Home » প্রথম পাতা » রূপগঞ্জ ভ’মি অফিসে অনিয়মই যেন নিয়ম

কিশোর গ্যাং নিয়ে বিপাকে

২১ মে, ২০২২ | ৯:৩২ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 99 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

আবারো শুরু হয়েছে কিশোর গ্যায়ের অপতৎপরতা। মাদক ব্যবসা ও খুনসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে কিশোর অপরাধীরা। আর তাদের নিয়ন্ত্রণ করছে এক শ্রেনীর রাজনৈতিক নেতারা। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি ঘটনায় প্রশাসনকে মাথা ঘামাতে হচ্ছে। কিভাবে এ কিশোর গ্যাংদের প্রতিহত করা যায়। নয়তো আগামী প্রজন্মের এই কিশোর অপরাধীদের কারণে মেধা বিকালে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে সমাজের জন্য। বেড়ে যাবে অপরাধ প্রবনতা। চলে যাবে নিয়ন্ত্রণের বাইরে। বর্তমানে উঠতি বয়েসের এই সকল কিশোরদের দেখা যায় বিভিন্ন স্কুল কলেজ বা বিভিন্ন পার্কসহ নদীর তীরের ওয়াকয়েতে আড্ডা। আবার কখনো দেখা যায় মাদক সেবনসহ মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে যাচ্ছে। আর অনেক সময় এ সকল কিশোর গ্যাংদের দিয়ে কতিপয় রাজনৈতিক নেতারা টাকার বিনিময়ে মিছিলে নিয়ে লোক দেখাচ্ছে। আর কিশোর গ্যায়ের সদস্যরা ঐ সকল রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় থেকে অপরাধ কর্মকান্ড করতে দ্বিধা করছে না। কয়েক দিন আগে ইসদাইরে খুন হয় স্কুল ছাত্র ধ্রুব। তা হয় প্রেম বা কে বড় কে ছোট এর ঝগড়া নিয়ে। ১৩জন কিশোর মিলে ধ্রুব্রকে খুন করে। এ খুনের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া ৩ কিশোর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্ধী দেয়। তাদের মধ্যে রিপন, রুদ্র চন্দ্র ও অন্তর চন্দ্র পৃথক দুটি আদালতে দোষস্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দীতে তারা বলেছে ক্লাসের ধ্রুব চন্দ্র সিনিয়র হলেও বয়সে তাদের জুনিয়র ছিলো। এজন্য তাকে মান্য করে চলতে বলেন তারা। কিন্তু ধ্রুব তাদের কোন কথা না শুনে নিজের মত চলার চেষ্টা করতেন। এনিয়ে দ্বন্ধে ধ্রুবকে পরিকল্পিতভাবে তারা সঙ্গবদ্ধ হয়ে মারধর ও ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে। র‌্যাব-১১ গত বৃহস্পতিবার ফতুল্রা থেকে ৩ কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যকে গ্রেফতার করে। তবে নারায়ণগঞ্জে অধিক কলকারখানা ও ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানের কারণে তৈরী হয়েছে বিপুল পরিমান ঘনবসতি। নতুন নতুন মানুষের আগমনের কারনে পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে অরাজকতা। মানুষের ঘনত্বের সুযোগ নিয়ে পাড়া মহল্লায় তৈরী হয়েছে কিশোর গ্যাং। ২০১৪ সালের পর থেকে ঘনবসতিপূর্ন অঞ্চলে ধীরে ধীরে দানা বাঁধতে শুরু কিশোর গ্যাং। প্রথমদিকে স্থানীয় মুরুব্বীদের অমান্য করা, পাড়া মহল্লায় আড্ডাবাজি, ইভটিজিং এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলো এঁদের কার্যকলাপ। স্থানীয়ভাবে তাদের বিচার আচার করে নিবৃত করার চেষ্টা চলতো। কিন্তু ধীরে ধীরে শক্তিশালী হয়ে উঠে গ্যাং কালচার। এসব অভিযোগ থানায় আসা শুরু করলে বিষয়টি  হালকাভাবেই নেয়া হতো। কিন্তু ধীরে ধীরে কিশোর গ্যাং নারায়ণগঞ্জে মাদকের পরে সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত কয়েক বছরে কিশোর গ্যাং এর হাতে এবং গ্যাং কালচারে জড়িয়ে উঠতি বয়সী একাধিক তরুণ নিহত হয়েছে। গ্যাং কালচারের প্রতিবাদ করায় আহত ও লাঞ্চিত হতে হয়েছে বহুজনকে। এলাকায় ত্রাস বিস্তার, লুটপাট, তান্ডব এবং আধিপত্য নিয়ে প্রতিনিয়ত সংঘাত সংঘর্ষ লেগেই থাকছে। মাঝে মধ্যে পুলিশের উপস্থিতি এবং দু’একজন গ্রেপ্তার হলেও জামিনে বেরিয়ে এসে পুনরায় হামলা চালাচ্ছে বাদীর পরিবারের উপর। এভাবে কিশোর গ্যাংয়ের উপর অতিষ্ঠ হয়ে এলাকা ছাড়ছেন অনেকেই। তবে বিষ্ময়কর হলেও সত্য, কিশোর গ্যাং রুখতে পুলিশ প্রশাসন বেশ কয়েকবার জিরো টলারেন্স, অ্যাকশন, নির্মুল সহ নানান তত্ব ঘোষনা করেছেন। কিন্তু কোনবারই সুফল পায়নি এই শহরের বাসিন্দারা। বর্তমান ডিআইজি হারুন অর রশিদ নারায়ণগঞ্জে এসপি থাকাকালীন সময়ে শহরে কিছুটা কিশোর গ্যাং এর ত্রাস কমলেও তিনি চলে যাবার পর আবারও গ্যাং কালচার পুরোনো অবস্থায় ফিরে আসে। শুধু তাই নয়। ২০১৪ সাল থেকে নারায়ণগঞ্জ শহর, বন্দর ও ফতুল্লা অঞ্চলে যেসব জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারাই এখনও এসব এলাকায় জনপ্রতিনিধিত্ব চালিয়ে যাচ্ছেন। মানুষ তার দাবী দাওয়া ও সমস্যা থেকে উত্তরনে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করলেও কিশোর গ্যাং দমনে তাদের কোন ভ্রুক্ষেপই নেই। কিশোর গ্যাং দমাতে যে সম্মিলিত উদ্যোগ বা চেষ্টা দরকার তার কোন ছিটেফোঁটা দেখা যায়নি তাদের মাঝে। গণমাধ্যমে একের পর এক কিশোর গ্যাং এর বিভীষিকা ও তান্ডবের চিত্র ফুটিয়ে তোলা হলেও এনিয়ে চাপ দেননা কেউই। পুলিশ প্রশাসন বা সামাজিকভাবে এঁদের প্রতিহত করারও কোন উদ্যোগ নেয়া হয়না। ফলে দিনে দিনে কিশোর গ্যাং সাধারণ মানুষের জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুশিল সমাজের লোকজন বলছেন, কিশোরদের নানান ভাবে প্রশ্রয় এবং রাজনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িয়ে নেয়ার কারনেই আজকে এই গ্যাং কালচার তৈরী হয়েছে। ধীরে ধীরে তা বিশাল আকার ধারণ করেছে। স্থানীয় পাতি নেতা এবং ক্যাডার ভিত্তিক রাজনীতি চালানো নেতারা এখনও এঁদের ব্যবহার করে নিজের পেশী শক্তি বৃদ্ধি করে থাকে। ফলে, রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে ক্ষমতা পেয়ে তারা বেপরোয়া হয়ে উঠে। এসকল কারনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা তাদের বিষয়ে খুব একটা নজর দেয় না। কিন্তু সাংসদ ও মেয়রের মত যারা প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধি রয়েছেন তাদের এই বিষয়ে নজর দেয়া খুবই জরুরী। অন্যথায় নারায়ণগঞ্জকে আবারও বিপদজনক নগরীতে পরিণত করবে এই কিশোর গ্যাং। তাই এবার কিশোর গ্যাং নিয়ে বিপাকে রয়েছে প্রশাসন।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *