আজ: সোমবার | ৬ই জুলাই, ২০২০ ইং | ২২শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১৫ই জিলক্বদ, ১৪৪১ হিজরী | রাত ১০:৪১

সংবাদের পাতায় স্বাগতম

করোনাভাইরাসের সাথে বসবাস

ডান্ডিবার্তা | ৩০ জুন, ২০২০ | ৬:০২

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
বাংলার গরীব মেহনতী মানুষসহ সব শ্রেণিপেশা তথা বাংলার আপামর জনসাধারণকে করোনাভাইরাস সংকট থেকে রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী সারা দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন, দিয়ে যাচ্ছেন নানা নির্দেশনা এবং সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি সরাসরি মনিটরিং করছেন। তিনি ত্রাণ বিতরণসহ স্বাস্থ্যখাতকে ঢেলে সাজানোর প্রক্রিয়া শুরুসহ করোনাভাইরাস প্রতিরোধে নানা পদক্ষেপ নিয়েছেন। অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে ও জীবিকার তাগিদে সাধারণ মানুষকে তাদের নূন্যতম কার্যক্রম পরিচালনা করতে ও সরকারি বেসরকারি অফিসিয়াল কার্যক্রম স্বল্প পরিসরে চালু রাখতে প্রায় ৬৩ দিন সাধারণ ছুটি অব্যাহত থাকার পর গত ৩১ মে থেকে সকল সরকারি বেসরকারি অফিস খুলে দেওয়া হয়। গত কয়েক সপ্তাহে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের ব্যাপকতা বিবেচনায় নিয়ে রেড জোন, ইয়েলো জোন, গ্রিন জোন কনসেপ্ট ও রেড জোনে এলাকাভিত্তিক ‘লকডাউন’ পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। যদিও সবগুলো রেড জোনে কবে নাগাদ ‘লকডাউন’ কার্যক্রম শুরু করা হবে তার কাগজে কলমে পরিকল্পনা করা হলেও, বাস্তবে কার্যক্রম দেখা যায়নি। সম্প্রতি লকডাউন এর পক্ষে-বিপক্ষে ফেইসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইন মিডিয়ায় অনেক লেখালেখি চলছে। এটাই স্বাভাবিক যারা সরকারি চাকরি করেন ও মাস শেষে নিশ্চিত বেতন পান, তাদের জন্য লকডাউনে থাকা সহজ হলেও যারা ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে তাদের জন্য লকডাউন বর্তমানে এক মূর্তিমান আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। গত তিন মাস ধরে লকডাউন নিয়ে বিভিন্ন পরীক্ষামূলক কার্যক্রম ও পাল্লা দিয়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা এবং মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকায় লকডাউন নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা আরও তীব্র হয়েছে। এ অবস্থায় কেউ লকডাউনের পক্ষে, কেউ লকডাউনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। করোনাভাইরাসের এ মহাসংকট আমাদের দেশে এখন আর লকডাউন দিয়ে কতটুকু নিয়ন্ত্রণ করা যাবে তা এখন প্রশ্নসাপেক্ষ। গত কয়েকদিন আগে একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা তাদের সংবাদে একটি গবেষণার ফলাফল তুলে ধরে। যেখানে বলা হয়েছে,, বাংলাদেশে করোনাভাইরাস সংকট তীব্র হবে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে। তার মানে এখন জুনের শেষ সপ্তাহ চলমান সেপ্টেম্বর আসতে আরও দুই মাস বাকি। আদৌ সেপ্টেম্বর অক্টোবরেও পিক হয় কিনা তা যেমন নিশ্চিত নয়, তেমনি করোনাভাইরাস সংকট তীব্র হওয়ার সময়টায় পরিস্থিতি কেমন হবে তাও অনিশ্চিত। তেমনি তীব্রতা কতোদিন চলমান থাকবে বা তীব্রতার ক্রিয়াকাল শেষ হওয়ার পর কোন গতিতে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ছড়াবে তাও অনিশ্চিত। অর্থাৎ আগামীর সময় অনিশ্চয়তায় ভরা। তাই আমাদের এখন মনে হয় ‘ঐড়ি ঃড় ষরাব রিঃয ঈড়ৎড়হধ’ পন্থা বেছে নিতে হবে কেননা সরকারি, বেসরকারি চাকুরীজীবী, মাঝারি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, মধ্যবিত্ত, নি¤œমধ্যবিত্ত, নি¤œবিত্ত, ছিন্নমূল, ভাসমান অর্থাৎ দেশের অধিকাংশ মানুষকে করোনাভাইরাসকে মাথার উপরে নিয়েই এর বিরুদ্ধে লড়াই করার নিয়মগুলো আয়ত্ত করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *