আজ: রবিবার | ১২ই জুলাই, ২০২০ ইং | ২৮শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ২১শে জিলক্বদ, ১৪৪১ হিজরী | বিকাল ৫:৫২

সংবাদের পাতায় স্বাগতম

করোনার সাথে এখন ডেঙ্গু আতংক!

ডান্ডিবার্তা | ০৪ জুন, ২০২০ | ১২:৫৩

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
বিশ্বের সাথে পাল্লা দিয়ে মহামারি আকার ধারন করেছে করোনা ভাইরাস। করোনার ছোবল থেকে রেহাই পায়নি বাংলাদেশও। দেশের মধ্যে শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জ জেলা। আর এই নারায়ণগঞ্জ জেলাকেই গ্রাস করেছে কোভিট-১৯ করোনা ভাইরাস নামক একটি সংক্রমন। করোনা ভাইরাসে আতংকিত নারায়ণগঞ্জবাসী। তবে নারায়ণগঞ্জবাসীসহ জেলা প্রশাসন করোনা ভাইরাস নিয়ে মাতামাতি করলেও মাথা ঘামাচ্ছে না মশার উপদ্রæব নিধনের ক্ষেত্রে! জেলার সর্বত্র আতংক বিরাজ করছে করোনার সাথে পাল্লা দিয়ে মশার উপদ্রব। একদিকে করোনা অন্যদিকে মশার উপদ্রবের কারনে নার্ভিশ্বাস হয়ে উঠেছে নগরবাসীর জীবন। এদিকে দীর্ঘদীন ধরে মশার উপদ্রব বৃদ্ধি হলেও টনক নড়েনি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন কতৃপক্ষের। নাসিকের বিভিন্ন এলাকার করোনা প্রতিরোধসহ মশার উপদ্রব থেকে বাঁচতে কার্য্যকরী কোন ভূমিক রাখেনি সিটি কর্পোরেশন। নগরবাসী মনে করেন, মশা নিধনে নাসিক কতৃপক্ষ নগরের বিভিন্ন এলাকায় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করনে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহন করা হলে যেমননি করোনা প্রাদ্রæভাব রোধে সামান্য হলেও নিরাপত্তা পাওয়ার সাথে সাথে মশার উপদ্রব থেকে পরিত্রান পেতো নগরবাসী। সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) এলাকায় ব্যাপকভাবে বেড়েছে মশার উপদ্রব। ঘরে ও বাইরে কিংবা কর্মস্থলে কোথাও রেহাই পাওয়া যাচ্ছে না মশার কামড় থেকে। আর তাই সামনে বর্ষাকালকে কেন্দ্র করে ডেঙ্গুর আগাম প্রস্তুতি নিয়ে নগরবাসী চিন্তিত থাকলেও এতে তেমন মাথাব্যথা নেই নাসিকের। নগরবাসী জানান, নাসিকের ১৬ নং ওয়ার্ডে বসবাস করেন নাসিক মেয়র, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রভাবশালী কাউন্সিলর তার পরেও এ ওয়ার্ডে মশার উপদ্রব অনেক বেশী। মানুষ ঘরে বসবাস করা দুরহ হয়ে পড়েছে। বর্তমানে করোনা নিয়ে সারাদেশ বিপাকে। করোনার কারণে অনেকে সঠিক ভাবে চিকিৎসা পাচ্ছে না। আর এর উপর মশাবাহিত ডেঙ্গুর উপদ্রব বাড়লে তা ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়বে। এ জন্য নগরবাসীর দাবি দ্রæত মশা নিধন করে কম পক্ষে নগরবাসীকে ডেঙ্গুর পাদুভার্ব থেকে রক্সা করাে হোক। স¤প্রতি শহরের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা এই নিয়ে করছেন ব্যাপক সমালোচনা। শুধু বসতঘর বাড়ি অফিস-আদালত নয় মশার উপদ্রব থেকে চলতি পথেও রেহাই পাওয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যে ডেঙ্গুর উপদ্রব শুরু হলে সেটি ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে শহরে বৃদ্ধি পাওয়া মশার উপদ্রবের পরও নাসিকের কোনো ব্যবস্থা না থাকার পাশাপাশি সামনের বৃষ্টির দিনকে কেন্দ্র করে ডেঙ্গুর আগাম কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। শহরের দেওভোগ এলাকায় বসবাসরত লিয়াকত হোসেন নামক এক ব্যাক্তি বলেন, মশার যন্ত্রনায় একেবারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি। দিনে কিংবা রাতে মশার জন্য কোথাও বসতে কিংবা শুতে পারছি না। ঘরে-বাইরে মশার ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। দ্রæত এ মশার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে সামনে নাসিককে বিপদের সম্মুখীন হতে হবে। নাসিকের ১৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ বলেন, বর্তমানে আমরা করোনা নিয়ে ভীষন চিন্তিত। তারপরেও মশা নিধনে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। মশার বিস্তার রোধে আমরা অচিরেই কাজ করবো। ইতোমধ্যে ওষুধ দেওয়া শুরু হয়েছে, সেগুলো ছিটানো হবে। আমাদের কাজের পাশাপাশি আমরা নগরবাসীকে আহŸান করি, যেন তারা সচেতনভাবে বাড়িঘর ছাদ আঙ্গিনা এসব পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখে। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী (সিইও) মো. আবুল আমিন বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে কোভিট-১৯ করোনা ভাইরাস নামক একটি সংক্রমন নিয়ে ব্যস্ত রয়েছি। তারপরেও নগরবাসীর বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে একটি হচ্ছে মশা নিধন। ডেঙ্গু মোকাবিলায় এবং মশা নিয়ন্ত্রনে বিশাল বাজেটের একটি অংশ রেখেছি। ইতোমধ্যে প্রতিটি ওয়ার্ডে ৫ জন করে কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে যারা নিয়মিত মশার ওষুধ ছিটাচ্ছে এবং আমি প্রতিদিন সকালে অফিসে এসেই তিনটি ওয়ার্ডে ফোন দিয়ে খোঁজ নেই। পাঁচজন কর্মী সঠিকভাবে কাজ করছে কিনা। লার্ভা ধ্বংস করতে পারলে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। সেটি করতেও আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমরা আমাদের কাজের উপর আরও বেশি গুরুত্ব দেবো এবং আশা করছি খুব দ্রততম সময়ে মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *