছাত্রী সংসদসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সর্বস্তরের মানুষ। এদিকে মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রোকনউদ্দিন আহমেদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি। রোকনউদ্দিন আহমেদের মরদেহে শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ মিনারে আসেন মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। এইসময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর অসিত বরন বিশ্বাস, মো. কবির হোসাইন, মো. ফয়সাল সাগর, পরিছন্ন কর্মকর্তা মো. আবুল হোসেন, মো. আলমগীর হিরণ, শ্যামল পাল প্রমুখ। শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন শেষে রোকনউদ্দিন আহমেদের স্ত্রী নারায়ণগঞ্জ জেলা মহিলা পরিষদের সহসভাপতি রিনা আহমেদ ও ছেলে জুলকার আহমেদের সাথে কথা বলেন মেয়র আইভী। তিনি কিছু সময় শোকাহত পরিবারের সদস্যদের পাশে অবস্থান করেন এবং সমবেদনা জানান। আওয়ামী লীগ নেতা রোকনউদ্দিন আহমেদ গতকাল মঙ্গলবার ভোর পাঁচটার দিকে শহরের ভাষা সৈনিক সড়কের নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দুপুর ১২টার দিকে শ্রদ্ধা জানাতে তাঁর মরদেহ নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আনা হয়। মহানগর আওয়ামী লীগের এই আয়োজনে রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করেন।



Comment Heare

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Top