Home » প্রথম পাতা » রূপগঞ্জ ভ’মি অফিসে অনিয়মই যেন নিয়ম

ওয়াকওয়েতে কিশোর গ্যাং আতঙ্ক

২০ মে, ২০২২ | ১০:০১ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 33 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

শীতলক্ষ্যা নদী দখল এবং অবৈধ বালু-পাথর ব্যবসা ঠেকাতে ২০১৪ সালে নির্মাণ করা হয় সৌর্ন্দযম-িত ওয়াকওয়ে। দূর-দূরান্ত থেকে বিনোদনপিয়াসী লোকজন ছুটে আসে ওয়াকওয়ে দেখতে। বিশেষ করে বিকাল হলেই এটি পরিণত হয় লোক-লোকারণ্যে। শিশু, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, নারী-পুরুষের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠে এই ওয়াকওয়ে। কিন্তু ওয়াকওয়েতে বেড়ে চলেছে কিশোর গ্যাংয়ের আতঙ্ক। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের পরও থামছে না কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা। ছোট বিষয় নিয়েও এরা জড়িয়ে পড়ছে সহিংসতায়।  ওয়াকওয়েতে মোটরসাইকেল নিয়ে মহড়া, তরুণীদের উত্ত্যক্ত করা, মাদক সেবনসহ বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িয়ে পড়ছে এখানকার ‘কিশোর গ্যাংয়ের’ সদস্যরা। দিন দিন তারা হয়ে উঠছে ভয়াবহ। তাছাড়া এই ওয়াকওয়েতে মারামারি করার ভিডিও চোখে পরে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের গ্রুপ গুলোতে। এই ওয়াকওয়েতে গড়ে উঠছে একাধিক কিশোর গ্যাং গ্রুপ। এক গ্রুপের দেখাদেখি জন্ম নিচ্ছে আরেক গ্রুপ। এসব গ্রুপের আধিপত্য বিস্তার, সিনিয়র-জুনিয়র, নারীঘটিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঘটছে হত্যাকান্ড। এছাড়াও চুরি-ছিনতাই থেকে শুরু করে হত্যাকান্ডে পর্যন্ত জড়াচ্ছে ১৪ থেকে ২০ বছর বয়সী কিশোররা। অস্ত্র হিসেবে তারা ব্যবহার করছে ছুরি বা চাকু বা চাপাতির মতো ধারালো বস্তু।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই ওয়াকওয়েতে ৮টি কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে। সিদ্ধিরগঞ্জের সাইলো ও সিদ্ধিরগঞ্জ আমতলা ও ওমরপুর থেকে আসে তিনটি, সিদ্ধিরগঞ্জ বাজার এলাকা থেকে একটি সর্দার পাড়া থেকে দুইটি ও সিদ্ধিরগঞ্জ রেলনাইনের আটি গ্রাম এবং ওয়াপদা কলোনী হয়ে আসে আরো দুটি গ্রুপ। তবে এসব কিশোরগ্যাংদের ভয়ে এলাকাবাসী তাদের নাম পরিচয় দিতে অনীহা প্রকাশ করেছেন। সর্বশেষ গত শনিবার সিদ্ধিরগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর ওয়াকওয়ের শ্মশানঘাটে আরাফাত হোসেন রিয়াদ (১৭) নামে এক কিশোরকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করা হয়। এসময় তার চিৎকার শুনে তার বন্ধু এগিয়ে আসলে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। পরবর্তীতে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় আহতদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে আহতরা চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানা যায়। তবে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ও গ্রুপের আধিপত্য বিস্তার, সিনিয়র-জুনিয়র নিয়ে এ মারামারির সৃষ্টি হয়। সোহানুর রহমান সিদ্ধিরগঞ্জের একটি বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক। তিনি আজকের পত্রিকাকে জানান, সমাজের এক শ্রেনীর লোক এই কিশোরদের দিয়ে বিভিন্ন ধরনের অপরাধে সম্পৃক্ত করছেন। বড় বড় অপরাধ করানোর সুযোগ নিচ্ছে। মাদক সেবন থেকে বিক্রয় করতে পর্যন্ত তাদের ব্যবহার করছে। কথা হয় ওয়াকওয়েতে ঘুরতে আসা কলেজ ছাত্রী আয়েশা সিদ্দিকার সাথে তিনি আজকের পত্রিকাকে জানান, শীতলক্ষ্যা তীরের এই ওয়াকওয়ে আমাদের বাড়ীর কাছে থাকায় প্রায় আমার যাতায়াত ছিলো। এছাড়া আগে প্রতি শুক্রুবার বিকেলে আমাদের পরিবারের সবাইকে নিয়ে  এখানে হাটতে আসতাম । এখন ওয়াকওয়েতে প্রচুর বাইক চলে এছাড়া কিছু কিছু ঘাটলায় বখাটে ছেলেদের আড্ডা খানায় পরিণত হয়েছে তাই এখন আর আগের মতো যাওয়া হয়না।

এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান পিপিএম বার আজকের পত্রিকাকে জানান, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা আবারও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাদের প্রতিরোধ করতে আমরাও তৎপর আছি।  এ বিষয়ে পুলিশের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজকে দায়িত্ব নিতে হবে। তাহলে কিশোর অপরাধ দমন করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।

 

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *