Home » প্রধান সংবাদ » আতঙ্কে মন্ত্রী এমপি প্রশাসন

কমতে পারে জাপার ভোট!

০৪ নভেম্বর, ২০২১ | ১০:৪২ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 111 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

আওয়ামী লীগের দলীয় নির্বাচনী প্রতীক নৌকা নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন সদর-বন্দর আসনে জাতীয় পার্টির সাংসদ একেএম সেলিম ওসমান। একইসাথে কলাগাছিয়া ইউনিয়নকে ‘কলাগাইচ্ছা’ বলে উচ্চারণ করেছেন। নৌকা নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যে আওয়ামী লীগের নেতারা যেমন ক্ষুব্দ হয়েছেন তেমনি ‘কলাগাইচ্ছা’ সম্বোধনে মনক্ষুন্ন হয়েছেন স্থানীয়রা। তারা বলছেন, কলাগাছিয়া ইউনিয়নকে ‘কলাগাইচ্ছা’ বলে তাচ্ছিল্য করেছেন জাতীয় পার্টির সাংসদ। এদিকে জাপার সাংসদের এমন বক্তব্যে কলাগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। কেননা ওই ইউপিতে জাতীয় পার্টির প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেনও নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। জাতীয় পার্টির এমপির তাচ্ছিল্যের সুরে দেওয়া বক্তব্যের কারণে কমতে পারে জাপার প্রার্থীর ভোট। গত ২৮ অক্টোবর দুপুরে বন্দরের নবীগঞ্জে এক স্কুলভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সাংসদ সেলিম ওসমান। ওই অনুষ্ঠানে চলতি ইউপি নির্বাচনে পছন্দের ৭ প্রার্থীর পক্ষে ভোট চান সাংসদ। কলাগাছিয়া ইউপিতে তিনি সমর্থন দেন বর্তমান চেয়ারম্যান ও জাতীয় পার্টির মনোনীত লাঙ্গলের প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন প্রধানকে। অনুষ্ঠানে বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমএ রশীদ উপস্থিত না থাকায় চটে যান সাংসদ সেলিম ওসমান। তিনি এই সময় বলেন, ‘খুব আনন্দঘন মন নিয়ে আসছিলাম। আমার সাথে তিনজন কাজ করেছেন। একজন আমার স্নেহের মুকুল, একজন আমার বন্ধু আবু জাহের, আরেকজন এই উপজেলার চেয়ারম্যান এমএ রশীদ। আসার সময় আমি রাস্তায় ওনার গাড়ি দেখেছি। এই স্কুলের জন্যে ওনারা যথেষ্ট পরিমাণ চেষ্টা করেছেন। ৩ জনের মধ্যে একজন মারা গিয়েছেন, একজন এখানে উপস্থিত আছেন আরেকজন কলাগাইচ্ছায় গাঞ্জার নৌকা তাল গাছে উঠাইয়া ফেলতেছেন।’ বন্দর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমএ রশীদকে উদ্দেশ্য করে সাংসদ আরও বলেন, ওনার বুঝা উচিত এটা আজকে এটাকে চেয়াম্যান বানালে কয়েকদিন পরেই থাকবে না। কিন্তু আজকে এই ১২৬৫ জন শিক্ষার্থী আমাদের ভবিষ্যত হবে। কোনো লুটেরাকে চেয়ারম্যান বানিয়ে আপনার লাভ হবে না। গাঞ্জার নৌকা কখনও তাল গাছ দিয়ে উঠবে না।’ ‘গাঞ্জার নৌকা’ বলায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। একই সাথে কলাগাছিয়া ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দারাও মনক্ষুন্ন হয়েছেন সাংসদের বক্তব্যে। তারা বলছেন, সাংসদ কলাগাছিয়াকে ‘কলাগাইচ্ছা’ বলে তাচ্ছিল্য করেছেন। অথচ তার দলেরই নেতা এই ইউপির চেয়ারম্যান। এইবারও সে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। কলাগাছিয়াকে তাচ্ছিল্য করায় হিতে-বিপরীত হয়েছে। সাংসদ তার পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে কথা বলতে গিয়ে অনেকটা তারই ক্ষতি করেছেন। ওই বক্তব্যের পর স্থানীয়দের সমর্থন অনেকটা নৌকার প্রার্থীর দিকে ঝুঁকেছে। স্থানীয়দের অভিমত, এইবার নির্বাচনে ‘কলাগাইচ্ছা’ ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াবে। উল্লেখ্য, নারায়ণগঞ্জের ১৬ ইউপিতে আগামী ১১ নভেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ৫ ইউপি চেয়ারম্যান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হয়েছেন। ১১ ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ছাড়াও জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। তবে অন্যান্য ইউপি থেকে কলাগাছিয়া ইউপি নিয়ে বেশ আলোচনা চলছে। এই ইউপিতে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির উভয় প্রার্থীই হেভিওয়েট। এখানে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে লড়ছেন বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজিম উদ্দিন প্রধান। তার বিপরীতে লড়ছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন প্রধান। তিনি বর্তমান পরিষদেরও চেয়ারম্যান।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *