Home » শেষের পাতা » স্কুল ছাত্র ধ্রুব হত্যায় খুনিদের গ্রেপ্তার দাবিতে মানববন্ধন

আসলে প্রধানমন্ত্রীর গুডবুকে কে?

০২ ডিসেম্বর, ২০২১ | ৯:২০ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 118 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন হবে না নির্বাচন পিছিয়ে প্রশাসক বসানো হবে নাসিকে। এমন আলোচনা চলছিল গত সপ্তাহকাল জুড়ে। অবশেষে সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে গত মঙ্গলবার নাসিকের তফসিল ঘোষনা করেছে (ইসি)। আগামী ১৬ জানুয়ারি নাসিকের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এইদিকে নাসিকের নির্বাচন উপলক্ষে শুরু হয়ে গেছে নির্বাচনী তৎপরতা। তবে এখন কাউন্সিলর পদে কারা আসছেন তার চেয়ে বেশী আলোচনা হচ্ছে আওয়ামীলীগের নৌকা কে পাচ্ছেন। চায়ের দোকান থেকে সরকারি-বেসরকারি দপ্তরসহ সবখানে আলোচনা একটাই- কে হচ্ছেন আওয়ামীলীগের মনোনিত প্রার্থী? নৌকার মাঝি কে হচ্ছেন তা নিয়েই চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। কারণ এবারের নির্বাচন নিয়ে তেমন তোড়জোড় নেই বিএনপির। তবে আইভীর প্রতিপক্ষ এবারও বেশ সক্রিয়। ইতিমধ্যেই আইভী ছাড়া আরো ৩জন আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়ন ক্রয় করে জমাও দিয়েছেন। আগামীকাল শুক্রবার নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নৌকার মনোনিত প্রার্থী চূড়ান্ত করবে আওয়ামীলীগ এমনটাই জানা গেছে। ইতিমধ্যে বর্তমান মেয়র ও জেলা-মহানগরের শীর্ষ তিন নেতা দলীয় ফরম ক্রয় করেছেন। তারা হলেন- বর্তমান মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা.সেলিনা হায়াত আইভী, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড.আবু হাসনাত শহীদ বাদল, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড.খোকন সাহা, সহ-সভাপতি বাবু চন্দন শীল। জানা যায়, তফসিল ঘোষণার আগে ফরম বিক্রি করা শুরু করেছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। এলাকাজুড়ে আলোচনা চলছে বর্তমান মেয়র আইভী কী আবারও মনোনয়ন পাচ্ছেন, নাকি অন্য কাউকে মনোনয়ন দেয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে চায়ের দোকান, বাজার-ঘাট, সরকারি-বেসরকারি অফিস থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সবখানে একটাই আলোচনা- কে কেমন? কার জনপ্রিয়তা বেশি? কাকে মনোনয়ন দিলে ভালো হবে? কে মনোনয়ন পেতে পারেন? তবে শেষ পর্যন্ত নৌকার টিকিট আনছেন কে- তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে কেন্দ্রের ঘোষণা আসা পর্যন্ত। প্রার্থীরাও তাকিয়ে আছেন কেন্দ্রের দিকে। আওয়ামী লীগের একটি সূত্র জানিয়েছে, বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানে যারা প্রকাশ্যে আইভীকে ভোট দিতে নিষেধ করেছেন তারাই এবার দল থেকে মনোনয়ন চেয়েছেন। আইভী অনুসারিদের মতে যে যাই বলুক না কেনো, বিগত তিনটি নির্বাচনের ধারাবাহিকতা এবারও বজায় থাকবে। শুধু তাই নয় এবার মেয়র আইভীর জনপ্রিয়তা আরো বেড়েছে বলে অনেকে মতামত দেন। অনেকেই বলেন, মেয়র আইভীর কোনো বিকল্প তৈরী হয়নি। নারায়ণগঞ্জের মানুষ এবারও তাকেই চায়। তাছাড়া তিনি যেভাবে উন্নয়ন করেছেন, আর কেউ এতোটা আন্তরিকতা নিয়ে কোনো উন্নয়ন করেনি। মেয়র আইভীর সবচেয়ে বড় গুন হলো তিনি গোটা নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকা জুরে পরিকল্পিত উন্নয়ন করে চলেছেন। রাস্তাঘাটের উন্নয়নের পাশাপাশি মানুষের প্রয়োজনীয় সব ধরনের উন্নয়ন করছেন মেয়র আইভী। তারা বলছেন, এবারও আইভীর কোনো বিকল্প নেই। নারায়ণগঞ্জবাসী তাকেই চায়। যারা তাকে মাইনাস করার কথা বলছেন তাদেরকে নেতৃত্বে দেখতে চান না নারায়ণগঞ্জের মানুষ। আমরা আবারও আইভীকেই নারায়ণগঞ্জের মেয়র হিসাবে দেখতে চাই। এবারও তিনি মনোনয়ন পাবেন এবং বিপুল ভোটে জয়ী হবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি। তবে পাশাপাশি আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেতে ৩ বন্ধুই আশাবাদী। জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক একবার নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক নিযুক্ত হয়েছিলেন। অনেকের ধারণা ছিল এবারও প্রশাসকের অধিনেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর তা আর হচ্ছে না। অপরদিকে মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা কর্মী বান্ধব নেতা হিসাবে পরিচিত। তার অনুসারিদের ধারণা এবার নাসিকে আওয়ামীলীগের প্রার্থী পরিবর্তন হবে। আর সেক্ষেত্রে খোকন সাহাই  যোগ্য প্রার্থী। আওয়ামীলীগের মনোনয়ন বোর্ড আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত বলা যাচ্ছে না নাসিকের আগামী নির্বাচনে কে হচ্ছেন নৌকার মাঝি। যদিও যে ৪জন মনোনায়ন চেয়েছেন দলের কাছে তারা সকলেই দাবি করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গুডবুকে তারা রয়েছেন। তবে সাধারণ মানুষ মনে করে ৪ জনের মধ্যে সেলিনা হায়াত আইভী অনেকটাই এক্ষেত্রে এগিয়ে আছেন। উল্লেখ্য, এটি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের তৃতীয় দফার নির্বাচন। এর আগে দ্বিতীয় দফায় গত ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে নাসিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী দ্বিতীয় দফায় মেয়র নির্বাচিত হন। এর আগে ২০১১ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হন ডা. আইভী। ২০০৩ সালে প্রথম পৌর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *