Home » প্রথম পাতা » ফতুল্লার কাশিপুরে মোস্তফার অত্যাচারে অতিষ্ট সাধারন মানুষ

উস্কানীদাতা ফেরদাউস ধরা ছোঁয়ার বাইরে

২৩ মে, ২০২১ | ৬:২৫ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 253 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

আন্দোলন, উসকানিÑ সবকিছুরই অগ্রভাগে ছিলেন হেফাজতে নেতা মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান। যেদিন মানুল কা-ে সোনারগাঁয়ের রয়্যাল রিসোর্টে ভাঙচুর হয়, সেদিনও তিনি ঘটনাস্থালে আগের থেকেই উপস্থিত ছিলেন। এ পর্যন্ত ওই ঘটনায় হেফাজতে ইসলামের বেশ কজন নেতাকর্মী গ্রেফতার হলেও তিনি রয়ে গেলেন ধরা ছোঁয়ার বাইরে। যদিও একবার তাকে ঢাকার জুরাইন থেকে আটক করা হয়েছিল, কিন্তু কোনো এক অদৃশ্য সূতার টানে রক্ষাও পেয়ে যান এই চতুর মাওলানা ফেরদাউস। অভিযোগ আছে, কথিত এক বড় ভাইয়ের আশীর্বাদে তাকে এখনও গ্রেফতার করা হচ্ছে না। অথচ এই মাওলানা ফেরদাউসুর রহমানকে গ্রেফতার করা গেলে তার কাছ থেকে অনেক গোপন তথ্যই বের হতো বলে মনে করছেন সচেতন মহল। এদিকে সর্বশেষ গ্রেফতার হয়েছেন মুফতি মনির হোসাইন কাশেমী। এই কাশেমীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠজন হিসেবেও পরিচিত মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান। বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন কাশেমী। ওই নির্বাচনীর প্রধানতম ব্যক্তি হিসেবে মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান কাশেমীর পক্ষে মাঠে সক্রিয় ছিলেন। সূত্র মতে, সিদ্ধিরগঞ্জে হেফাজতের তা-ব এবং সোনারগাঁয়ে মামুনুল হক কা-ে এ পর্যন্ত অনেককেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারের মধ্যে সিটি করপোরেশন, পৌরসভার নির্বাচিত কাউন্সিলর, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানও রয়েছেন। রয়েছে জেলা জামায়েতের আমীর, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির নেতাও। এছাড়াও জেলা হেফাজতে ইসলামের সেক্রেটারি, মহানগরের সেক্রেটারিসহ সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ে নেতৃত্ব দেওয়া বেশ কয়েকজন। তথ্য মতে, ওই দুই ঘটনায় সোনারগাঁ এবং সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে এই পর্যন্ত অন্তত সত্তর, বাহাত্তর ব্যক্তি গ্রেফতার হয়েছেন। তবে, রহস্যজনক কারণে এখনও গ্রেফতার হয়নি জেলা হেফাজতের আমীর মাওলানা আব্দুল আউয়াল এবং মহানগরের সভাপতি মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান। যদিও সম্প্রতি ঢাকায় ফেরদাউসুরকে আটক করেছিল র‌্যাব। কিন্তু এর দুই ঘণ্টার মধ্যে তাকে ছেড়েও দেওয়া হয়! এ নিয়ে লোকমুখে নানা কথা চর্চিত আছে। বলা হচ্ছে, প্রভাবশালী কোনো এক ব্যক্তির নেকনজর রয়েছে ফেরদাউসুরের ওপর। এ কারণে তিনি এখনও সুরক্ষিত, গ্রেফতার হয়নি। হেফাজত থেকে শুরু করে রাজনীতিতে যুক্ত নন এমন ব্যক্তিরাও এনিয়ে সন্দেহ পোষণ করেছেন। তারা বলছেন, অত্যন্ত ক্ষমতাধর ওই ব্যক্তিটি একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের টকশোতে উপস্থিত হয়ে নিজেই জানিয়েছিলেন, আউয়াল এবং ফেরদাউসুরের সাথে তার অত্যন্ত ভালো সম্পর্ক রয়েছে। এবং তিনি এও দাবি করেছেন তারা দুজন খুবই ভালো মানুষ। শুধু তাই নয়, ওই টকশোতে তিনি দায়িত্ব নিয়েই জানিয়েছিলেন, ২৮ মার্চ সিদ্ধিরগঞ্জে হেফাজতে ইসলাম তা-ব চালায়নি। কওমি অধ্যুষিত মাদানী নগর মাদরাসা থেকে একজন শিক্ষক, ছাত্রও বের হয়নি! ফলে সচেতন নাগরিকেরা মনে করছেন, আউয়াল ও ফেরদাউসুরের মাথার ওপর প্রভাবশালী ওই ব্যক্তির ছায়া থাকার কারণে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে না! যদিও সূত্র বলছে, ২৮ মার্চ হেফাজতের ডাকা হরতালে আউয়াল সকাল দশটার দিকেই নেতাকর্মীদের বাড়ি ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছিলেন। কিন্তু এতে বাধ সাধে ফেরদাউসুর ও তার অনুসারিরা। তারা চেয়েছেন সন্ধ্যা পর্যন্ত সাইনবোর্ড, মৌচাক, শিমরাইল মোড়ে পিকেটিং করতে। কিন্তু তা করতে বারণ করায় আউয়ালের সাথে ফেরদাউসুরদের বচসাও হয়েছিল সেদিন। পরে ফেরদাউস আউয়ালের নির্দেশ অমান্য করেই অনুসারিদের নিয়ে রাস্তায় নামেন। ওইদিন মূলত এরপার থেকেই সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড থেকে শুরু করে শিমরাইল মোড় পর্যন্ত ব্যাপক তা-ব চালায় হেফাজতে ইসলাম। ফলে ধারণা করা হচ্ছে ওইদিনের ওই তা-বে কোনো না কোনো ভাবে ফেরদাউসুর রহমানের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তবে, ফেরদাউসুরের ওপর ওই ওই ব্যক্তিটির নেকনজর থাকায় তিনি এখনও ওই তা-বের ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় দায়ের করা একটি মামলাতেও আসামী হননি বলে মনে করছেন সচেতন মহল। এমনকী ওই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত পুলিশ তাকে গ্রেফতার করছে না বলেও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ। পুরো বিষয়টিকেই সচেতন মহলের তরফ থেকে রহস্যজনক বলা হচ্ছে। অন্যদিকে রয়্যাল রিসোর্টে মামুনুল হককে নারীসহ অবরুদ্ধ করার সংবাদ পেয়ে সাথে সাথেই কয়েকজন নেতাকর্মীকে নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান ফেরদাউস। ওইদিন অবরুদ্ধ মামুনুলকে মুক্ত করতে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা ব্যাপক তা-ব চালায়। অনেকে ধারণা করছেন, ফেরদাউসুর যাওয়ার পরই ওই তা-ব শুরু হয়। এর সাথে পরোক্ষভাবে তার সম্পৃক্ত থাকাটাও স্বাভাবিক। অথচ এই ঘটনায় অনেকে আটক হলেও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে আছেন তিনি! বিষয়টিকে রহস্যজনক আখ্যা করে, এনিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন অনেকে। সচেতন মহল বলছেন, ২৮ মার্চ হেফাজতের তা-বের ঘটনায় আউয়াল, ফেরদাউসকে আইনের আওতায় না এনে প্রশাসন কেন নিজেদের দায়িত্ব, কর্তব্যকে প্রশ্নের মুখোমুখি করছে! তারা বলছেন, নারায়ণগঞ্জ হেফাজতের এই দুটি মাথাকে গ্রেফতার করে, জেলা পুলিশ কোনো প্রভাবেই প্রভাবিত নয়, তারা প্রভাবমুক্ত, সে বার্তাটি সর্বত্র কেন ছড়িয়ে দিচ্ছে না? সূত্র বলছে, আলীর টেকে ওলামা পরিষদের সম্মেলনে প্রভাবশালী ওই ব্যক্তিটি উপস্থিত হয়ে ফেরদাউসকে ‘আদরের ছোট ভাই’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। ফলে বড় ভাইয়ের আশীর্বাদেই তার সকল মুশকিল আসান হচ্ছে।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *