Home » শেষের পাতা » হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে সড়ক-মহাসড়কে চলছে চাঁদাবাজী

কমিটি নিয়ে বিপাকে তারা

২১ সেপ্টেম্বর, ২০২২ | ১০:০৭ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 22 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা দিয়ে বিপাকে কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা আব্দুস সলাম। কমিটি ঘোষণার পর থেকে দলীয় নেতা কর্মীদের মধ্যে দেখা দেয় বিদ্রোহ। যার কারণে এই বিদ্রোহ ঠেকিতে গত কয়েকদিন ধরেই বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ রাতভর আহ্বায়ক কমিটি থেকে বাদ পড়া নেতাদের সাথে বিভিন্নভাবে কথা বলে ম্যানেজ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া আহবায়ক কমিটির নেতারা বিএনপির সে সকল নেতাদের বাড়িতে গিয়েও ম্যানেজের চেষ্টা করছেন। এবং সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করে যাচ্ছেন। গত কয়েকদিন ধরেই নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির মধ্যে এমন কর্মকান্ড চলছে বলে বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে। দলীয় সূত্র বলছে, গত ১৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির ৪১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে অ্যাডভোকেট মো. শাখাওয়াত হোসেন খান এবং সদস্য সচিব হিসেবে অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। আর এই কমিটি ঘোষণার পর থেকেই নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপিতে বাজছে বিদ্রোহের সুর। কমিটিকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্চাবাচ্য ও হাতাহাতির পর্যায়ের চলে গিয়েছিল। সেই অনেকেই নিস্ক্রিয়তার দিকেও আগাচ্ছেন। মহানগর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা কোনোভাবেই যেন এই কমিটিকে মেনে নিতে পারছেন না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বইছে সমালোচনার ঝড়। কমিটি ঘোষণার পর থেকেই অনেকেই পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। যা কেন্দ্রীয় বিএনপিকেও অনেক বিব্রত অবস্থার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। যার কারণে এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ রাতভর নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সাথে যোগাযোগ করে তদবির করে যাচ্ছেন নতুন কমিটির সমর্থন আদায়ের জন্য। এ পর্যন্ত মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের অনেক নেতার সাথেই তার কথা হয়েছে। সকলকেই তিনি অনুরোধ করছেন যেন নতুন কমিটিকে সমর্থন দেয়া হয়। পাশাপাশি তাদের এই সমর্থনকে পরবর্তীতে মনে রাখা হবে বলেও তিনি জানিয়ে দিচ্ছেন। আবদুস সালাম আজাদের কথা বলার পর দিনে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন ও সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু তাদের অনুগামীদের নিয়ে সে সকল নেতাদের বাড়িতে হাজির হয়ে থাকেন। মহানগর বিএনপির কমিটি ঘোষণার পর ইতোমধ্যে অনেক নেতাদের বাড়িতেই তারা গিয়েছেন। সেই সাথে তাদেরকে বিভিন্নভাবে বোঝ দেয়ার চেষ্টা করছেন। এমন এক নেতা জানান, আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন ও সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু তাদের বাসায় গিয়ে কাকুতি মিনতি করে বলছেন যেন তিনি পদক্ষেপ না নেন। নতুন এই কমিটিকেই যেন মেনে নেন। এমনভাবে বলছেন যেন তাদের অনুরোধ না রাখার মতো কোনো উপায়ই নেই। সেই সাথে যাদেরকে মহানগর বিএনপির নতুন কমিটিতে অমূল্যায়িত করা হয়েছে তাদেরকে পরবর্তীতে মূল্যায়নের আশ্বাস দেয়া হচ্ছে। তাদেরকে লোভনীয় পদের অফার দেয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেককে ম্যানেজ করতে সামর্থ্য হলেও বেশির ভাগ নেতা তাদের নিয়ন্ত্রণেই বাইরেই থেকে যাচ্ছে। সবশেষ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি থেকে ১৫ জন নেতা পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। পদত্যাগকারী নেতারা হলেন- মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক পদে থাকা আব্দুস সবুর খান সেন্টু, হাজী নুরুদ্দিন, বন্দর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল ও সিটি কর্পোরেশনের ২৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আবুল কাউসার আশা। সেই সাথে সদস্য পদে থাকা পদত্যাগকারী নেতারা হলেন- আওলাদ হোসেন, হান্নান সরকার অ্যাডভোকেট বিল্লাল হোসেন, মনোয়ার হোসেন শোখন, আলমগীর হোসেন, অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান মোল্লা, শহীদুল ইসলাম রিপন, অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান মোল্লা, আমিনুর ইসলাম মিঠু, ফারুক হোসেন, অ্যাডভোকেট শরীফুল ইসলাম শিপলু, মো. ফারুক হোসেন। পদত্যাগ প্রসঙ্গে যুগ্ম আহবায়ক পদে থাকা আতাউর রহমান মুকুল বলেন, এ কমিটি লজ্জার ব্যাপার। আজ বন্দরে আমার চেয়ে ছোটরা যদি মহানগরে স্থান পায় এটা অপমানজনক। অনেকে দলের কেউ না হয়েও মহানগরের কমিটিতে স্থান পেয়ে গেছে। কেউ জোর করে পদত্যাগ করেনি। সকলের নিজ ইচ্ছায় পদত্যাগ করেছে। আমাদের দিয়েই এই কমিটি হবে। এসকল নেতাদের দাম দেই না। তারা মুন্সীগঞ্জের লোক হয়ে এখাঁনে রাজনীতি করে। আমরা জনগণের নেতা। সালামকে আমরা অবাঞ্ছিত ঘোষণা করলাম। আরেক যুগ্ম আহবায়ক আবুল কাউসার আশা বলেন, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদ্য ঘোষিত আহবায়ক কমিটির ঈমানদের সাথে আমার মতো একজন নগন্য লোক না থাকাটাই শ্রেয়। তাই আমি এই কমিটি থেকে পদত্যাগ করলাম। সদস্য পদে থাকা মনোয়ার হোসেন শোখন বলেন, কমিটিতে যারা পদে এসেছেন তাদের এই শহরে কোনো ভিত্তি নেই। তাদের কোনো নেতাকর্মী নেই। তাদের নিয়ে নারায়ণগঞ্জে রাজনীতি হবে না। তাই আমরা স্ব-ইচ্ছায় কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছি। তবে এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর নতুন কমিটির সদস্য সচিব পদে থাকা অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। যদি কেউ পদত্যাগ করে থাকে তাহলে তাদের বিষয়ে কেন্দ্র সিদ্ধান্ত নিবে। এর আগে ২০১৭ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারী অ্যাডভোকেট আবুল কালামকে সভাপতি করে ও এটিএম কামালকে সাধারণ সম্পাদক করে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আংশিক কমিটি গঠন করা হয়। এরপর কমিটি পূর্ণ করা হয়। কিন্তু এই কমিটিতে মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের আপত্তি থাকায় কমিটি স্থগিত করা হয়। এরপর আবার ২০১৯ সালের ৩০ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেই সাথে সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম ও সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামালকে ৪৫ দিনের মধ্যে সময় বেধে দেয়া হয় ওয়ার্ড কমিটি গঠন করে সম্মেলন করার জন্য। কিন্তু এই কমিটি গঠনের ২০ দিন যেতে না যেতেই কমিটির বিরুদ্ধে মামলা করে দেন ১০নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি গোলজার খান। যে মামলায় আসামী হয়েছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে সীমানা ও গঠনতন্ত্র মানা হয়নি উল্লেখ করে ওই মামলার আবেদন করা হয়। পরে এই গোলজার সম্পর্কে খোঁজ করতে গিয়ে জানা যায় তার সাথে মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের সখ্যতা রয়েছে। সেই সাথে পরবর্তীতে মহানগর কৃষকদলের পদ পেয়েছেনও সাখাওয়াত হোসেন খানের বদলে। একই সাথে মামলার আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবু বক্কর সিদ্দিক নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায় বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের সাথে কথা বলতে গিয়ে অকপটেই স্বীকার করেছিলেন অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের অনুুরোধেই তিনি মামলার আইনজীবী হয়েছেন। বিএনপি নেতাদের অভিযোগ ছিল, এই মামলার পিছনে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের হাত রয়েছে। কারণ যে দুইজন মামলার বাদী হয়েছেন, তারা এত আইনের মারপ্যাঁচ বুঝে না। আর অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানও চেয়েছিলেন এই দুইজনকে যেন জেলা ও মহানগর বিএনপিতে মূল্যায়ন করা হয়। যেহেতু তাদের চাহিদা অনুযায়ী মূল্যায়ন করা হয়নি সে কারণেই গোলজার খান ও নূর আলমকে দিয়ে পরোক্ষভাবে মামলা করিয়েছিলেন অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। সেই মামলার পর থেকেই নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির কমিটি গঠন প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। বর্তমানে সেই সাখাওয়াত হোসেন খানকেই আহবায়ক করে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির ৪১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায় কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *