আজ: মঙ্গলবার | ১১ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ২১শে জিলহজ, ১৪৪১ হিজরি | সকাল ৬:৫০

সংবাদের পাতায় স্বাগতম

করোনায় আ’লীগের বিতর্কিতদের স্বস্তি

ডান্ডিবার্তা | ১২ জুলাই, ২০২০ | ৩:৫৫

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগের বিতর্কিত নেতারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল। পরবর্তিতে ঢাকার পর সাড়া দেশে আওয়ামীলীগের শুদ্ধি অভিযান শুরু হলে নারায়ণগঞ্জের বিতর্কিত আওয়ামীলীগার আত্মগোপনে ছিলেন বেশ কিছু দিন। এমনকি নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগের বিতর্কিতদের একটি তালিকা প্রস্তুত করে তা প্রধানমন্ত্রীর বরাবর জমাও দিয়েছিল একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থা। আর সেই তালিকা অনুযায়ী বিতর্কিতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা থাকলেও নারায়ণগঞ্জে করোনা ভাইরাসের বিস্তার ছড়িয়ে পড়ায় নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীরে শুদ্ধি অভিযান থেমে যায়। যার ফলে করোনা পরিস্থিতির কারণে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের বিতর্কিত নেতারা স্বস্তিতে রয়েছেন। তবে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দলের ভার্বমূতি অক্ষুন্নু রাখতে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা নারায়ণগঞ্জে শুদ্ধি অভিযান শুরু করবেন বলে আওয়ামী লীগের বিশ্বস্ত সূত্রে জানাগেছে। সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায়ও ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতাদের নাম ব্যবহার করে এলাকার আধিপত্য বিস্তার, তেল সেক্টর, ঝুট সেক্টর নিয়ন্ত্রণ, জমি দখলে লিপ্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এসব অপরাধ কর্মকান্ড নিয়ন্ত্রণে জেলার শীর্ষ নেতাদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন বলে মনে করছেন দলের তৃনমূলের নেতাকর্মীরা। যদিও করোনা পরিস্থিতির কারণে এখন সব বন্ধ রয়েছে। নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে শাসক দলের নাম ব্যবহার করে আওয়ামী লীগের ও অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা বিতর্কিত কর্মকান্ডে অংশ নিচ্ছে। এমনকি এসব বিতর্কিত কাজের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নানা বিতর্কে জড়িয়ে পরেছে। এসব কারনে বিভিন্ন সময় আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তবে দলের নাম ব্যবহার করে এসব সুবিধাবাদী নেতাদের বিরুদ্ধে এখনি সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া জরুরী হয়ে পরেছে বলে মনে করছেন দলের তৃনমূলের নেতাকর্মীরা। বোদ্ধা মহলের মতে, আওয়ামী লীগের বিতর্কিত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া না হলে দলের সাধারন কর্মীদের মধ্যে এর বিরূপ প্রভাব পরবে। এছাড়া ধীরে ধীরে জন সমর্থন হারাবে এ দলটি। বিশেষ করে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে আওয়ামী লীগের কিছু নেতা নানা বিতর্কে জড়িয়ে পরেছে। এলাকার আধিপত্য বিস্তার, টেন্ডারবাজী, ঝুট সেক্টরের নিয়ন্ত্রণ, জমি দখল কিংবা নদী পথের চোরাই তেলের ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি করেছিলেন। এলাকার আধিপত্য বিস্তার ও টেন্ডারবাজী নিয়ে বিরোধের জের ধরে নারায়ণগঞ্জে বেশ কয়েকটি হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছিল। এসব হত্যাকান্ডগুলো নিয়ে শুধু দেশেই নয় দেশের বাইরেও নানা সমালোচনা হয়েছিল। তাই কেন্দ্রীয় নেতারা নারায়ণগঞ্জে শুদ্ধি অভিযানের প্রস্তুতি নিয়েছিল। কিন্তু এর আগেই করোনা পরিস্থিতির কারণে স্বস্তি ফিরে পায় বিতর্কিত নেতারা। এছাড়াও ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ, সোনারগাঁ, আড়াইহাজার, রূপগঞ্জ এলাকায় শাসক দলের নাম ব্যবহার করে কিছু নেতাকর্মী একের পর সন্ত্রার্সী কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ছে। যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। শুধু নারায়ণগঞ্জের নেতাকর্মীরাই বিতর্কিত কর্মকান্ডে জড়িয়ে পরেছে তা নয়, এ চিত্র গোটা দেশে বিরাজ করছে। আর এ কারনে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্নু হচ্ছে বিষয়টি উপলুদ্ধি করেই আওয়ামী লীগের হ্ইাকমান্ড বিতর্কিত নেতাকর্মীদের তালিকা করেছিল কেন্দ্র। যা করোনা পরিস্থিতির কারণে স্থগিত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *