আজ: শুক্রবার | ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ৮ই সফর, ১৪৪২ হিজরি | সকাল ৯:১৯

সংবাদের পাতায় স্বাগতম

এই মৃত্যুর জন্য দায়ি কারা?

ডান্ডিবার্তা | ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০ | ১২:০৬

হাবিবুর রহমান বাদল
মন্তব্য প্রতিবেদন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনার পর সাংসদ শামীম ওসমান প্রধানমন্ত্রীর দফতরসহ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে দৌড় ঝাপ করে নারায়ণগঞ্জ ৩শ’ শয্যার করোনা হাসপাতালে আইসিইউ’র বেড আনলেও কাঙ্খিত চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেনা নারায়ণগঞ্জবাসী। নারায়ণগঞ্জের এই হাসপাতালটির দুর্নীতির আখড়ায় পরিনত হয়েছে। করোনার এই দুযোর্গময় সময়ে কীট নিয়ে হয়েছে প্রতারণা। রোগীরা এ হাসপাতালে কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছেন না প্রথম থেকেই অথচ এই হাসপাতালের ডাক্তারসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা থাকা খাওয়াসহ সকল ধরণের সুযোগ সুবিধা পাওয়ার পরও রোগীরা অবহেলিত হয়ে আসছে। একটি চক্র নারায়ণগঞ্জ হাসপাতাল চালুর পর থেকেই লুটেপুটে খেয়ে যাচ্ছে। অবস্থা এমন এক পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে যে, সাংসদ শামীম ওসমানকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দ্বারস্থ পর্যন্ত হতে হয়। শুধু তাই নয়, এই হাসপাতালের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি সাংসদ সেলিম ওসমান দুর্নীতি বন্ধে তদন্ত কমিটি গঠনসহ দুদকের দ্বারস্থ হওয়ার মত কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারন করার পর অবস্থার কোন পরিবর্তন না হওয়ায় গত সোমবার ব্যবসায়ীদের এক সমাবেশে হাসপাতালের সভাপতির পদ ছেড়ে দেয়ার ঘোষণা দেন। নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালের দুর্নীতি ও চিকিৎসা অব্যবস্থাপনার সাথে জড়িতদের চিহিৃত করাতো দুরের কথা গতকাল বৃহস্পতিবার বিনা চিকিৎসায় মাসদাইরের কানিজ ফাতেমা (৪০) ও সামসুন্নাহার(৭০) মারা যান। এ ঘটনায় কাউন্সিলর মাকসুদ আলম খন্দকার খোরশেদ ও কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের অবহেলায় এদের মৃত্যু ঘটেছে। কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকু জানান, কানিজ ফাতেমাকে হাসপতালে আনার পর তার অবস্থার অবনতি ঘটলে আমি একাধিক বার এই রোগীকে আইসিউতে নেয়ার অনুরোধ জানাই। তখন আইসিইউ বিভাগে মাত্র ১জন রোগী থাকা সত্বেও তাকে আইসিইউতে দেয়নি। বলা চলে অনেকটা বিনা চিকিৎসায় কানিজ ফাতেমার মৃত্যু ঘটেছে। অথচ দেশব্যাপী এই অদৃশ্য শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধে প্রথম সারির যোদ্ধারা যখন অনেকটা সংগ্রামের মধ্যদিয়ে সুযোগ সুবিধা ছাড়াই দায়িত্ব পালন করে চলেছেন তখন নারায়ণগঞ্জে করোনা চিকিৎসায় জড়িত ডাক্তারদের আরাম আয়েশে থাকার জন্য নারায়ণগঞ্জ ক্লাব কর্তৃপক্ষ ক্লাবের গেষ্ট হাউজে সকল কক্ষ ছেড়ে দিয়েছেন। সরকারি অর্থ বরাদ্ধের পরও তারা বহাল তবিয়তে ক্লাবের গেষ্ট হাউজে অবস্থান করছেন। সাংসদ সেলিম ওসমান নার্স ও স্বাস্থ্য সেবকদের জন্য থাকা খাওয়া এমনকি বিনোদনেরও ব্যবস্থা করেছেন। দুই সাংসদ এত কিছু করেছেন, শুধু মাত্র নারায়ণগঞ্জবাসী যেন এই দুযোর্গ মূহুর্তে স্বাস্থ্যসেবা পান। অথচ এই দুযোর্গকালীন সময়েও একটি চক্র হাসপাতালটিকে লুটপাটের আখড়ায় পরিনত করে চলেছে। হাসপাতালটিকে আধুনিকি করণ করতে সাংসদ সেলিম ওসমান ব্যক্তিগত তহবীলসহ ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা নেয়ার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই হাসপাতালটিকে আধুনিকি করণের আশ^াস দেন। অথচ নারায়ণগঞ্জবাসীর পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীরা ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য এত কিছু করার পরও নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যেতে চান না রোগীরা। অভিযোগ রয়েছে ডাক্তারদের দুর্ব্যহার যার সর্বশেষ প্রমাণ ২জন প্রতিনিধি প্রত্যক্ষ করলেন কানিজ ফাতেমা ও সামসুন্নাহারের মৃত্যু। এই মৃত্যুর মধ্যদিয়ে এই হাসপাতালের ডাক্তারদের চরম অবহেলা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। নগরবাসীর প্রশ্ন তাহলে তাদের পিছনে এত ব্যয় করে নারায়ণগঞ্জবাসীর লাভটা কি হবে? এই ধরণের লুটপাটের ফলে নারায়ণগঞ্জবাসী শুধু চিকিৎসা বঞ্চিত হয়নি বরং বর্তমান সরকার ও সরকার প্রধান শেখ হাসিনার ইমেজকে ক্ষুন্ন করার ষড়যন্ত্রের সাথে এরা জড়িত বলে নারায়ণগঞ্জবাসী মনে করছে। তবে নারায়ণগঞ্জবাসীর প্রত্যাশা নারায়ণগঞ্জ ৩শ’ শয্যা হাসপাতালে ১০টি আইসিইউ স্থাপনসহ হাসপতালের চিকিৎসার মান আরো বাড়বে পাশাপাশি ফতুল্লা, সোনারগাঁ, আড়াইহাজার ও বন্দরবাসীসহ সমগ্র নারায়ণগঞ্জ জেলাই শুধু নয় আশেপাশের জেলাবাসীও সুচিকিৎসা পাবে। পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ ৩শ’ শয্যা হাসপাতালটি জাপানী অনুদানে একটি বিশেষায়িত্ব হাসপাতাল নিমার্ণ করার পর অদ্যাবধি যারা বিভিন্ন কায়দায় লুটপাট করে হাসপাতালটিকে রোগীতে পরিনত করেছে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবে এমনটাই প্রত্যাশা করছে সমাজের বিবেকবান মানুষ। পাশাপাশি দেশের সর্বোচ্চ সুযোগ সুবিধা পাওয়া এই হাসপাতালের ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মী থেকে শুরু করে সকল অনিয়ম চিহিৃত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে এমনটাই প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রত্যাশা নারায়ণগঞ্জবাসীর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *