আজ: বৃহস্পতিবার | ৪ঠা জুন, ২০২০ ইং | ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১২ই শাওয়াল, ১৪৪১ হিজরী | বিকাল ৫:৪৯

সংবাদের পাতায় স্বাগতম

কাপুরুষদের প্রতি ধিক্কার হোক মুজিব শতবর্ষের অঙ্গিকার

ডান্ডিবার্তা | ১৭ মার্চ, ২০২০ | ৭:২১

এই কাল এই সময়
হাবিবুর রহমান বাদল
স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ছিলেন এদেশের মানুষের কাছে এতটাই প্রিয় যে, ৭১’ সালে তার ডাকে বাংলার মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পরে নিজের প্রাণ হাসি মুখে উৎস্বর্গ করতে দ্বিধা করেননি। একজন পিতার বা কোনো পীর বুজর্গ ব্যক্তির নির্দেশ পালনে তার অনুসারীরা যেমন গুরুত্বের সহিত পালন করেন তেমনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশ পালন করতে মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিলেন বাংলার আবাল বৃদ্ধ বনিতা। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী শেখ মুজিবুর রহমান শুধু একজন নেতা নন, পিতা নন, জাতির জনক নন, বিশ্ব নেতাই নয়, তিনি ছিলেন সমগ্র বাঙ্গালী জাতির অবিসংবাদিত নেতা। যার কথা বার্তা চিন্তা চেতনা মহান আল্লাহ পাকের প্রতি কৃতজ্ঞতার কথা তার ভাষনে বার বার প্রমাণ রেখেছেন। ইসলাম ধর্মে শরীয়তের বিধান যেমন জিহাদের ডাক কোনো ব্যক্তি থেকে নয় সরকার প্রধান থেকে তার ঘোষনা আসতে হয় তেমনি ৭০ এর নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর আওয়ামীলীগ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও তাদের জোড় করে ক্ষমতার বাইরে রাখা হয়। অতঃপর শেখ মুজিবুর রহমান তার ৭ মার্চের ভাষনে কবির কবিতার মতো জিহাদের ডাক দেন, বলা চলে কারণ শেখ মুজিব ছিলেন নির্বাচিত জনগনের প্রতিনিধি। তার নীতি নৈতিকতা আদর্শ বিশ্বাস ভালবাসা জনগনের কাছে এতটাই প্রিয় ছিল যে, তার ডাকে সারা দেওয়ার জন্য দেশ মাতৃকার স্বাধীন করার যে দীপ্ত শপথের বলিয়ান এতটাই শক্ত এবং প্রখর ছিল মানুষ তার পরিবার পরিজন, ছেলে, মেয়ে, আত্মীয়-স্বজন সব ভুলে গিয়ে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ পালনে মরিয়া হয়ে উঠেন। যুগে যুগে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে এদেশে বিভিন্ন পীর আউলিয়ার আগমন ঘটেছে তেমনই ভারতে খাজা মাঈনউদ্দিন চিশতী বাংলাদেশে হযরত শাহজালাল ইয়েমেনী (রঃ) এর পর বাঙ্গালী জাতিকে শৃঙ্খল মুক্ত করতে যে মহান নেতার আগমন ঘটে তিনি হলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান । আজ ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শত জন্ম বার্ষিকী। আজকের এই শুভ দিনে বাংলাদেশের স্রষ্টা জীবনভর যিনি বাঙ্গালী জাতিকে মুক্ত করতে কারগারে জীবনের অধিকাংশ সময় ব্যয় করেছেন সেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙ্গালী জাতিকে পরাধীন রাষ্ট্রের হাত থেকে মুক্ত করে বাংলাদেশ নামের লাল সবুজ পতাকার নতুন রাষ্ট্র উপহার দিয়েছেন-দিয়েছেন স্বাধীনতা। এটা পর্যালোচনা করলে দেখা যায় তার ঈমানী দায়িত্বের উচ্চতা ছিলো এতটাই উর্ধ্বে যে, সারা পৃথিবীর অনেকের সাথে তুলনা করা হলেও মুসলমান হিসেবে তার তুলনা অলি আউলিয়াদের মত। বাংলার মাটি আলো, বাতাস সবকিছুর সাথে তার রক্তের বন্ধন এতটাই গভীর ছিল যে, একমাত্র বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মত নেতা পেয়েছিলাম বলে এদেশটি দুইবার স্বাধীন হয়েছিল বলা চলে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর পাকিস্তানের বন্দিদশা থেকে বঙ্গবন্ধু দেশে এসে সরকার গঠনের পর যখন অনেক রাষ্ট্রই স্বীকৃত দিচ্ছিল না তখন বঙ্গবন্ধুকে তখন ওআইসির পক্ষ থেকে লাহোরে অনুষ্ঠিত্ব সম্মেলনে যোগদেয়ার প্রস্তাব দেয়ার পর বঙ্গবন্ধু স্পষ্ট জানিয়ে দেন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি না দিলে তিনি ওআইসি সম্মেলনে যাবেন না। তখন পাকিস্তান বাধ্য হয়ে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। অর্থাৎ ৭১’ এর ১৬ ডিসেম্বর পাক হানাদারদের পরাস্ত করে বাংলাদেশ প্রথম স্বাধীন হয় আবার ৭৪ সালে লাহোরে অনুষ্ঠিত্বব্য ওআইসির সম্মেলনে যোগ দেয়ার আগে পাকিস্তান বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক ভাবে স্বীকৃতি দেয়। অর্থাৎ বিশে^ বাংলাদেশই একমাত্র রাষ্ট্র যা পরাজিত শক্তির কাছ থেকে দু’বার স্বাধীনতা অর্জন করেছে। এ সম্পর্কে জানা যায়, বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে পাকিস্তানের লাহোরে ১৯৭৪-এর ২২-২৪ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ওআইসির দ্বিতীয় শীর্ষ সম্মেলনে সদস্য হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেয়। আমাদের বাংলাদেশের জন্য লাহোর শীর্ষ সম্মেলনটি খুব তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। বঙ্গবন্ধু দৃঢ়ভাবে ঘোষণা দেন যে, পাকিস্তান আগে বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশ হিসেবে স্বীকৃতি না দিলে তিনি লাহোর যেতে পারেন না, যাবেন না। প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টোর ওপর ওআইসিভুক্ত দেশগুলো থেকেও প্রচণ্ড চাপ পড়ে। ভুট্টো বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়ার পর কয়েকজন ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকায় এসে বঙ্গবন্ধুকে স্বসম্মানে তাদের প্লেনে করেই লাহোর নিয়ে যান। বঙ্গবন্ধুকে লাহোর বিমানবন্দরে যথাযথ অভ্যর্থনা জানানো হয়, মর্যাদা ও গুরুত্ব দেয়া হয়। উল্লেখ্য, জুলফিকার আলী ভুট্টোকে যখন ১৯৭৯ সালের এপ্রিলে ফাঁসি দেয়া হয়, তখন কিন্তু তিনি ওআইসির সভাপতি। ১৯৭৪-এ ওআইসি সামিটে ভুট্টো সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর ১৯৮১ পর্যন্ত আর কোনো শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়নি। ৭ বছর পর ১৯৮১-তে নতুন হিজরি শতাব্দীর শুরুতে মক্কা ও তায়েফে তৃতীয় শীর্ষ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এ মাটির সাথে বঙ্গবন্ধুর প্রেম দেশাত্ববোধ এর কথা নতুন করে লিখে শেষ করা যাবেনা। পাকিস্তানের কারাগারে বঙ্গবন্ধুর সামনেই তৎকালিন ক্ষমতাসীনদের আনাগোনা দেখে বঙ্গবন্ধু বুঝতে পেরেছিল ওরা তাকে ফাঁসি দেবে। তখন এক টুকরা মাটি তুলে নিয়ে কপালে মেখে বলেছিল “হে মাটি আমি তোমাকে ভালবাসি, আমাকে যদি ওরা ফাঁসি দেয় মৃত্যুর পর যেন আমি তোমার কোলে চির নিন্দ্রায় শায়িত থাকতে পারি” এবং বলেছেন আমার মুক্তি আন্দোলনের তরুনরা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে শহীদ হয়েছেন। যদি কোনো দিন পারি নিজের রক্ত দিয়ে সেই রক্তের ঋণ শোধ করে যাব। বঙ্গবন্ধুর জীবন ছিলো বাংলার মানুষের জন্য উৎসর্গিত। তিনি নিজেই বলেছেন সেকথা। বিদেশের মাটিতে সাংবাদিক ডেবিড ফ্রষ্ট যখন সাক্ষাৎকার নেন তখন বঙ্গবন্ধুকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, হোয়াট ইজ ইউর কোয়ালিফিকেশন? উত্তরে বলেছিলেন, আই লাভ মাই পিপল। পরের প্রশ্ন ছিল, হোয়াট ইজ ইউর ডিসকোয়ালিফিকেশন? উত্তরে বলেছিলেন, আই লাভ মাই পিপল ঠু মাচ। সত্যিই বাংলার মানুষের প্রতি বঙ্গবন্ধুর হৃদয়ের ভালবাসা এত গভীর ছিলো যে, সমুদ্রের গভীরতা পরিমাপ করা যায় বাঙালী জাতির প্রতি দুঃখী মানুষের প্রতি তার যে ভালবাসা এটা কোন দিন নিরুপন করা যায়না। দীর্ঘ আন্দোলন এর ফসল ৭১ এর মহান স্বাধীনতা। পরাধীন জাতি ও তার গ্লানি ভূলে বাংলার মুক্তি আন্দোলনের অগ্রদূত শেখ মুজিবুর রহমান যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশকে পূর্ণগঠন করার জন্য আবার অর্থনৈতিক যুদ্ধ ঘোষনা করেন তখন দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্রের বলি হয়ে ১৯৭৫ সালে ১৫ আগষ্ট ফযর নামাজের আযানের ধ্বনি উচ্চারিত হচ্ছিল তখনই ঘটেছিল মানব সভ্যতার ইতিহাসের নারকীয় হত্যাকান্ড। পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর ট্রেনিং প্রাপ্ত পরবর্তীতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কতিপয় ঘৃন্য, পাপিষ্ট কাপুরুষরা জাতির মহানায়ক বিশ্ববন্ধুকে স্ব-পরিবারে হত্যা করে। আর সেই বাঙ্গালী জাতির মহাকবির হত্যার বদলা নিতে তৎকালীন সময়ের টগবগে যুবক মুক্তিযোদ্ধা নারায়ণগঞ্জের নাসিম ওসমানও তার কতিপয় বন্ধু বঙ্গবন্ধু হত্যার বদলা ও প্রতিশোধ নিতে অস্র হাতে তুলে নেয়। প্রতিশোধের শক্ত প্রতিরোধ গড়তে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর সাথে যোগদান করেন। পরবর্তীতে আন্দোলন সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচার চাইতে গিয়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের এই অনুসারিদের দীর্ঘদিন ভারতে জীবন যাপন করতে হয়। পরবর্তিতে নাসিম ওসমান অবস্থানগত কারণে জাপাতে যোগদিলেও তিনি নিজের আদর্শ অনুভূতির জায়গা থেকে কখনো জাতির জনককে মুছে ফেলেননি। পিতার প্রতি সন্তানের যে দায়িত্ব কর্তব্য থাকে বঙ্গবন্ধুর প্রতি নাসিম ওসমানের দায়িত্ব ছিল পিতৃতুল্য। সামরিক জান্তারা সর্বক্ষণ নাসিম ওসমানদের মতো নেতাদের বন্দুকের নলের সামনে রাখতেন এ কারনে এরকম প্রতিবাদী কন্ঠস্বরদের যদি চির তরে নির্মূল করা যায় তাহলে আওয়ামীলীগ এর ক্ষমতায় আসার সম্ভবনা নেই। বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচার এদেশের মাটিতে কখনোই হতো না। সামরিক অত্যাচার অতিষ্ঠ হয়ে জাতির পিতার হত্যার বিচারের কৌশল হিসেবেই নাসিম ওসমান রাষ্ট্রপতি এরশাদের জাতীয় পার্টিতে যোগদেন। পরবর্তীতে জাতীয় পার্টি থেকে তিনবার এমপি নির্বাচিত হন তিনি। নাসিম ওসমান জাতীয়পার্টির নেতা হওয়া সত্বেও জয়বাংলা ম্লোগান প্রতিটি অনুষ্ঠানে দেয়ার রেওয়াজ চালু করেন। জীবনের শেষ পর্যায়ে রাজনীতিতে জাতীয় পার্টি থেকে নিজ দল আওয়ামীলীগে ফিরে আসতে চাইলেও মাতৃতুল্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শক্ত এজেন্ডা হিসেবেই নেত্রীর নির্দেশে জাতীয় পার্টিতে রয়ে যান। আর ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ওসমানী ষ্টেডিয়াম এর ভাষনে শেখ হাসিনা বলেছিলেন আপনারা নাসিম ওসমানকে চেনেন। উনি কিন্তু নৌকার ছেলে মার্কা দিয়েছি লাঙ্গল। আমাদের মহাজোট প্রার্থী আপনারা বিজয়ী করবেন। আসলেই নাসিম ওসমান নৌকার ছেলে। আর নাসিম ওসমানদের মতো নেতার জন্য ৯৬ সালে জাতীয় পার্টির সাথে আওয়ামীলীগ এর ঐক্যমত্যের সরকার গঠন করে ইতিহাসের কালো আইন ইনডেমিনিটি বাতিল করে বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচার এবং পরবর্তীতে রায় কার্যকর করা হয়। এজন্য নাসিম ওসমানের অবদান ছিল। আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পিছনে জাতীয়পার্টির নিশর্ত সমর্থন দেয়ার পিছনে নাসিম ওসমানের অবদান ছিল শতভাগ। কখনো জোট কখনো বিরোধীদল জাতীয় পার্টি যখন যেভাবে প্রয়োজন ছিলো এরশাদের দলকে সেভাবেই বাইপাস সার্জারী করে ক্ষমতার মসনদে আওয়ামীলীগ। আর সকল রাজনৈতিক কারণে নেপথ্যের কারিগর ছিলেন নারায়ণগঞ্জের প্রয়াত রাজনৈতিক নেতা নাসিম ওসমান। কিন্তু আওয়ামীলীগ থেকে এই নৌকার ছেলে কখনো এমপি মন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন না। সব সময় বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে লালন করতেন। নাসিম ওসমান আজ প্রয়াত হলেও তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা দূরদর্শীতা নীতি আদর্শ নারায়ণগঞ্জের মানুষ গভীর শ্রদ্ধার সহিত স্বরণ করেন। নাসিম ওসমানের প্রতি মানুষের হৃদয় নিংড়ানো আবির মাখা ভালবাসা হৃদয়ের গভীর থেকে প্রকাশ পায়। নাসিম ওসমানের মৃত্যুর পর সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আবেগময় বক্তব্যে তার প্রমান পাওয়া যায়। আজ হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শত বার্ষিকীতে নাসিম ওসমানকে স্বরণ করার কারণ হচ্ছে আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠার আগে বঙ্গবন্ধু এখানে একাধিকবার বৈঠক করেছেন। সেদিন বঙ্গবন্ধুর হত্যার প্রতিবাদে যদি নারায়ণগঞ্জে ক্ষমতাসীন দলের পদ পদবী দখল করে যারা আজ শতকোটি কিংবা কোটিপতি হয়েছেন তারা যদি অস্র হাতে নানিয়েও রাজপথে নামতো তাহলে আওয়ামীলীগকে ২১ বছর ক্ষমতার বাইরে থকতে হতোনা। আজকে বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকীতে সেই বসন্তের কোকিলদেরকে ধিক্কার জানানো ছাড়া বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্দা জানানোর বিকল্প পথ আমি খোঁজে পাচ্ছি না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *