Home » শেষের পাতা » ডিএনডির জলাবদ্ধতা মুক্ত করতে প্রস্তুত পাম্প হাউস

ইউপি থেকে শিক্ষা নিবে বিএনপি!

০৪ নভেম্বর, ২০২১ | ১০:২৬ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 70 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

আগামী ১১ নভেম্বর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রস্তুত হচ্ছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর প্রার্থীরা। বিশেষ করে যেসকল প্রার্থী বিএনপি সমর্থিত এবং সাংসদ ঘনিষ্ট নন তারা বেশ ভালোভাবেই এই নির্বাচন পর্যবেক্ষনে রাখছেন। কারন ইউপি নির্বাচনে ক্রমাগত প্রতিপক্ষের প্রার্থীকে চাপ, হামলা, ভাঙচুর এবং হুমকি ধামকির বিষয়গুলো প্রতিনিয়ত আলোচনায় উঠে আসছে গণমাধ্যমের পাতায়। গত কয়েকদিনে বন্দর উপজেলায় সাংসদ সেলিম ওসমান থেকে শুরু করে বর্তমান চেয়ারম্যানদের কথাবার্তা আলোচনায় উঠে এসেছে গণমাধ্যমে। এরই মাঝে রূপগঞ্জে নির্বাচনী সহিংসতার চিত্র দেখে আঁতকে উঠেছেন অনেকেই। একইভাবে সদর উপজেলার কাশিপুর, এনায়েতনগর, আলীরটেক ইউনিয়নে প্রচার প্রচারণাকালে যেসব ঘটনা সামনে আসছে তাতে প্রার্থীরা দ্বিধাদন্ধে পড়েছেন। যদিও ইউপি নির্বাচনে এই সহিংসতার দৃশ্য দেখার আশঙ্কা করছিলেন অনেকেই। কিন্তু সাংসদ ও স্থানীয় চেয়ারম্যানরা যেভাবে প্রতিপক্ষকে কোনঠাসা করে রেখেছেন তাতে নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে চিন্তিত অনেকেই। বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার অধিনেই নাসিক নির্বাচন পরিচালনা হবার সম্ভাবনা রয়েছে। আর সেই কারনেই ইউপি নির্বাচনের দিকে নজর রাখছেন বিএনপি পন্থী কাউন্সিলর ও প্রার্থীরা। যদিও নাসিক নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোন ঘোষণা দেয়নি বিএনপি। গড়পড়তা ভাবে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ না নেয়ার কথা বহুদিন ধরেই বলছেন। তবে নাসিক নির্বাচন যে অন্য যে কোন নির্বাচন থেকে আলাদা তা স্বীকার করেছেন খোদ নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতারাই। আর তাই এই নির্বাচনে বিএনপির অংশ নেয়া উচিৎ বলে মনে করেন তারা। তবে দলীয় ভাবে নির্বাচন না করলেও কাউন্সিলর পর্যায়ে যে বিএনপি সমর্থিতরা প্রতিযোগীতা করবে তা একেবারেই নিশ্চিত। এই অবস্থায় বিএনপি ও প্রভাবশালীদের আর্শীবাদপুষ্ঠ নন এমন প্রার্থীদের মনে চিন্তার উদ্রেগ ঘটেছে। তারা বলছেন, যেই নির্বাচন কর্মকর্তারা নারায়ণগঞ্জে ইউপি নির্বাচন পরিচালনা করছেন তারা আদৌও পরিবেশ সুন্দর রাখতে পারবেন কিনা তা সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে। এছাড়া মহানগর আওয়ামী লীগের একাংশের ২৭টি ওয়ার্ডে কর্মীসভা সেই বিভক্তি আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন আওয়ামী লীগেই। অথচ এই কর্মীসভার মধ্য দিয়ে প্রার্থীদের মাঝে মেলবন্ধনের একটি সুযোগ ছিলো। কিন্তু সেই কর্মীসভা কেবল মেয়র বিষেদগারে ব্যস্ত থাকায় কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ঘুরে ফিরে বর্তমান কাউন্সিলররাই ছড়ি ঘুরাচ্ছেন নির্বাচনী মাঠে। অপরদিকে বিএনপির একজন প্রভাবশালী কাউন্সিলর ও একজন প্যানেল মেয়রের স্বামী গ্রেপ্তারের পর দুশ্চিন্তার ভাঁজ দেখা দিয়েছে দলটিতে। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সাংসদ গিয়াসউদ্দিনের ছেলে সাদরিল এবং মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক হাসানের গ্রেপ্তার ভিত নড়িয়ে দিয়েছে তাদের। দলের নেতাকর্মীরা বলছেন নাসিক নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপিকে টার্গেট করেই এই গ্রেপ্তার শুরু হয়েছে। প্রথমেই কাউন্সিলর ও প্রার্থীদের গ্রেপ্তার ভীতি দেখিয়ে মাঠ পরিস্কার রাখতে চান ক্ষমতাসীনরা। এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আল ইউসুফ খাঁন টিপু বলেছিলেন, আমরা অতীতেও দেখেছি নির্বাচন ঘনিয়ে আসলেই বিএনপি নেতাকর্মীদের মামলা চাঙ্গা হয়। আসন্ন নাসিক নির্বাচনেও তার ব্যতিক্রম কিছু দেখবো বলে মনে হয়না। এই যে আমাদের হাসান ও সাদরিলকে গ্রেপ্তার করা হলো সেগুলো আমাদের ভয়ভীতি দেখানোর অংশ। তবে আমরা ভীত হবো না। উল্টো তারাই আমাদের ভয় পায় বলে গ্রেপ্তার হামলা মামলা অব্যহত রেখেছে। বিএনপির সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন কিংবা নতুন নির্বাচন কমিশনের আন্ডারে নাসিক নির্বাচন হলেও প্রার্থীরা ইউপি নির্বাচনকেই জলজ্যান্ত উদাহরণ হিসেবে দেখবেন। ইউপি নির্বাচন থেকে শিক্ষা নিয়েই নিজেদের নির্বাচনী মাঠ তৈরী করবেন প্রার্থীরা। আর সেদিক থেকে বিএনপি সমর্থিক ও প্রভাবশালী নেতাদের আর্শীবাদ পুষ্ঠ নন এমন প্রার্থীদের চিন্তার ভাঁজ বেশী থাকাটাই স্বাভাবিক।

 

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *