আজ: সোমবার | ৩রা আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১৩ই জিলহজ, ১৪৪১ হিজরি | রাত ১১:১৯

সংবাদের পাতায় স্বাগতম

এখনও আলোচনায় এসপি হারুন

ডান্ডিবার্তা | ১৪ নভেম্বর, ২০১৯ | ১:২১

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

এসপি হারুন নেই। তাকে বদলী করা হয়েছে নারায়ণগঞ্জ থেকে। বর্তমানে তিনি পুলিশ সদর দপ্তরের পুলিশ সুপার (টিআর) হিসেবে নিযুক্ত। তবে, তাকে নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার রেশ নারায়ণগঞ্জে এখনও রয়ে গেছে। প্রতিদিনই একাধিক গণমাধ্যমে একাধিক শিরোনাম হচ্ছেন আলোচিত এই এসপি। গত বছরের ডিসেম্বরের শুরু দিকে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদান করেন আলোচিত হারুন অর রশীদ। এরপর থেকেই জেলাব্যাপী ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেন তিনি। যদিও সেসময় তার প্রশংসার বাণী শোনা যেত সর্বত্র। সবাই এসপি বন্দনায় ছিলো পঞ্চমুখ। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, ভূমিদস্যু, মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে এসপি হারুনের অ্যাকশনে সাধারণ মানুষও খুশি ছিলেন। শুধু যে সাধারণ মানুষ খুশি ছিলেন তাও নয়, রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে বহু সংখ্যক ব্যবসায়ীও তার প্রশংসা করে বিভিন্ন স্থানে বক্তব্য দিয়েছিলেন। এরমধ্যে চলতি বছরের ২ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে সাংসদ শামীম ওসমানতো নিজেই এসপি হারুন অর রশীদের প্রশংসা করে বলেছিলেন, ‘হি ইজ এ ওয়ান অব দ্য বেষ্ট পুলিশ সুপার’। এছাড়াও নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাইও চলতি বছরের ৩ জুলাই এসপি হারুনের প্রশংসা করে বক্তব্য রেখেছিলেন নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে। তিনি বলেছিলেন, ‘এসপি সাহেবের পদক্ষেপ প্রশংসার দাবিদার। দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে পুলিশকে কাজ করতে হয়। পুলিশের কোনো দল নেই। বর্তমান এসপি সেটা করে দেখাতে পারছেন।’ এছাড়াও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনও বিভিন্ন সময় বক্তব্য রাখতে গিয়ে এসপির প্রশংসা করেছিলেন। ক্ষমতাসীন দলের অন্যান্য নেতারাও ছিলেন একই পর্যায়ে। সাংসদ সেলিম ওসমানও প্রশংসা করতেন এসপির। সর্বশেষ গতকাল বুধবার আয়কর মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংসদ সেলিম ওসমান বলেছেন,  ‘ব্যক্তিগত ভাবে আমি তাকে (এসপি হারুন) ভীষণ পছন্দ করতাম। তিনিও আমাকে পছন্দ করতেন। আমরা একে অপরের প্রশংসা করতাম।’ এদিকে ফুটপাত দখলমুক্ত, অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদ চালিয়ে শহরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য সাধারণ মানুষের মুখে মুখে ছিলেন এসপি হারুন। এসব কর্মকান্ডে প্রশংসা করে চাষাড়া রাইফেল ক্ল্যাবের শ্যুটার সম্পাদক ইমরুল কায়েস এসপিকে ‘বাংলার সিংহামৎ উপাধি দিয়ে ব্যানারও সাঁটিয়েছিলেন। অন্যান্য ব্যবসায়ীরাও একই পন্থা অবলম্ব করেছিলেন। তবে, নানা ধরনের বিতর্কীত কর্মকা-ের অভিযোগ উঠে হারুন আর রশীদের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের মধ্যে পারটেক্স গ্রুপের র্কণধার এম হাশেমের ছেলে আম্বার গ্রুপের চেয়ারম্যান শওকত আজিজ রাসেলের স্ত্রী পুত্রকে গুলশান থেকে তুলে আনার ভিডিও ফুটেজ বেশ সমালোচনার জন্ম দেন। এরপরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে নারায়ণগঞ্জ থেকে বদলী করা হয় এসটি হারুনকে। হারুনের বদলীর পরপরই ফুটপাত দখল করে দোকান বসানো, রাস্তা দখল করে অবৈধ স্ট্যান্ড করা এখন নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার এখন। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ অনুভব করতে শুরু করেন এসপি হারুনকে। এরমধ্যে গত সোমবার মেয়র আইভী বলেই ফেলেছেন, এসপি হারুন যাওয়ার পরপরই ফুটপাত দখল হতে শুরু করেছে। তবে, আইভীর ওই বক্তব্যের পরদিনই তথা গত মঙ্গলবার পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে হকার উচ্ছেদে অভিযান চালানো হয়। শুধু তাই নয়, যানজট নিরসনের লক্ষ্যে অটো রিকশাও জব্দ করে পুলিশ। এদিকে এসপি হারুন অর রশীদকে ৩ নভেম্বর জেলা থেকে বদলী করা হয়। তিনি ৭ নভেম্বর বিদায় সংবর্ধ্বনার মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ ছাড়েন। কিন্তু এসপির বদলী এবং বিদায়ের পরপরই জেলাজুড়ে শুরু হয় নানা সমালোচনা। সামনে আসতে শুরু করে এক এক করে নানা বিতর্কিত কর্মকা-। এ নিয়ে প্রতিদিনই গণমাধ্যম তাকে নিয়ে নানা ধরণের তথ্য সম্বলিত প্রতিবেদন প্রকাশ করছে। মোদ্দা কথায়, জেলাতে থাকাকালিন সময়ে যতটা আলোচনায় ছিলেন এসপি হারুন বদলীর পর ততটাই সমালোচিত হচ্ছেন তিনি এই নারায়ণগঞ্জে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *