আজ: শনিবার | ২৪শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ৭ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪২ হিজরি | বিকাল ৩:৫৬

সংবাদের পাতায় স্বাগতম

উত্তপ্ত হচ্ছে রাজনৈতিক অঙ্গন

ডান্ডিবার্তা | ০১ অক্টোবর, ২০২০ | ৭:৩৬

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
করোনা ভয় কাটিয়ে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে উঠছে পরিস্থিতি, থমকে যাওয়া জনজীবনে ফিরে এসেছে পুরোনো সেই গতি। এরই ধারাবাহিকতায় শীঘ্রই সরগরম হয়ে উঠবে রাজনৈতিক অঙ্গন এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহল। বিশ্লেষক এ মহলের মতে, নিজ নিজ দলকে শক্তিশালী করতে সাংগঠনিক কর্মকান্ড শুরু করার পাশাপাশি তৃণমূলে ব্যাপক সাংগঠনিক তৎপরতা চালানো হতে পারে খুব শীঘ্রই। আর তাই শিগগিরই রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামবে রাজনৈতিক দলগুলো। উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে রাজনীতি মাঠ। এই রাজনীতি আবর্তিত হতে পারে বিএনপির সরকার পতনের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে অথবা আওয়ামীলীগের উন্নয়নের গতি অব্যাহত রাখার অনড় সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে। জানা যায়, নিজ নিজ রাজনৈতিক কর্মসূচির পক্ষে জোরালো অবস্থান নিতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও ক্ষমতাসীন দলের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি। সেখানে সমঝোতা, নাকি সংঘাতময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে, তা নিয়ে আশা ও উৎকণ্ঠার দোলাচলে রয়েছে সাধারণ মানুষ। আর তাই করোনা পরিস্থিতির পর অথবা এ পরিস্থিতির মধ্যেই অল্প সময়ের মধ্যে রাজপথ উত্তপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকার পাশাপাশি তৃণমূলের রাজনীতি আবারো চাঙ্গা হয়ে উঠবে এমনটাই ধারণা করা হচ্ছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের পক্ষ থেকে। দলীয় সুত্র গুলো বলছে, নারায়ণগঞ্জের রাজনীতির মাঠ গরম হতে পারে। করোনা ভাইরাসের কারণে দীর্ঘ ৬ মাস যাবৎ রাজনৈতিক দলগুলো নমনীয় হয়ে রয়েছে। কিন্তু এ সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা ইতিমধ্যেই অসহায়, হতদরিদ্র ও নি¤œশ্রেণীর মানুষের পাশে দাড়াতে কাজ করেছে। তাছাড়া বিভিন্ন অনলাইন ভিডিও প্রোগ্রামগুলোতে রাজণৈতিক দলগুলোর নেতৃবৃন্দরা কেন্দ্রীয় নির্দেশ পেলে পুরোদমে মাঠে নামার ঘোষণাও দিচ্ছে বলে জানা যায়। সবমিলিয়ে বলা যায় করোনার পরেই ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী দলগুলো মাঠে নামছেন এটা অনেকটা নিশ্চিত। একদিকে বিএনপি বেগম জিয়ার স্থায়ী মুক্তি ও বর্তমান সরকারের বিরোধীতা করে মাঠে নামবে। বিপরীতে ক্ষমতাসীনদল আওয়ামীলীগসহ তাদের শরীকদলগুলো বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ পরিচালনা চলমান থাকবে বলে ঘোষনা দিয়েছেন। এই দুই ইস্যুকে কেন্দ্র করে অন্যান্য জেলার ন্যায় নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতেও উত্তাপ ছড়াতে যাচ্ছে শীঘ্রই। প্রধান দু’টি রাজনৈতিক দলগুলোর পাল্টাপাল্টি হার্ডলাইনে অবস্থানের ঘোষনা আসলে নারায়ণগঞ্জবাসীর মধ্যেও আতঙ্ক বিরাজ করতে পারে। সব মিলিয়ে বেগম জিয়ার স্থায়ী মুক্তির ইস্যুকে কেন্দ্র করে এবং উভয় দলের অভ্যন্তরীন কোন্দলেও গরম হবে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতির মাঠ।
বিএনপির কেন্দ্রীয় একটি সুত্রের দাবি, রাজনৈতিকভাবে অনেকটাই কোণঠাসা বিএনপির কেন্দ্রীয় ও তৃণমুল নেতাকর্মীরা দলীয় চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার স্থায়ী মুক্তি এবং নির্দলীয় সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সরকারের উপর সব ধরনের চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করবে বলে ধারনা করা হচ্ছে। বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা শীঘ্রই এই সকল কর্মসূচী নিয়ে রাজনীতির মাঠে নামবেন বলে নিশ্চিত করেছে দলটির কেন্দ্রীয় সুত্র। পক্ষান্তরে, অনেকটা কৌশলী মনোভাব নিয়ে এগোচ্ছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। বিএনপির মতো হুমকি-ধমকির রাজনীতিতে না গিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাসহ দলের অন্য নেতারা বক্তব্যে অনেকটাই শালীনতা বজায় রেখেছেন। উন্নয়ন কর্মকান্ড অব্যাহত রাখার জন্য জনগনের কাছে দোয়া চেয়েছেন তারা। অবশ্য ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবেলায় দুই দলই ভেতরে ভেতরে নানা কৌশল এঁটেছেন সিনিয়র নেতৃবৃন্দরা। করোনার পরই সেই কৌশল বাস্তবায়নে মাঠে তৎপর হবে দল দুটি ও তাদের শরিকরা। ফলে আসন্ন রাজনৈতিক পরিস্থিতি যে উত্তপ্ত হবে এমন আশঙ্কা রয়েছে সাধারণ মানুষের মাঝে। তবে বিশ্লে¬ষকরা বলছেন, সংঘাতময় রাজনীতি যে দলের জন্য ক্ষতিকর, তা বিএনপি ইতোমধ্যেই টের পেয়েছে। আবার একতরফা নির্বাচন যে গ্রহণযোগ্যতা পায় না, সরকারে সে উপলব্ধিও হয়েছে। ফলে নিশ্চয় এবার আর কোনো পক্ষই বৈরী রাজনীতির দিতে যাবে না। কেমন হতে পারে করোনা পরবর্তী নির্বাচনী রাজনীতি- জানতে চাইলে দলীয় সূত্রগুলো বলেছে, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি শরিক দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে রাজনীতির মাঠ দখলের কৌশল ও পরিকল্পনা নিয়েছে। লক্ষ্য একটাই পরস্পরকে ঘায়েল করে নিজেদের পক্ষে জনমত গঠন করা। প্রধান দুই দলের এই দৌড়ে পিছিয়ে নেই ছোট ছোট দলগুলোও। সব মিলেই দেশের রাজনীতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠবে- এমনটাই মনে করা হচ্ছে। তবে রাজনৈতিক মাঠ দখলের কৌশলকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গন সহিংস হয়ে ওঠার পূর্বাভাসও মিলেছে। সর্বপ্রথম বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার স্থায়ী মুক্তির দাবিতে করোনার পর মাঠ দখলের আন্দোলনের ডাক দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন দলের নেতারা। বিএনপি নেতারা বলেছেন, অচিরেই বেগম খালেদা জিয়াকে স্থায়ী মুক্তি দিয়ে গণতন্ত্রের চর্চা ও ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। কেননা ইতিমধ্যেই সরকার ও সরকারী দল গনতন্ত্রকে হত্যা করে মানুষের অধিকার নষ্ট করে দিয়েছে। অন্যদিকে, বিএনপির হুমকির তোয়াক্কা না করে গঠনমূলক রাজনীতির দিকেই ঝুঁকছে আওয়ামী লীগ। জনগনের আস্থার প্রতিদান দিতে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নতুন হিসাব কষছেন বলে রাজনৈতিক সূত্রগুলো মনে করছে। তাদের মতে, বিএনপিসহ সকল দলের কথা মাথায় রেখেই এগোচ্ছে ক্ষমতাসীন দল। যে কারণে সাংগঠনিকভাবে শাক্তিশালী দল নিয়েই মাঠের লড়াইয়ে নামতে চায় আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা জানিয়েছেন, আপাতত বিএনপির কোনো হুমকি-ধমকিকেই অতটা আমলে নিচ্ছেন না তারা। এখন প্রধান কাজ হবে রাজনৈতিক মাঠ নিজের দখলে রাখা। সে জন্য বিএনপিকে কৌশলে নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি নিজেদের নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করার জন্য নানামুখী কর্মসূচির সাজাতে পারে দলীয় হাইকমান্ড, যা সরাসরি দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সার্বক্ষণিক মনিটরিং করবেন। তবে বিএনপি কঠোর হলে আওয়ামী লীগও তা কঠোরভাবে দমন করবে বলেও জানা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *