আজ: শনিবার | ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ২রা সফর, ১৪৪২ হিজরি | রাত ১০:১২

সংবাদের পাতায় স্বাগতম

কাঁচপুরের সন্ত্রাসীরা সক্রিয়

ডান্ডিবার্তা | ২৬ জুলাই, ২০২০ | ৫:৪৩

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
সোনারগাঁ কাঁচপুর এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী ইকবাল-জিয়া-বাবুল গং তিন সক্রিয়দের মধ্যে একজন মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবনকারী জিয়া উদ্দিন ওরফে ফর্মা জিয়া নতুন রূপে আবদ্ধ হলেন। দীর্ঘদিনের এধরনের অপরাধীরা বিভিন্ন অপরাধে যুক্ত থাকার পরেও, থানার ওসির শেল্টারে রয়েছেন বলে জানা গেছে। প্রকাশ্য মদ সেবনকারী জিয়াসহ সকলে জড়িত রয়েছেন অপরাধের সাথে। কাঁচপুর এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা প্রশাসনের নাকের ডগায় অপরাধ করেই যাচ্ছে। জানাগেছে, কাঁচপুর এলাকার দীর্ঘদিনের বিভিন্ন অপরাধী একাধিক মামলার আসামী ও এলাকার চিহ্নিত শীর্ষ সন্ত্রাস ইকবাল-জিয়া-বাবুল চক্রটি ওসির ছত্র-ছায়ায় রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই সকল সন্ত্রাসীরা থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে ঠান্ডা মাথায়, সাধারন লোকজন ও মহাসড়কের পরিবহণ সেক্টরকে জিম্মি করে রেঁখেছেন। এধরনের দুর্নীতি বাণিজ্য’র পত্র-পত্রিকায় প্রকাশ হলে থানার ওসি হতাশ হয়ে বিভিন্ন মাধ্যমের সহযোগীতা নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও জানা যায়। এখন ওসির দৌঁড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন দপ্তরে। ইকবাল-জিয়া-বাবুলগং সন্ত্রাসী বাহিনীদের কাজ হলো এলাকায় বাড়ি-ঘর দখল, চুরি-ডাকাতিসহ নানা অপকর্ম করে তাঁদের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। আর এ সকল অপকর্মের ভাগ পাচ্ছেন ওসি নিজে। এমন খবর রয়েছে এলাকাবাসীর কাছে। জানাগেছে, ওসি মনিরুজ্জামান যোগদান করার পরপরই কাঁচপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন মাধ্যমে অবৈধ অর্থের লেন-দেন করে, এলাকায় ত্রাসের আধিপত্য সৃষ্টি করেছেন। এধরনের সন্ত্রাসীরা কিছু সংখ্যাক জনপ্রতিনিধি ও নামধারী আওয়ামী পন্থি নেতারে ছত্রছায়ায় রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ সূত্রে জানাযায়, ইকবাল (৩৫) পিতা হারুন আর রশিদ, জিয়াউর রহমান(৩৫) পিতা ফজলুল হক, বাবুল(৪০) পিতা নুরু মিয়া, হেলাল উদ্দিন(৪৫) পিতা মৃত ওয়াহিদ আলী, সাগর(৩০) পিতা অজ্ঞাত গংরা, সর্বসাং কাঁচপুর সোনাপুর, থানা সোনারগাঁ, জেলা নারায়ণগঞ্জ। গভির রাঁতের আধাঁরে স্থানীয় এলাকায় বাড়ি-ঘর চুরি-ডাকাতি ও পরিবহণ চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন প্রকার অনৈতিক কর্মকান্ডে যুক্ত রয়েছেন তারা। ওই অভিযুক্তদের নির্মম অত্যাচারে এলাকার সাধারন মানুষ অতিষ্ট হয়ে পড়েছেন। এদের অতিষ্টতায় এলাকায় কারো কাছে বিচার বিশ্লেণের জন্য গেলেও, কোন প্রকার বিচারের সুযোগ মিলে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনেচ্ছুকদের মতে জানাগেছে, ইকবাল-জিয়া-বাবুল গংরা মাদক সেবনকারী, মাদক ব্যবসায়ী, চুরি-ডাকাতি, পরিবহণ চাঁদাবাজি, নারী ধর্ষণসহ একাধিক মামলার আসামী তারা। কাঁচপুর এরাকায় তারা দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছেন। কিন্তু তারপরেও তারা তাঁদেরকে আইনের কাছে সোপর্দ করছেননা। এযেন তারা দিনে দিনে রামরাজত্ব কায়েম করতে চলেছেন। এখন এলাকায় ওই সক্রিয় চক্রটির জন্য সাধারন মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এ বিষয়ে কাঁচপুর ইউনিয়ন সংরক্ষিত ৪,৫ও ৬নং ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বার জহুরা আক্তার শান্তা সাংবাদিকদের জানান, ইকবাল-জিয়া-বাবুল গংরা এলকার শীর্ষ সন্ত্রাস। তারা মাদক সেবনকারী ও মাদক ব্যবসায়ী, চুরি-ডাকাতিসহ নানা অপ-কর্মে জড়িত রয়েছেন। কিন্তু এধরনের অপরাধীদের কথা মতো সোনারগাঁ থানার ওসি মনিরুজ্জামান ও এসআই বোরহান আমার পরিবারকে হয়রানি করে থাকেন। তিনি বলেন, ওই চিহ্নিত সন্ত্রাসীদেরকে যতক্ষুন পর্যন্ত গ্রেফতার না করা হবে, ততক্ষুন পর্যন্ত ওসিসহ সকলের বিরুদ্ধে আইনের উর্ধ্বে প্রতিবাদ চালিয়ে যাবো। জোহুরা বলেন, আমি এধরনের সৎ নির্ভীক ভাবে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করাতে। সন্ত্রাসী ইকবাল-জিয়া-বাবুল তারা আমাকে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে থাকেন। তাঁদের প্রশ্ন হলো? তাঁদের কথা মতো সমাজে চলতে হবে, অন্যথায় বাংলাদেশের বিভিন্ন থানা ও আদালতে আমার পরিবারকে মামলা দিবেন বলে হুমকি প্রদান করেন। এখন এলাকায় তাঁদের অতিষ্টতায়, আমি একজন নারী হয়ে অনেক অংশে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আরও বলেন, এখন সমাজে অবৈধ অর্থের লোভে দুষ্কৃতিমনা লোকজন ভুরপুর। কারণ আমাকে নিয়ে এর আগে ভুয়া ‘না.গঞ্জ কন্ঠ’ অনলাইনে খারাপ মন্তাব্য করে, একটি মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করেন। যা একদম ভিত্তীহিন মিথ্যা বানোয়াট কথা প্রকাশ করেছেন, আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। তিনি জানান, গত ১৩ জুলাই দুপুর ১২ ঘটিকার সময় আমার সিলেট রোডস্থ পরিবহণের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে জনি ও বাপ্পি নামে দুই কর্মচারীকে মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলায় গ্রেফতার করেন। এমনকি এ চাঁদাবাজি মামলায় আমার পরিবারের নিজের ছোট ভাই জিয়াউর রহমানকেও মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেন। মামলার বাদী এসআই মো: বোরহান দর্জি বলেন, আমি মিথ্যা মামলা গ্রহণ করিনি। এদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেঁয়েছি, তাই গ্রেফতার করে নিয়ে এসেছি। এধরনের চাঁদাবাজির সাথে যেই যুক্ত থাকবে, তাঁদেরকে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এবং অভিযুক্ত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে জানার চেষ্টা করলে, তিনি সেবিষয়ে কোন প্রকার কথা বলতে রাজি হননি। তথাপি বিষয়টি ‘ওসির’ দোহাই দিয়ে থাকেন তিনি। এবিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো: জায়েদুল আলম সাংবাদিকদের জানান, আমি এবিষয়ে কিছু করতে পারবোনা, বিষয়টি সোনারগাঁ থানার ওসি দেখবেন। উল্লেখিত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে একাধিকবার অভিযোগ প্রদান করলেও কোন প্রকার আমলে নিচ্ছেন না এসপি। তারা বিষয়টি নাটকীয় ভাবে কথা বলে এগিয়ে যাচ্ছেন। জেলা প্রশাসক মো: জসিম উদ্দিন জানান, আমার কাছে যত গুলো অভিযোগ প্রেরণ করা হয়েছে, ততগুলো অভিযোগ পুলিশ সুপারকে পাঠিয়ে দিয়েছি। বিষয়টি আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য। কিন্তু তারা কোন প্রকার আমার কথা শুনছেন না। আমি একাধিবার এসপিকে বলা শর্তেও, তিনি কোন প্রকার আমলে নিচ্ছেন না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *