News

উচ্ছেদের নামে ধনী হল কারা

ডান্ডিবার্তা | 04 January, 2020 | 1:38 pm

বিশেষ প্রতিবেদন

হাবিবুর রহমান বাদল

নারায়ণগঞ্জে রেলওয়ের শত শত কোটি টাকার সম্পত্তি এক শ্রেনীর ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক নেতা নামে বেনামে দখল করে মার্কেট তৈরী করে লাখ লাখ টাকা মাসে আয় করে চলেছে। দুই মাস আগে ২নং রেল গেইট এলাকায় থান কাপড় মার্কেটে উচ্ছেদ চালিয়ে এর একাংশ ভেঙ্গে দিলেও অন্যরা বহাল তবিয়তে রয়েছে। যাদেরকে উচ্ছেদ করা হয়েছে তাদের কি হবে এসম্পর্কে রেল কর্তৃপক্ষ কিছু বলছে না। এমনকি  মার্কেটের বাকি অংশ উচ্ছেদ করা হবে কিনা রহস্যজনক কারণে রেল কর্মকর্তারা নীরব রয়েছেন। যদিও উচ্ছেদ চলাকালে রেলমন্ত্রী ঘোষনা দিয়েছিলেন রেলওয়ের এক ইঞ্চি জমিও কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। এমনকি নাসিক কর্তৃক শেখ রাসেল পার্কেও মন্ত্রী কাজ বন্ধসহ কয়েকজনকে পুলিশ দিয়ে আটক করে। রেলমন্ত্রীর এমন মনোভাবে নগরবাসী পার্ক বন্ধে নাখোশ হলেও অন্য সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে রেলওয়ের সম্পত্তি রেলের তত্বাবধানে আনবেন গত দুই মাসেও তা বাস্তবায়নে কোন লক্ষণ না দেখে নগরবাসী এনিয়ে নানা ধরণের আলাপ আলোচনা করছে। অবৈধ দখলদারদের কাজ থেকে বিপুল অংকের অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগও রয়েছে রেলওয়ের কতৃপয় অসাধু কর্তকর্তার বিরুদ্ধে। কারণ নারায়ণগঞ্জ রেলওয়ের শত শত কোটি টাকার সম্পত্তি নামে বে নামে ক্ষমতাসীন দলের কতিপয় নেতা বছরের পর বছর দখল করে দোকানপাট মার্কেট নির্মাণ করে ভাড়া দিয়ে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছে। রেলওয়ের এক শ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের যোগসাজসে সরকারি সম্পত্তি আত্মসাত করে গড়ে তুলেছে বিভিন্ন নামে মার্কেট। আর মাঝে মধ্যেই এইসব মাকের্ট উচ্ছেদের নামে ভাঙ্গাগড়ার নামে চোর পুলিশের মত খেলা চলত রেলের সম্পত্তি নিয়ে। আর এই খেলার নামে যখনই যারা ক্ষমতায় থেকেছে তারাই কোটি কোটি টাকা সাধারণ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে। নারায়ণগঞ্জের ক্ষমতাসীন দলের একাধিক প্রভাবশালী নেতা রেলওয়ের কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি লীজের নামে এনে অন্যের কাছে মার্কেট করে সালামি নিয়ে কেটে পড়েছে। নারায়ণগঞ্জে রেলওয়ের সম্পত্তি দিয়ে এই শহরকে একটি আধুনিক শহরে রূপান্তর সম্ভব। অথচ যখন যারা ক্ষমতায় এসেছে তারাই সরকারের এই দফতরে সম্পত্তি আত্মসাত করেছে। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রেলপথের দুই পাশে শত শত কোটি টাকার সম্পত্তি দখল হয়ে ছিল। বিশেষ করে চাষাঢ়া থেকে নারায়ণগঞ্জ রেল স্টেশন পর্যন্ত রেলপথের উত্তর পূর্ব দিকের জায়গা দখল করে শত শত বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। যা উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছে নগরবাসী। তাছাড়া ফলপট্টি এলাকায় এখনো প্রভাবশালী মহলের দখলে রয়েছে কোটি কোটি টাকার রেলওয়ের সম্পত্তি। গত দুই মাস আগে ২নং রেলগেইট এলাকায় থান কাপড় মার্কেট উচ্ছেদের পর এখনো সরকারি ভাবে কোন সিদ্ধান্ত দেয়া হয়নি। নগরবাসীর দাবী নারায়ণগঞ্জ শহরকে বাসযোগ্য করে গড়ে তোলার জন্য এইসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে সড়ক প্রসস্থসহ রেল লাইনে দুই পাশ দিয়ে সাধারণ মানুষের চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি ২নং রেলগেইট থেকে চাষাঢ়া পর্যন্ত রেলপথের পাশ দিয়ে রিকসার লাইন করলে শহরের যানজট অর্ধেকে নেমে আসবে। যদিও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এ ধরনের একটি উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু অবৈধ দখলদারদের কালো টাকার কাছে রেলওয়ের কতিপয় কর্মকর্তা বশ মানার কারণে সেই প্রকল্প নাসিককে বাতিল করা হয়েছিল। দুই মাস আগে উচ্ছেদের পর রেল লাইনের পাশ দিয়ে রিকসার লাইন করা হবে এমনটাই দাবি নগরবাসীর। এদিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রেল পথে ডাবল লাইন প্রকল্পের কারণে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ অভিযান জোরেসোরে চললেও দুই মাস যাবত হঠাৎ করে রেলওয়ের ভূমিতে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ বন্ধ থাকায় নগরবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি ঐ উচ্ছেদ অভিযানকে নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের কতিপয় নেতা উচ্ছেদ ঠেকানো হয়েছে এমন কথা বলে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে একাধিকবার ৫ কোটি টাকারও উপর আদায় করে তা পকেটস্থ করার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ১৬ অক্টোবর থেকে জোরেসোরে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হলে ৫ কোটি টাকাও বেশী চাঁদা তোলা হয়েছিল রেলওয়েকে দেয়ার নামে। তারপরও উচ্ছেদ না থামলেও গত দুই মাস উচ্ছেদ বন্ধ থাকায় সরকারের প্রতি বিশেষ করে রেলওয়ের কতিপয় কর্মকর্তার যোগসাজাসে উচ্ছেদ বন্ধ রয়েছে বলে জানােেছ। এদিকে একাধিক সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জে রেলওয়ের স্টাফ কোয়ার্টার ও থান কাপড়ের মার্কেটের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান ঠেকাতে কমপক্ষে ৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছিল একটি চক্র। তবে রক্ষা পায়নি তিন হাজারেরও বেশী অবৈধ স্থাপনা। বিশেষ করে যারা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন তারা উচ্ছেদ ঠেকানোতো দূরের কথা বর্তমানে তাদের অনেকেরই দেখা মিলছেনা। গত ১৬ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় রেলস্টেশন এলাকায় স্টাফ কোয়ার্টারসহ অবৈধভাবে দখল করে গড়ে উঠা ৯ শতাধিক ছোট বড় স্থাপনা গুড়িয়ে দিয়েছে রেলওয়ে কর্তপক্ষ। ঢাকা রেলওয়ের ভূসম্পত্তি বিভাগের কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে ওই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছিল। তবে তা অদৃশ্য কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়। এদিকে উচ্ছেদ অভিযানে আকস্মিক স্টাফ কোয়ার্টারের ১১০টি স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েন স্টাফ কোয়ার্টারের বাসিন্দারা। অনেকই বসতঘরের ভেতর থেকে ব্যবহৃত সামগ্রী সরিয়ে নিতে না পারায় সেগুলি ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়। বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি কমান্ডার সিরাজুল ইসলামের ভাতিজি হলেন নাসিকের সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর ও সাবেক প্যানেল মেয়র শারমিন হাবিব বিন্নি। রেললাইন থেকে ৪৫ ফুট পর্যন্ত উচ্ছেদের সীমানা হিসেবে এই মার্কেটটিও ভাঙার কথা ছিল। কিন্তু রহস্যজনক কারণে ওই মার্কেটটিও ভাঙা হয়নি। গত ১৭ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ শহরের দুই নং রেলগেইট এলাকায় রেলওয়ের জমি অবৈধ ভাবে দখল করে গড়ে উঠা একটি টিনসেড আধপাকা থান কাপড়ের মার্কেট মার্কেট, রেডিমেট জামাকাপড়ের দোকান ও বসত ঘরসহ প্রায় আড়াই হাজার ছোট বড় স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়া হয়। তবে এসময় নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের অনুরোধে ৩দিন সময় দেয়া হয় শহরের ২নং রেল গেইট এলাকার মনির রেস্তোরা ও সংলগ্ন ১০টি দোকানকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যবসায়ীরা জানান, শহরের ২নং রেলগেট এলাকা থেকে উকিলপাড়া পর্যন্ত থান কাপড় মার্কেটে কমপক্ষে ২ হাজার দোকান রয়েছে। গত ১৬ ও ১৭ অক্টোবর উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার পূর্বে উচ্ছেদ অভিযান ঠেকানোর কথা বলেন এসকল দোকানদারদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ১০ হাজার করে টাকা নিয়েছে একটি চক্র। গত ২৩ অক্টোবর দুপুরে রেলমন্ত্রী মো: নুরুল ইসলাম সুজন নারায়ণগঞ্জে পরিদর্শনে আসলেও রেলওয়ে কতটুকু জায়গা উচ্ছেদ করবে সেটা নিয়ে রয়ে গেছে ধোয়াশা। কারণ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ শুরুতে রেললাইনের দক্ষিণপাশে ৪৫ ফুট পর্যন্ত লাল দাগ দিয়ে গেলেও কোথাও কোথাও ২৫ ফুট আবার কোথাও কোথাও ৭০ ফুট পর্যন্ত ভেঙ্গে ফেলেছিল।

[social_share_button themes='theme1']

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
৩৩০
সুস্থ
৩৩
মৃত্যু
২১

বিশ্বে

আক্রান্ত
১,৬০৫,২৭৭
সুস্থ
৩৫৬,৯২৫
মৃত্যু
৯৫,৭৫১