Home » শেষের পাতা » মেয়াদি সুদের ফাঁদে জিম্মি হত-দরিদ্র জনগোষ্ঠী

ওসমান পরিবারের সাথে কোন দ্বন্দ্ব নেই: আইভী

২৬ জানুয়ারি, ২০২২ | ৮:৫৫ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 140 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নাসিকের নব নির্বাচিত মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী আধুনিক নগরী গড়তে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন উন্নয়নে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যায় করে বলেন, যদি কোন বাধা আসে তবে আগের মতো নীরব থাকব না। এবার আর প্রতিবাদ নয়, প্রতিহত করব। নাসিকে তৃতীয় মেয়াদে সদ্যনির্বাচিত এই মেয়র আরও বলেন, চুনকা-ওসমান পরিবারের মধ্যে পারিবারিক দ্বন্দ্ব নেই। যদি থাকে, সেটি হলো-ন্যায়-অন্যায়, সত্য প্রতিষ্ঠা ও অন্যায়ের প্রতিবাদ করার দ্বন্দ্ব। যা কখনো, কখনো উন্নয়ন কাজের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত করে। একটি জাতীয় দৈনিকের সাথে আলাপচারিতায় নারায়ণগঞ্জ নগর উন্নয়নে বিভিন্ন পরিকল্পনা, কাজ করার প্রতিবন্ধকতা, স্থানীয় রাজনীতি, সিটি করপোরেশন ঘিরে টেন্ডার সিন্ডিকেট, ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান ও নির্বাচনের প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপি থেকে অব্যাহতি পাওয়া মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকারের বিভিন্ন অভিযোগসহ নানা বিষয়ে খোলামেলা আলাপ করেন। মেয়র আইভী আরো বলেন, আমার প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে মেগা প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ করা। এর মধ্যে রয়েছে-শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্ব ও পশ্চিম পারের মানুষের দীর্ঘদিনের আকাক্সক্ষা হচ্ছে কদমরসুল ব্রিজ। ৫৫০ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে বাংলাদেশের প্রথম ক্যাবল-স্টেইড ব্রিজ সেখানে নির্মাণ করব। এ ব্রিজটির ভিত্তিপ্রস্তর দ্রুত স্থাপন করা এবং কাজ শুরু করাই আমার অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ। এছাড়া নগরভবনকে দশতলায় উন্নীত করার আরেকটি প্রকল্প আমার রয়েছে। পাশাপাশি আছে-নগরীর ময়লা আবর্জনা ব্যবস্থাপনায় বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা, আদমজীতে ৫ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ লেক খনন এবং ২ দশমিক ৮ কিলোমিটার বাবুরাইলখাল খনন করা। এই খালের সঙ্গে আরও এক কিলোমিটারের বেশি যুক্ত করব। এটি শীতলক্ষ্যা নদীর সঙ্গে ধলেশ্বরী নদীকে যুক্ত করবে। পাশাপাশি শেখ রাসেল পার্কের কাজ দ্রুত শেষ করব। এছাড়া আমি আবার জয়ী হওয়ায় আরও কিছু নতুন নতুন কাজ হাতে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছি। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে-সোনাকান্দা স্টেডিয়াম, শেখ কামাল মাঠসহ ১২-১৩টি খেলার মাঠ নির্মাণ করা। আমার অনেক উন্নয়ন কাজে বাধা দেওয়া হয়। পার্ক করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েছি, মাঠ করতে গিয়েও বাধার মুখে পড়েছি। ১০ নম্বর ওয়ার্ডে চিত্তরঞ্জন মাঠ করতে গিয়ে বাধা দিয়ে অনেকদিন কাজ আটকে রাখা হয়। এ ধরনের বাধা আছে, বাধা থাকবেই। বাধা অতিক্রম করেই কাজ করেছি। এ কারণে অনেক কাজ সময়মতো শেষ করতে পারিনি। সামনের দিনেও যে বাধা আসবে না, তা আমি মনে করি না। তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নজন বাধা দিয়েছে। কখনো গোষ্ঠী ও ব্যক্তির কাছ থেকে বাধা এসেছে। এটা সবাই জানেন। সামনের দিনে এর পুনরাবৃত্তি হলে জোরেশোরে প্রতিবাদ করব। এতদিন নীরবে প্রতিবাদ করার চেষ্টা করেছি। আমি মনে করেছি, নীরবে প্রতিবাদ করে সমাধান করব। সামনে কোথাও উন্নয়নমূলক কাজে বাধা দেওয়া হলেই সেটা আর করব না। জনগণকে নিয়ে প্রতিহত করার চেষ্টা করব। দুই পরিবারের বিরোধ সম্পর্কে মেয়র আইভীর স্পষ্ট বক্তব্য, আমাদের সঙ্গে পারিবারিক কোনো দ্বন্দ্ব নেই। আমাদের সঙ্গে তাদের (ওসমান পরিবারের) কোনো ব্যবসা-বাণিজ্য নেই। আমরা কোনো দখলদারিত্ব বা কর্তৃত্বপরায়ণের চেষ্টা করি না। সুতরাং পারিবারিক কোনো দ্বন্দ্ব নেই। দ্বন্দ্ব যদি থেকে থাকে তা হলো ন্যায়-অন্যায়ের দ্বন্দ্ব, সত্য প্রতিষ্ঠার দ্বন্দ্ব ও অন্যায়ের প্রতিবাদ করার মতো দ্বন্দ্ব আছে। এসব দ্বন্দ্বের কারণে সিটি করপোরেশনের কাজ কিছুটা ব্যাহত হয়। আমি একটি উদাহরণ দিলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে। সেটা হলো, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সারা দেশে মডেল মসজিদ নির্মাণের অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জেও একটি মসজিদ নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। শেখ রাসেল শিশু পার্কের লাগোয়া ৮৪ একর ওয়াকফ করা জায়গায় ওই মসজিদ নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর আমাকে দিয়ে উদ্বোধন করে বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশন। আমি ভিত্তিপ্রস্তর করায় একটি মামলা করে ওই মসজিদের নির্মাণকাজ ছয় মাস ধরে আটকে রয়েছে। ওই মামলাটি করা হলো আমার ও ঠিকাদারের নামে। কেন এটা করা হলো? এর কারণ হচ্ছে, আমি কেন ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করলাম। একইভাবে ৮ নম্বর ওয়ার্ডে একটি মডেল মসজিদ নির্মাণ কাজও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এসব বিষয়ে বারবার প্রশাসনের কাছে বলার পরও কোনো সুরাহা হয়নি। এসব সিটি করপোরেশনের কাজ হলে আমি করেই ছাড়তাম। যেহেতু অন্য দপ্তরের কাজ তাই আমি এ ব্যাপারে কিছু বলিনি। পরিশেষে তার বিরুদ্ধে আনিত পরাজিত প্রার্থীর অভিযোগ সম্পর্কে বলেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে কোনো সিন্ডিকেট ব্যবসা নেই। এটা সম্ভবও নয়। সরকার ই-টেন্ডারের মাধ্যমে টেন্ডার করে। ওই প্রক্রিয়ায় কেউ তিন-চারটি কাজ পেলে আমার কিছুই করার থাকে না। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, কেউ তিন-চারটি কাজ একসঙ্গে পেলে আমাদের সমস্যা হয়। তারা একটা কাজ শেষ করে আরেকটি কাজ ধরে। এতে জনগণ ও আমি ক্ষতির সম্মুখীন হই যে, সময়মতো কাজ শেষ হয় না। যানজট সম্পর্কে আইভী বলেন, যানজট আমার একার পক্ষে নিরসন করা সম্ভব নয়। এটা দেখার দায়িত্ব আমার না। এটা ট্রাফিক বিভাগ দেখে। তবে এটা সত্য শহরের ভেতরের ট্রাক ও বাস টার্মিনাল সরাতে হবে। আমি পঞ্চবটিতে ট্রাক টার্মিনাল করে দিয়েছি। সেখানে ট্রাক না গিয়ে শহরে রাস্তার পাশে পার্কিং করে। আর বাসের জন্য শহরের বাইরে টার্মিনাল করা হবে। চাঁদাবাজি সম্পর্কে বলেন, সিটি করপোরেশনের কেউ কখনো এর সঙ্গে জড়িত নয়। একটি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দেখাতে পারবেন না যারা চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত। নারায়ণগঞ্জের পরিবহণ সেক্টর কাদের নিয়ন্ত্রণে, কারা পরিচালিত করে তা সারা বাংলাদেশ জানে। সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এত দুঃসাহস হয়নি যে পরিবহণ নিয়ন্ত্রকদের বিরুদ্ধে গিয়ে চাঁদাবাজি করবে।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *