Home » শেষের পাতা » স্কুল ছাত্র ধ্রুব হত্যায় খুনিদের গ্রেপ্তার দাবিতে মানববন্ধন

এখনো মিলেনি না ট্রলার নিখোঁজদের সন্ধান

০৭ জানুয়ারি, ২০২২ | ১১:৫৩ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 48 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জে ধলেশ্বরী নদীতে ট্রলার ডুবির ঘটনার দুই দিনেও নিখোঁজ ১০ জনের কাউকেই উদ্ধার করা যায়নি। সন্ধান মেলেনি ডুবে যাওয়া ট্রলারটিরও। এতে ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন নিখোঁজদের স্বজনরা। তবে উদ্ধারকর্মীরা বলছেন, তাদের চেষ্টার কোনো কমতি নেই। নদীর গভীরতা ও স্রোতের কারণে উদ্ধারকাজ অনেকাংশে ব্যাহত হচ্ছে। গত বুধবার সকাল পৌনে নয়টার দিকে সদর উপজেলার ফতুল্লার ধর্মগঞ্জ ঘাট এলাকায় লঞ্চডুবির ঘটনা ঘটে। খবর পাওয়ার পর ওইদিন সকাল ৯টা থেকে উদ্ধারকাজ শুরু করে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স, বিআইডব্লিউটিএ, নৌ পুলিশ ও নৌবাহিনীর কোস্টগার্ড। টানা দুইদিনের চেষ্টাতেও ট্রলার কিংবা নিখোঁজ কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। নিখোঁজদের সন্ধানে নদীর দুই পাড়ে ভিড় করেন স্বজনরা। বারবার আহাজারি করে প্রিয় মানুষটিকে ফিরে পেতে চাচ্ছেন। ভোর থেকে নদীর তীরে অসংখ্য মানুষ আসতে থাকে। তাদের মধ্যে কারো সন্তান, কারো ভাই এবং নিজের সহকর্মীর সন্ধানে অপেক্ষার প্রহর গুনছেন। কলেজছাত্র সাব্বির হাসানকে (১৮) না পেয়ে পাগল প্রায় মা রাজিয়া সুলতানা। কাঁদতে কাঁদতে ভেঙেছেন গলা। গলা দিয়ে যেন শব্দও বের হতে চায় না। ভাঙা গলায় সন্ধান চেয়ে বেড়াচ্ছেন উদ্ধারকাজে নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবী, পথচারীদের কাছে। উদ্ধারকর্মীরা সান্তনা দিতে চাইলে রাজিয়া সুলতানা বলেন, ‘তোমরা মিথ্যাবাদী, মিথ্যা বলো। আমার ছেলেকে এখনো খুঁজে দিচ্ছো না। ওরা আমার ছেলেরে খোঁজে না।’ রাজিয়া সুলতানার সঙ্গে অন্যান্য নিখোঁজদের স্বজনরাও অভিযোগ করেন, উদ্ধার কর্মীরা তাদের কাজ ঠিক মত করছে না। ঠিকমত কাজ করলে অনেক আগেই নিখোঁজদের সন্ধান পাওয়া যেত। এত বিলম্ব হবে কেন? এদিকে উদ্ধারকর্মীদের মতে একাধিক কারণে উদ্ধার কাজে বিলম্ব হচ্ছে। দুই নদীর মোহনা, নদীর গভীরতা, স্রোত এবং দুর্ঘটনায় স্থান চিহ্নিত না হওয়ায় উদ্ধার কাজে বিলম্ব হচ্ছে বলছেন সংশ্লিষ্টরা। ট্রলার ডুবির ঘটনায় বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনে অভিযান চালায় ফায়ার সার্ভিস। তাদের সাথে উদ্ধার অভিযানে যুক্ত হয়েছেন নৌ বাহিনী, কোস্টগার্ড ও বিআইডব্লিউটিএ’র ডুবুরি দল। তবে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত জীবিত বা মৃত কাউকে উদ্ধার করা যায়নি। শনাক্ত করা যায়নি ডুবে যাওয়া ট্রলারটি। উদ্ধারকাজে নিয়োজিতদের সাথে কথা বলে জানা যায়, নদীর কোন স্থানে ট্রলারটি ডুবেছে তা চিহ্নিত করতে পারেনি উদ্ধার কর্মীরা। ফলে প্রাথমিক তথ্য ও আনুমানিকভাবে স্থান নির্বাচন করে উদ্ধারকাজ পরিচালিত হচ্ছে। উদ্ধারকর্মীরা বলেন, দুর্ঘটনায় যারা বেঁচে ফিরেছেন তাদের মতে ঘন কুয়াশার কারণে তারা নদীর কোন অংশে ছিলেন তা বুঝতে পারেনি। একই কারণে নদীর পাড়ে থাকা কেউ ঘটনাস্থল চিহ্নিত করতে পারছে না। ঘটনাস্থল চিহ্নিত না হওয়ায় অনুমানের উপর কাজ করছে উদ্ধার কর্মীরা। গত বুধবার সকালে যখন ঘটনাটি ঘটে তখন নদীতে স্রোত ছিল। সে সময় স্রোতের কারণে নিখোঁজরা অন্য কোথাও ভেসে গেছে কিনা তা বলা যাচ্ছে না। জানা যায়, যেখানে ঘটনাটি ঘটেছে সেটা নদীর মোহনা। দুই দিকে ধলেশ্বরী ও একদিকে বুড়িগঙ্গা নদী। এমনস্থানে ট্রলার ডুবি হওয়ার কারণে ট্রলার ও নিখোঁজরা স্রোতে ভেসে কোন নদীর কোনদিকে চলে গেছে তা নির্ধারণ করতে পারছেন না উদ্ধার কর্মীরা। ধলেশ্বরী নদীর এই অংশটি অনেক বড় ও গভীর। অন্যদিকে ঘটনাস্থল চিহ্নিত না হওয়ায় আনুমানিকভাবে উদ্ধার কাজ পরিচালনা করছে উদ্ধার কর্মীরা। আনুমানিক ধারণা নিয়ে উদ্ধার কাজ পরিচালিত হওয়ায় কাঙ্খিত ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবী তাদের। নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, বুধবার সারাদিন তারা নদীতে ছিলেন। তিনটি ইউনিট কাজ করেছে। তাদের চেষ্টায় কোনো কমতি নেই। তবু কিছু কারণে উদ্ধার কাজে বিলম্ব হচ্ছে। উদ্ধার কাজে গতি আনতে সোনার মেশিনও ব্যবহার করছেন তারা। আজ শুক্রবার আবারও উদ্ধারে কাজ শুরু করবেন তারা। এদিকে ট্রলারটিকে ধাক্কা দিয়ে ডুবিয়ে দেয়া এমভি ফারহান-৬ নামের যাত্রীবাহী লঞ্চটি জব্দ করে লঞ্চের চালক মাষ্টারসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে নৌ পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করেছে বিআইডব্লিউটিএ। বুধবার রাতে বিআইডব্লিউটিএ’র নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দর কর্তৃপক্ষের নৌ নিরাপত্তা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক বাবু লাল বৈদ্য বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় তিনজনকে আসামি করে মামলাটি করেন। আসামিরা হলেন: এমভি ফারহান-৬ যাত্রীবাহী লঞ্চের মাস্টার কামরুল হাসান, ড্রাইভার জসিমউদ্দিন ভূঁইয়া ও সুকানি জসিম মোল্লা। বুধবার চারজনকে গ্রেফতার করে নৌ পুলিশ। তাদের মধ্যে উল্লেখিত তিনজনকে আসামি করা হয়। একজনকে ছেড়ে দেয়া হয়।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *