Home » শেষের পাতা » স্কুল ছাত্র ধ্রুব হত্যায় খুনিদের গ্রেপ্তার দাবিতে মানববন্ধন

ওসমান বলয়ে নিরবতা!

০৫ ডিসেম্বর, ২০২১ | ৮:৫৩ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 107 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

দু’দিন আগেও তারা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন, মেয়র আইভীকে পুনরায় নৌকার মনোনয়ন দেওয়া হবে না। জোট পাকিয়ে সভাও করলেন। আইভীকে মনোনয়ন না দেওয়ার জন্য সরব ছিলেন শেষদিন পর্যন্ত। তবে বিধিবাম! দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই আইভীর উপরেই আস্থা রাখলেন। শেষ পর্যন্ত ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীই পেয়েছেন সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন। এতে আইভী সমর্থক ও নেতা-কর্মীরা উচ্ছ্বাসে ভাসছেন। টানা দু’দিন ধরে তারা আনন্দ মিছিল করছেন। অন্যদিকে এতদিন আইভীবিরোধী প্রচারণায় সরব থাকা পক্ষটি হঠাৎ করেই নিশ্চুপ হয়ে গেছেন। কোনো কথা নেই তাদের মুখে। জানা যায়, গত ৩০ নভেম্বর সিটি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তফসিল অনুযায়ী আগামী ১৬ জানুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে অংশ নিতে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন বর্তমান সিটি মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। তিনি ছাড়াও দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল, মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি চন্দন শীল ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. খোকন সাহা। এই তিনজনই ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনের সাংসদ একেএম শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ নেতা। গত এক বছর যাবৎ আইভীবিরোধী সকল কর্মসূচিতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এই তিন নেতা। আইভীর মনোনয়ন ঠেকাতে এমন কোনো কাজ নেই যা তারা করেননি। সূত্র বলছে, আইভীবিরোধী কার্যক্রম শুরু হয় গত এক বছর আগে দেওভোগের জিউস পুকুর ইস্যুতে। এক মানববন্ধন দিয়ে শুরু হলেও পরবর্তীতে একাধিক সভা হয় জিউস পুকুর ইস্যুতে। দেবোত্তর সম্পতি রক্ষার দাবিতে এইসব কর্মসূচি আয়োজিত হলেও, এতে মূলত আইভীর বিষোদগার করা হয়। বিভিন্ন সমাবেশ থেকে সরাসরি বক্তব্য দেওয়া হয় যে, আইভীকে যেন এইবার সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মনোনয়ন না দেওয়া হয়। এইসব কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী ছিলেন হিন্দু পরিষদসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ নেতারা। সকলেই ওসমান পরিবারের ঘনিষ্ঠা বলে শহরে পরিচিত। একইভাবে মাঠে নেমেছিল হেফাজতে ইসলামের একটি অংশ। আইভীর বিরুদ্ধে মসজিদ-মাদরাসা দখলের অভিযোগ তুলেছিলেন তারা। তবে সেইসব অভিযোগ ধোপে টেকেনি। এদিকে গত ২৯ নভেম্বরও ফতুল্লার নম পার্কে অনুসারী নেতা-কর্মীদের নিয়ে বৈঠক করেন সাংসদ শামীম ওসমান। ওই বৈঠকে অনুসারী নেতারা আইভীকে মনোনয়ন না দেওয়ার আওয়াজ তোলে। এই দাবির কথা কেন্দ্রীয়ভাবে লিখিত পাঠানোরও প্রস্তাব ওঠে। নগরীর ২৭টি ওয়ার্ডে কমিটিও গঠন করা হয় ওই সভাতেই। শেষ দিন পর্যন্তও শামীম ওসমানপন্থী নেতারা আশ্বস্ত ছিলেন যে, আইভী পাবেন না নৌকা। তাদের আশাও ছিল, কলাগাছ হলেও সমস্যা নেই কিন্তু আইভী নয়। ‘পরিবর্তন চাই’ রব তুলেছিলেন সারা শহরে। কিন্তু তাতে কাজ হয়নি। শেখ হাসিনা ভরসা রেখেছেন আইভীতেই। আবারও তাকেই মনোনয়ন দিয়েছেন শেখ হাসিনা। গত শুক্রবাররাতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ড আইভীকে নৌকার জন্য চূড়ান্ত করেন। এরপর থেকেই চুপ শামীম ওসমান শিবিরের নেতা-কর্মীরা। এর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সরব ছিলেন শামীমপন্থী নেতারা। তবে আইভী মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকে তাদের মুখে কুলুপ। নিস্তব্ধতা নেমে এসেছে তাদের মধ্যে। তবে দলীয় স্বার্থে ‘নৌকার পক্ষে’ কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন নৌকার প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। শনিবার বিকেলে আনন্দ মিছিল শেষে সাংবাদিকদের দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘একই দলের মধ্য থেকে আমরা কয়েকজন নমিনেশন চেয়েছিলাম। তাদের প্রতি আমার আহ্বান থাকবে এত বড় দলের মধ্যে অনেকেই নমিনেশন চাইতে পারে। তাদের সেই যোগ্যতা, সবকিছুই আছে বলে আমি মনে করি। একজনকে দিতে হয় বলে একজনকে দেওয়া। নারায়ণগঞ্জে নৌকার স্বার্থে, প্রধানমন্ত্রীর স্বার্থে আমরা একসাথে সকলে মিলে কাজ করবো। আমি সকলকেই এই আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা সকল ধরণের ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে নেত্রীর পাশে দাঁড়াবো। নৌকার পাশে দাঁড়ানো মানেই নেত্রীর পাশে দাঁড়ানো। নৌকার পাশে থাকা মানেই আমাকে এখন জয়যুক্ত করা। নৌকা এখন উন্নয়নের মার্কা। জনতার মার্কা। জনতার মার্কাকে আমরা জয়যুক্ত করবো ইনশাল্লাহ।’ এদিকে মনোনয়নবঞ্চিত মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি চন্দন শীল প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, ‘দল যাকে অধিকতর যোগ্য মনে করেছে তাকেই মনোনয়ন দিয়েছে। দলীয় মনোনয়ন মাথা পেতে নিলাম। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অনুরোধ জানাবো, তারা সবাই যেন দলীয় মনোনয়ন পাওয়া ব্যক্তির পক্ষে কাজ করেন।’ সূত্র: প্রেস নারায়ণগঞ্জ

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *