Home » প্রথম পাতা » ফতুল্লার কাশিপুরে মোস্তফার অত্যাচারে অতিষ্ট সাধারন মানুষ

এজেন্ডা বাস্তবায়নের মিশন!

২১ সেপ্টেম্বর, ২০২২ | ৯:৫৯ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 51 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্র্ট আর মাত্র দেড়বছর বাকি দ্বাদশ জাতীয় সাংসদ নির্বাচনের। দ্বাদশ জাতীয় সাংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা থাকলেও নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে দেখা যাচ্ছে সম্পূনই উল্টো চিত্র। দলকে আন্দোলনে চাঙ্গা রাখার জন্য মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষনা করেছে কেন্দ্রীয় বিএনপি। এড.সাখাওয়াত হোসেন খাঁনকে আহ্বায়ক এবং আবু আল ইফসুফ খাঁন টিপুকে সদস্য সচিব করে ৪১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষনা করা হয়েছে। আহ্বায়ক কমিটি ঘোষনার পর থেকেই তৃণমূল বিএনপির পক্ষ থেকে নানা অভিযোগ উঠে আসছে বিতর্কিত এ কমিটিকে ঘিরে। রাজপথে যে সকল নেতৃবৃন্দ আন্দোলন সংগ্রাম করার মাধ্যমে পুলিশি নির্যাতন থেকে শুরু করে হামলা মামলার স্বীকার হয়েছে সে সকল নেতৃবৃন্দকে বাদ দেওয়ার মাধ্যমে আহ্বায়ক কমিটি ঘোষনা করা হয়েছে বলে তৃনমূল বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ তুলা হচ্ছে। এমনকি ঢাকার পাশ^বর্তী জেলা নারায়ণগঞ্জ থেকে বিএনপির অস্তিত্ব মুছে ফেলার জন্য সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মনগড়া এ কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও দলের একটি পক্ষ অভিযোগ তুলে আসছেন। নারায়ণগঞ্জ বিএনপির একাংশ আরো অভিযোগ করে বলেন, ঘনিয়ে আসছে দ্বাদশ সাংসদ নির্বাচন। ঢাকার পর পরই আন্দোলন সংগ্রামের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি। নেতৃবৃন্দ মনে করেন, নারায়ণগঞ্জ থেকে আন্দোলনের ঘন্টা বাজলেই সারা বাংলাদেশে আন্দোলনের ঘন্টা বেজে উঠে। অতীতের আন্দোলন সংগ্রামগুলোর দিকে ফিরে তাকালেই তা অনুমেয় করা যাবে। আর দলের দুঃসময়ে যে সকল নেতৃবৃন্দ আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে দলীয় শক্তির জাগান দিত তাদেরকেই অবমূল্যায়ন করা হয়েছে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষনার মাধ্যমে। অদক্ষ আর সুবিধাবাদীদের মূল্যায়নের মাধ্যমে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষনায় ধারনা করা যায়, নারায়ণগঞ্জে বিএনপির রাজনীতিতে কিছু চাটুকারদের কুটচালে কেন্দ্রীয় বিএনপি মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দিয়েছেন। এ কমিটির মাধ্যমে সরকারদলীয় নেতৃবৃন্দ তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে সফল হয়েছে। কারন, অদক্ষ নেতৃত্ব দিয়ে কখনো আন্দোলন সংগ্রাম সম্ভব নয়। আর এ জন্যই অযোগ্য নেতৃবৃন্দকে মহানগর বিএনপিতে স্থান দেওয়ার মাধ্যমে স্থানীয় আওয়ামীলীগ তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সফল হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতৃবৃন্দ মনে করেন, আন্দোলনের সূতিকাগার এই নারায়ণগঞ্জের রাজপথ বিএনপির দখলে রাখতে হলে অনতিবিলম্বে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি বাতিলসহ যোগ্য নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে জেলা ও মহানগর বিএনপি গঠন করার জোড় দাবি উঠেছে। জানা যায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির ৪১ সদস্যের আহবায়ক কমিটি ঘোষনা করা হয়। এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেনকে আহবায়ক এবং এডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে সদস্য সচিব করে কমিটির অনুমোদন দেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। সেই কমিটি থেকে ১৫ জন নেতা পদত্যাগ করেছেন। আর আহ্বায়ক কমিটি থেকে পদত্যাগের ক্ষেত্রে কলকাঠি নাড়ছেন বহিস্কৃত বিএনপি নেতা এডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার। তিনি সরকারের এজেন্ডা হয়ে বিএনপিতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পায়তারা করছেন বলে অভিযোগ তৃণমূলের। তৃণমূল জানায়, একসময় তৈমূর পরিবারের সাথে সাবেক এমপি এডভোকেট আবুল কালামের পরিবারের সাথে দ্বন্ধ ছিল। গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তৈমূর তার ছোটো ভাই মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদের জন্যে কালামের নির্বাচনী এলাকা সদর-বন্দর আসনে দলীয় মনোনয়নের জন্যে চেষ্টা করেন। এমনকি খোরশেদ মনোনয়নের প্রাথমিক চিঠিও পেয়েছিলেন যদিও পরবর্তীতে তাদের কাউকেই দলীয় প্রতীক দেয়া হয়নি। সেই থেকেই তৈমূূর পরিবারের সাথে কালাাম পরিবারের ্একটা বৈরী সম্পর্ক বিদ্যমান ছিলো। কিন্তু হঠাৎ করেই কালাম পরিবারের প্রতি তৈমূরের দরদ উথলে উঠার বিষয়টি রহস্যজনক মনে হচ্ছে তৃণমূলের কাছে। তৃণমূল মনে করে লেজকাটা শিয়ালের মতো তৈমূূর বাকিদেরও লেজ কাটার চক্রান্ত করছেন। সূত্র মতে, গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং পরবর্তী স্থানীয় সরকার র্নির্বাচনগুলির অভিজ্ঞতা সুখকর ছিলো না বিএনপির জন্যে। আর তাই দলীয় হাইকমান্ড সিদ্ধান্ত নিয়েছে এই সরকারের অধীনে আর কোনো নির্বাচনে অংশ নেবেনা। বিএনপির এই সিদ্ধান্তে বেশ বেকায়দায় পরে গেছে সরকারী দল আওয়ামীলীগ। বিএনপির অংশগ্রহন ছাড়া নির্বাচনকে গ্রহনযোগ্য করতে ব্যর্থ হওয়ার ভয়ে তারা বিএনপিকে রাজি করাতে নানাভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে আওয়ামীলীগের সিনিয়র অনেক নেতাই এ বিষয়েয় বক্তব্য বিবৃতি দিয়ে যাচ্ছেন। বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে দেশী-বিদেশী লবিষ্ট নিয়োগ করছেন বলেও তারা জানিয়েছেন। এমনকি বিএনপির পুরো দলকে আনতে না পারলে এর একটি অংশকে নির্বাচনে আনার চেষ্টাও চলছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতারা। আর সে ক্ষেত্রে বিএনপিকে ভেঙ্গে কিছু নেতাকে নির্বাচনে অংশ নিতে বদরুদ্দোজা চৌধুরীর মতো নেতাদের মাঠে নামানোর খবরও পাওয়া যাচ্ছে। এদের সাথে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বহিস্কৃত নেতা এডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার আছেন বলেও জানা গেছে। আওয়ামীলীগের ইন্ধনে এরা কৌশলে বিএনপিকে ভাঙ্গার মিশনে কাজ করছেন যাতে করে আগামী সংসদ নির্বাচনে বিএনপির একটা অংশকে নির্বাচনের বিষয়ে রাজি করানো যায়। সূত্র জানায়, এক সময় নারায়ণগঞ্জ বিএনপির হেভিওয়েট নেতা ছিলেন এডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার, ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য। কিন্তু লোভে পরে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশর নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ায় তাকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়। এতে করে রাজনৈতিক পরচয় শূণ্য হয়ে পরেন তৈমূর। বিএনপিতে ফিরতে নানা চেষ্টা তদবির চালিয়েও ব্যর্থ হন। তাই প্রতিশোধ নিতে আওয়ামীলীগের এজেন্ট হিসেবে বিএনপিকে ভাঙ্গার মিশনে নেমে পরেছেন- এমনটাই জানা গেছে।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *