Home » প্রথম পাতা » ফারদিন হত্যা মামলায় তথ্যগত ভুল: ডিবি

এবার ধরতে হবে গডফাদারদের

৩১ জুলাই, ২০২১ | ১০:৫৪ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 51 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জে মাদকের স্থায়ী হাট হিসেবে পরিচিত চানমারি বস্তি উচ্ছেদ করেছে জেলা পুলিশ। দীর্ঘদিন ধরে এই মাদকের হাট উচ্ছেদ করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। কিন্তু দীর্ঘদিন পর হলেও এবার সেই বস্তি পুরোপুরি ভাবে উচ্ছেদ করে তাক্ লাগিয়ে দিয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম। কিন্তু মাদকের প্রধান হাট উচ্ছেদ হলেও শহর ও শহরতলী এলাকার অলিতে গলিতে গড়ে উঠা মাদক স্পটগুলোতে এখনো অভিযান শুরু হয়নি। তবে নারায়ণগঞ্জে মাদকের কোন স্পট থাকবে না বলে স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম। তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জে কোনো মাদকের স্পট কিংবা মাদক বিক্রেতার কোন স্থান হবে না। যদি কেউ মাদক নিয়ে কোনো ধরনের চিন্তা করে থাকেন তাহলে এখনি সচেতন হওয়ার কথা বলে জানিয়েছেন এসপি। পুলিশ সুপার আরো বলেন, এই চাঁদমারী বস্তি ছিল মাদকের স্পট। এখানে মাদক বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলতো। মাদক কারবারিদের গ্রেফতার, সাজা দেয়া, বন্দুকযুদ্ধের মতো ঘটনাও এখানে ঘটেছে। মাদক বিক্রেতারা এই এলাকাটিকে বেছে নিয়েছিল মাদকের হাট হিসেবে। আমরা এটিকে উচ্ছেদ করেছি এবং সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তর কে বলেছি তাদের জমিতে যেন দ্রুত সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করেন। যেন কেউ আর এখানে অবৈধ স্থাপনা করতে না পারে। জানাগাছে, নারায়ণগঞ্জে মাদকের গডফাদাররা গ্রেফতার না হওয়ায় মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রন অসম্ভব হচ্ছে না। দিন যতই যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ মাদক বিক্রির হার তত বাড়ছে। দেশের সিমান্তবর্তী এলাকা থেকে সরাসরি নারায়ণগঞ্জে মাদকের চালান প্রবেশ করছে। আর সেই চালান থেকে নারায়ণগঞ্জের চাহিদা পূরণ করে অন্য জেলায় চলে যাচ্ছে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানাগেছে। সম্প্রতি কালে র‌্যাবের অভিযানে ইয়াবার বড় বড় চালানসহ ব্যবসায়ী গ্রেফতারের মধ্যদিয়ে তার অনেকটা প্রমাণ মিলেছে। যদিও গ্রেফতার কৃত অধিকাংশরা মূল ব্যবসায়ী ছিলেন না। তাই বরাবরই মাদকের মূল ব্যবসায়ীরা গ্রেফতার করা যাচ্ছে না। সাধারণ মানুষের মতে নারায়ণগঞ্জ হচ্ছে রাজধানীতে মাদকের প্রবেশদ্বার। যার সুবাদে সারা নারায়ণগঞ্জের অলি গলিতে ব্যাপকহারে মাদক ব্যবসা ছড়িয়ে পড়েছে। পুরো জেলায় খুচরা বিক্রেতার সংখ্যা নির্দিষ্ট করে বলা না গেলেও এদের ‘গডফাদার’ বা শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীর সংখ্যা কম করে হলেও সারা জেলাতে ৫ শতাধিক রয়েছে। যে কারনে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, এখানকার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এ পর্যন্ত ক’জন গডফাদার বা শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করতে পেরেছেন? এদিকে নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন শেনী পেশার মানুষ মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছেন। যারা সাধারণ আইনশৃংখলা বাহিনীর সন্দেহের বাইরে থাকেন তারাই এই পেশায় জড়িয়ে পড়েছেন! বিভিন্ন পেশার মানুষ এভাবে ইয়াবা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, অপরাধ বিশেষজ্ঞ  ও সমাজকর্মীরা। এদিকে জেলায় মহামারি আকারে ধারন করেছে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকসামগ্রী। স্কুল-কলেজের সাধারন ছাত্র-ছাত্রী থেকে শুরু করে গৃহবধূ-এমনকি বিভিন্ন শ্রেনীপেশার লোকজনও ইয়াবাসহ মাদকসামগ্রী সেবনের ফলে মানষিকভাবে বিপদগ্রস্থ হয়ে পড়ছে। আইনশৃংখলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হচ্ছে গুটি কয়েক মাদক ব্যবসায়ী। আর ধরাছোয়ার বাইরে থাকছে মাদক ব্যবসার গডফাদাররা। গত একমাসে নারায়ণগঞ্জের মাদক বিস্তার ও এর সাথে জড়িতদের সর্ম্পকে জানার জন্য গোয়েন্দা সংস্থা থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষের সাথে আলাপের পর ব্যাপক অনুসন্ধানে এই প্রতিবেদক মাদকের সাথে জড়িতদের সর্ম্পকে যে তথ্য পেয়েছেন তা শুধু ভয়াবহই নয় নারায়ণগঞ্জকে ধ্বংস করার জন্য যথেষ্ট।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *