Home » প্রথম পাতা » গভীর রাতে বোট ক্লাবে কী করেছিলেন পরীমণি?

আসছে জেলা আ’লীগের নতুন কমিটি পদ হারাতে পারেন হাই-বাদল

১০ জুন, ২০২১ | ৬:৫৫ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 33 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে অনেক দিন আগেই। সে হিসেবে যে কোনো দিনই নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে সেই সম্ভাবনা প্রবল হয়েছে। ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে বলা হয়েছে অতি শীঘ্রই মেয়াদ উর্ত্তীর্ণ জেলা উপজেলা কমিটির সম্মেলন শেষ করা হবে। সেই সূত্র ধরে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি বিলুপ্ত হতে যাচ্ছে। জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি বিলুপ্ত হওয়ার সাথে সাথে কারা কারা আবার নতুন কমিটিতে আসছেন তা নিয়েও চলছে আলাপ আলোচনা। তবে বর্তমান জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু হাসনাত শহীদ বাদলের সম্ভাবনা খুবই কম বলে শীর্ষ স্থানীয় একটি সূত্র গেছে। কারণ হিসেবে তারা জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ পদে থাকাবস্থায় অনেক বিতর্কিত ঘটনার জন্ম দিয়েছেন। যা নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের জন্য বিব্রতকর। সূত্র বলছে, ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর আবদুল হাইকে সভাপতি, সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে সহ সভাপতি এবং আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদ বাদলকে সাধারণ সম্পাদক করে তিন সদস্য বিশিষ্ট জেলা আওয়ামীলীগের আংশিক কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্র। এর ১৩ মাস পর নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের ৭৪ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেয় কেন্দ্র। আর এই কমিটি গঠনের পর থেকেই জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদলের বিরুদ্ধে একের পর এক বিতর্কিত কর্মকান্ডের অভিযোগ উঠেছে। জানা যায়, জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার মধ্যে খালি থেকে যায় ৬ টি পদ। আর এই পদ পূরণ নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের একের পর এক বর্ধিত সভা হলেও শেষ পর্যন্ত ৬ টি পদ পূরণ করা সম্ভব হয়ে উঠেনি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদলের দ্বারা। তবে জেলা আওয়ামী লীগের একটি বর্ধিত সভায় খালি থাকা ৬ পদের মধ্যে সহ সভাপতি হিসেবে জিকে শামীমের নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু কিছুদিন পরই সেই শামীম ২০১৯ সালের ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর নিকেতন থেকে নগদ টাকা ও ৭ দেহরক্ষী সহ যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা পরিচয় দানকারী জি কে শামীম গ্রেফতার হন। কিন্তু জিকে শামীমের গ্রেফতারের পর যুবলীগের কেন্দ্রীয় শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজু দাবী করছেন জি কে শামীম যুবলীগের কেউ নয়, তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি। তবে তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি না হলেও ২০১৮ সালের ২৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় কমিটিতে রাখার জন্য এই জি কে শামীমের নামই প্রস্তাব করা হয়েছিল। আর এই নাম প্রস্তাব করেছিলেন সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল। জেলা আওয়ামী লীগের অন্যান্য নেতারাও নাম প্রস্তাবের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। যা নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের তীব্র সমালোচনা সৃষ্টি হয়। নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের অধীনে থানা কমিটি নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগে বিদ্রোহ দেখা দেয়। ২০১৯ সালের ১৩ জুলাই জেলা আওয়ামী লীগের ওই বর্ধিত সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আওয়ামীলীগের অন্যান্য থানা কমিটিগুলো ওই বছরের আগষ্টের পরে ঘোষণা দেয়ার কথা থাকলেও হঠাৎ করে কাউকে না জানিয়েই সোনারগাঁ থানা আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। ২০১৯ সালের ১৫ জুলাই এ কমিটির অনুমোদন দেন জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই এবং সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল। যে কমিটি মেনে নিতে পারেননি আওয়ামী লীগের একটি অংশ। যার সূত্র ধরে এই কমিটির প্রতি অনাস্থা জানিয়ে ৭৪ সদস্য বিশিষ্ট জেলা আওয়ামী লীগের কমিটির মধ্যে ৩৮ জন স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ নিয়ে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সাথে সাক্ষাৎ ও জমা দিয়েছেন। যেখানে স্বাক্ষর রয়েছে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, সহ সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী, সদস্য ও আড়াইহাজার আসনের সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী ও সোনারগাঁ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাতের মতো প্রভাবশালী নেতাদের। সবশেষ এ বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে শান্ত হয়। সেই সাথে জেলা আওয়ামী লীগের অধীনে থাকা অন্যান্য কমিটি গঠনেও জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আব্দুল হাই এবং আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল কোনো প্রভাব দেখাতে পারেনি। এর আগে স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে প্রার্থী নির্ধারণের ক্ষেত্রেও তারা স্বচ্ছতার প্রমাণ রাখতে পারেনি। তাদেরকে বিভিন্ন জনের প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে প্রার্থী নির্ধারণ করতে হচ্ছে। সেই সাথে দলীয় কর্মসূচিতেও নেতাকর্মীদের মাঝে সমন্বয় ঘটাতে পারেননি তারা। সবশেষ সরকারের বিরুদ্ধে হেফাজত ইসলামের উত্থান নিয়েও নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ তাদের অবস্থান জানান দিতে পারেনি। আর এসকল বিষয়ের কারণেই নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের আগামী দিনের কমিটিতে বর্তমান সভাপতি আব্দুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদলের সম্ভাবনা খুবই কম।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *