Home » প্রথম পাতা » সততা ও দৃঢ়তার মাধ্যমে সবকিছু অর্জন করা যায়: এমপি খোকা

আলীরটেক হচ্ছে হেফাজতের ঘাঁটি!

০১ নভেম্বর, ২০২১ | ৬:০৯ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 65 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষকে উসকে দিয়ে যখন তখন রাস্তায় নামিয়ে এনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করাসহ নানা রকম অপ্রীতিকর ঘটনার জন্ম দিতো হেফাজতে ইসলাম। যার সর্বশেষ ভয়ানক রূপ দেখা গিয়েছিলেন, সিদ্ধিরগঞ্জে ব্যাপক সহিংসতার মধ্য দিয়ে। তবে, ওই ঘটনার পর উশৃঙ্খল হিসেবে পরিচিত এই সংগঠনটির নারায়ণগঞ্জের নেতারা ব্যাকফুটে চলে যান। কিছুতেই তারা প্রকাশ্যে আসতে পারেনি, বা আসেনি। তবে, সম্প্রতি কাছিমের মত এই হেফাজতে ইসলামের নেতারা একটু একটু করে মাথা বের করছেন। সংগঠিত হচ্ছেন তারা। সদর উপজেলার আলীরটেক ইউনিয়নের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জাকির হোসেন ওরফে ঘি জাকিরের মাধ্যমে হেফাজতে ইসলামী নেতাকর্মীরা সংগঠিত হচ্ছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে তারা নিজেদের শক্তির জানান দিতে আলীরটেকে শো-ডাউনও করেন। যা নিয়ে সর্বমহলে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা চলছে। জাকির হোসেন আলীরটেক ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান। তাকে সকলেই বিএনপির সমর্থক হিসেবেই জানেন। বিগত সময়ে তাকে বিএনপির নেতাদের সাথেই দেখা গেছে বেশি। কখনই তাকে আওয়ামী লীগ করতে দেখা যায়নি। তার পুরো পরিবারের লোকজনই হেফাজত ইসলাম ও বিএনপি সমর্থক। জাকির হোসেনকে অনেকেই ভেজাল ঘি কারবারি বলে থাকেন। কথিত রয়েছে, ভেজাল ঘি এর কারবার করে, মানুষ ঠকিয়ে অঢেল ধন সম্পদের মালিক তিনি। স্থানীয়দের দাবি জাকির হোসেন চেয়ারম্যান হলেও স্থানীয় পর্যায়ে তেমন কোনো উন্নয়নমূলক কর্মকা- করতে পারেনি। এবং হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে সখ্যতার কারণে গেল নির্বাচনে মতিউর রহমান মতি পুনরায় নির্বাচিত হোন। তবে, এবার তিনি নৌকা প্রতীক পেয়েও রহস্যজন কারণে নিজ থেকেই নির্বাচন না করার ইচ্ছে পোষণ করলে নৌকা প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয় জাকিরকে। কথিত রয়েছে, একজন সাংসদের নির্দেশে এবং জাকির হোসেনের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে নির্বাচন থেকে সরে গেছেন মতি। এদিকে সূত্র বলছে, এবারের নির্বাচনে ব্যাপক অর্থ নিয়ে মাঠে নেমেছেন ঘি জাকির। তিনি দুই হাতে টাকা লুটাচ্ছেন। তার পেছনে ছায়া দেওয়া সাংসদের অনুকম্পায় তিনি ইতোমধ্যে দুইবার নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘনও করেছেন। কমিশনকে বৃদ্ধা অঙুলি প্রদর্শন করে প্রথমবার তিনি নির্বাচন বিধি লঙ্ঘন করেন মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময়। সেদিন তিনি বিপুল সংখ্যক ভাড়া করা লোক জড়ো করে মিছিল করেন। তবে, তার এই আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নেয়নি নির্বাচন কর্মকর্তারা। অন্যদিকে শুক্রবার তিনি নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে কয়েক হাজার লোককে জড়ো করে ভুড়িভোজ করিয়েছেন। এই ভূড়িভোজকে কেন্দ্র করে এদিন তার পক্ষে ব্যাপক শোডাউন করে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা। যার নেতৃত্বে ছিলেন কেন্দ্রীয় হেফাজতে ইসলামের নেতা মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান। যাকে বলা হয় সিদ্ধিরগঞ্জের সহিংসতার মূলহোতা। তবে, অদৃশ্য একটি অঙুলির ইশারায় তিনি ওই ঘটনায় নয়টি মামলা হলেও একটিতেও আসামী হন নি। এমনকী এসব ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে একটিবারের জন্য প্রশাসন আটক করেনি। তবে, ওই ঘটনার পর থেকে তিনি অনেকটা আড়ালে চলে গিয়েছিলেন। বর্তমানে জাকিরের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিজ অনুগামী নেতাকর্মীসহ এলাকায় সংগঠিত হচ্ছেন। এদিকে সচেতন মহল বলছে, জাকির হোসেনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেভাবে হেফাজতে ইসলাম সংগঠিত হচ্ছে তা আগামীর জন্য শুভকর নয়। জাকির হোসেন নির্বাচিত হলে আলীরটেক হেফাজতে ইসলামের ঘাঁটিতে পরিণিত যে হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কেননা, গ্রামের মানুষগুলো এমনিতেই একটু সহজ প্রকৃতির হয়ে থাকে। তাদেরকে বুঝিয়ে খুব সহজেই ভুল পথে ধাবিত করা যায়। মাওলানা ফেরদাউসুর রহমানরা সেটিই করবেন। এতে করে সরকারকে হেফাজতের বেকায়দায় ফেলার পূর্ব যে পরিকল্পনা ছিলো তার জন্য আলীরটেকই হবে অন্যতম কেন্দ্রস্থল, এটুকু অনুমেয় বলে মনে করেন তারা। অন্যদিকে নৌকা প্রার্থীর পক্ষে হেফাজতে ইসলামের সখ্যতা, তার পক্ষে হেফাজতে ইসলামের নেতাদের প্রচারণায় অংশ নেওয়া এবং শো-ডাউন প্রসঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই বলেছেন, জাকির তো আওয়ামী লীগ করে না। তারপরও সে কীভাবে নৌকা পায়! তার সুপারিশে আমি স্বাক্ষর করিনি। তার সাথে শুরু থেকেই হেফাজতে ইসলাম রয়েছে।

 

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *