Home » প্রথম পাতা » ফতুল্লার কাশিপুরে মোস্তফার অত্যাচারে অতিষ্ট সাধারন মানুষ

কমিটির পরিবর্তন চায় তৃনমূল

০৬ অক্টোবর, ২০২২ | ১:২৭ অপরাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 93 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের নেতাদের বিরুদ্ধে যেন অভিযোগের অন্ত নেই। তাই নেতারা নেতৃত্ব ধরে রাখার জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করছে বলে জানা গেছে। তবে তৃনমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছাস বিরাজ করছে এই কারণে বলেন, দীর্ঘদিন পরে হলেও দুই কমিটিরই সম্মেলনের তারিখ নির্ধারিত হয়েছে। দুই কমিটির বর্ধিত সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২৩ অক্টোবর জেলা আওয়ামীলীগের এবং ২৫ অক্টোবর মহানগর আওয়ামীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। দুই সম্মেলনকে সফল করতে দুই কমিটিই মাঠে নেমে পড়েছেন। এতোদিনের তিক্ত সম্পর্কও কোমল করে সম্মেলন বাস্তবায়ন করতে চলেছেন নেতৃবৃন্দ। তবে পর্দার আড়ালে সম্মেলন সফল করার পাশাপাশি তুমুল নেতৃত্বে প্রতিযোগিতাও শুরু হয়েছে। যে যার অবস্থান থেকে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটিতে শীর্ষ দুই পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং সমর্থন আদায়ের চেষ্টা শুরু করেছেন। চলছে কেন্দ্রে লবিং। তবে ইতিমধ্যে জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে আগ্রহী নেতৃবৃন্দ কেন্দ্রে তাদের অবস্থান আগেই পরিষ্কার করেছেন। গোয়েন্দা সংস্থা এবং আওয়ামীলীগের নিজস্ব অনুসন্ধান টিমও আগ্রহী নেতাদের যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করেছেন বলে জানা গেছে। তবে চূড়ান্ত ফল কার কার পক্ষে আসবে এনিয়ে চূড়ান্ত সমাধানে আসার ব্যাপারটি সম্মেলনের আগে কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারবেননা। কেননা, নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের সূতিকাগার হিসেবে পরিচিত। তাছাড়া বহু আন্দোলন সংগ্রামে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয়ার কারণে নারায়ণগঞ্জ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর তাই নারায়ণগঞ্জ জেলায় জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ চূড়ান্ত করবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী নিজেই। সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জ জেলায় আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে সাংসদ শামীম ওসমান এবং নাসিক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলয়ে বিভক্ত এটা কেন্দ্রও অবগত আছেন। তবে তরুণ নেতৃত্বই শামীম ওসমানের সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। তবে মহানগর আওয়ামীলীগের আইভী ও শামীম ওসমান বলয় দুই মহল থেকেই পরিবর্তন চাচ্ছেন বলে জানিয়েছে সূত্র। নানা অভিযোগে জেলা পরিষদে দ্বিতীয় দফায় আর মনোনয়ন পাননি মহানগর সভাপতি আনোয়ার হোসেন। সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহাও। এছাড়া নিজ দলের নেত্রীর প্রতি কুৎসা করার অভিযোগে তো খোকন সাহার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন আইভী। মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে আসতে আগ্রহী এক ঝাঁক নেতা। খোকন সাহা যেমন চাইছেন সভাপতি হবে, তেমনি আনোয়ার হোসেনও চাইছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে আবার থাকতে। তবে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে আসতে আগ্রহী বর্তমান কমিটির যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম, জিএম আরমান, আহসান হাবীব,  সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আরাফাত। তবে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এহসানুল হক নিপুকেও দেখা যেতে পারে বলে জানিয়েছে সূত্র। সভাপতি পদে মহানগর আওয়ামীলীগের বর্তমান কমিটির বেশ কয়েকজন সহসভাপতি যেমন প্রতিদ্বন্দ্বী তেমনি মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে আসার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে সাবেক শহর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আদিনাথ বসুকেও। তবে আসতে আগ্রহী কিংবা স্থানীয় নেতাদের সুপারিশেই যে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্ধারণ করা হবে বিষয়টি এমনও নয়। এসব পদে যারা আসবেন তাদের সকল কিছু বিবেচনা এবং গ্রহণযোগ্যতা যাচাঁই বাঁছাইয়ের পর আওয়ামীগ সভানেত্রী সিদ্ধান্ত নেবেন।আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরেছেন। দুই একদিনের মধ্যেই নারায়ণগঞ্জের দুই সম্মেলনের ব্যাপারে নেত্রীর মতামত ও সিদ্ধান্ত নিয়ে কথা বলবেন আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। সেক্ষেত্রে সাংসদ ও মেয়র হিসেবে জনপ্রতিনিধির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের মাঝে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব আসবে কিনা সেটিও ভেবে দেখা হবে বলে জানা গেছে। এছাড়া সূত্র আরো জানায়, বর্তমান নেতৃত্বে আবারো জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি না আসার সম্ভাবনাও প্রবল। সূত্র বলছে, বর্তমানে যারা কমিটির নেতৃত্বে দীর্ঘ সময় ছিল তাদের অনিয়ম, ব্যর্থতা এবং তাদের ব্যাপারে তৃণমূলের সকল অভিযোগের সত্যতা যাঁচাইয়ের কাজ নানাভাবে শেষ করেছে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। সে কারণেই দ্রুত সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণে দুই কমিটির নেতাদের তাগাদা দেয় হাইকমান্ড। কারা আসছেন নেতৃত্বে সেটি সম্মেলনেই নিশ্চিত হতে পারবেন স্থানীয় নেতারা এর আগে নয় বলছে বিশ্লেষকরা। এর আগে যাই বলা হবে তা হবে কেবল অনুমান।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *