Home » প্রথম পাতা » দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, করোনা শনাক্ত হয়েছে ৬ হাজার ৩৬৪

কোনঠাসা না’গঞ্জ বিএনপি!

০৭ মে, ২০২১ | ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 43 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

করোনা পরিস্থিতির কারণে দেশের রাজনৈতি অঙ্গনে স্থবিরতা বিরাজ করছে। তবে করোনার সেকেন্ড ডেউ নিয়ন্ত্রনে আসা মাত্রই আবারো উজ্জীবিত হয়ে উঠবে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনৈতিক কর্মকান্ড এমনটাই আশাবাদ ব্যাক্ত করেছেন দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। বর্তমানে করোনা মহামারির কারনে অনেকটাই স্থবিরতা বিরাজ করছে দলীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে। তবে, করোনার ডেউ নিয়ন্ত্রনে আসা মাত্রই পূর্বের ন্যায় সকল দলের নেতাকর্মীরা রাজনৈতিক ময়দানে থেকে তাদের দলীয় কর্মসূচী পালনে নিযোজিত থাকবে এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহল। তবে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই নয়া নয়া রাজনৈতিক কৌশলের জাতাকলে বিএনপির অবস্থা শোচনীয়। কোনো দাবি নিয়ে যখনই রাজপথে নামার প্রস্তুতি নেবেন কিংবা সরকারবিরোধী কোনো পদক্ষেপে যাবেন ঠিক তখনই নেতাকর্মীদের বিভিন্ন মামলা পুনরুজ্জীবিত করে তাদের কোনঠাসা করা হচ্ছিল।

জানা যায়, বিএনপিকে নিস্ক্রিয় রাখার অন্যতম একটি কৌশল হচ্ছে একের পর এক বেশ কিছু ইস্যুতে বিএনপিকে ধোয়াশায় ফেলে রাখা। সূত্রমতে, রাজনৈতিক অঙ্গনে সাড়া দেশের ন্যায় নারায়ণগঞ্জ বিএনপির অবস্থাও এখন অনেকটা নাজেহাল টাইপ। একটি বিষয় নিয়ে আন্দোলনের প্রস্তুতি শেষ করার আগেই আন্দোলনের আরেকটি বিষয় চলে আসছে বিএনপির কাছে। আর তাই বিএনপির নেতাকর্মীরা পড়ে যাচ্ছে দ্বিধা-দ্বন্দের মাঝে। ঘুরে দাড়াতে চাইলেও সরকারের কিছু নীতি ও কৌশলের কাছে বারবার হার মানছে বিএনপির নেতাকর্মীরা এমনটাই মন্তব্য বিএনপি ঘরানার কিছু রাজনৈতিক সিনিয়র ব্যক্তিবর্গের। এছাড়াও নারায়ণগঞ্জ বিএনপির সিনিয়র নেতাদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ বলয় তৈরিতে এবং নিজ নিজ স্বার্থ হাসিলে ব্যস্ত হওয়ার কারণে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে শোচনীয় অবস্থা বিরাজ করছে বলে মনে করেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। তবে রাজণৈতিক বিশ্লেষক মহলের এমন সব মন্তব্য মানতে নারাজ নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীরা। গত জাতীয় নির্বাচনে ভোটের কোন পরিবেশ ছিলো না বা জনগন ভোট দিতে পারেনি বরং ভোটের আগের দিন রাতে আওয়ামীলীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাই ভোট দিয়ে রেখেছিলো এমন অভিযোগ করছে নির্বাচনের পর থেকেই। এদিকে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীদের মতে, গত নাসিক নির্বাচনে হারার পরেও সারাদেশের তুলনায় নারায়ণগঞ্জে বিএনপির অবস্থা ভাল ছিলো এবং বর্তমানেও আছে। তাদের মতে, বিএনপির মতো এতো বড় এবং জনপ্রিয় দলে সাংগঠনিক কিছু দুর্বলতা, পদ নিয়ে মন-মালিন্য থাকবে এটাই স্বাভাবিক। তার মানে এই নয় যে, বিএনপির অবস্থা নাজেহাল বা অন্যকিছু। বিএনপিতে যারা আছেন তারা সবাই শহীদ জিয়ার আদর্শের সৈনিক, তারা সবাই ঐক্যবদ্ধ। বর্তমানে দলের হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তের কারণে ও কৌশলগত কারণে অনেকসময় সবাইকে একসাথে আন্দোলন কর্মসূচীতে দেখা না গেলেও সময়মতো বিএনপির সকল নেতাকর্মীরা ঠিকই ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নামবে বলে মনে করেন তারা। তবে, নারায়ণগঞ্জ বিএনপির সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে দলীয় ফোরামে আলোচনা হচ্ছে বলেও জানান তারা। যদিও সাংগঠনিকভাবে দলকে গোছানোর বিষয়টি অনেক আগে থেকেই চিন্তা-ভাবনা চলছিলো, সেই ভাবনা থেকেই শীঘ্রই জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। মহানগর বিএনপির সীমানা ও মামলা সংক্রান্ত ঝামেলা নিস্পত্তি করার ব্যবস্থা করা হবে বলেও আহ্বায়ক কমিটি সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া জেলা ও মহানগর যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা, জেলা ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবকদল, ছাত্রদলের মতো গুরুত্বপূর্ণ সকল সহযোগী সংগঠনের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে আগেই। তাদের মতে, মূল দলের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষনা করা হয়েছে ভবিষত্যে সরকার বিরোধী আন্দোলন চাঙ্গা রাখতে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সকল কমিটি ঘোষণার মাধ্যমে দলকে সাংগঠনিক ভাবে শক্তিশালী করার জন্য দলীয় হাই কমান্ড ব্যবস্থা নিবেন এমনটাই প্রত্যাশা নেতৃবৃন্দের। তাছাড়া দলীয় নেতাকর্মীরা অন্য যে কোন সময়ের চেয়ে অনেক বেশী শক্তিশালী বলেও নেতৃবৃন্দ দাবি করেন। আর এই শক্তিশালী বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাই এই অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে দূর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবে বলেও নেতাকর্মীরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহলের মতে, বিরোধী দলের রাজনীতি করতে যে সাহসী ভূমিকা রাখার কথা সেই সাহস নেই অধিকাংশ নেতাকর্মীদের। তারা ভয়কে জয় করতে পারেনি। এত বড় একটা বিরোধী দল আজকে তাদের অবস্থা বড়ই শোচনীয়। বিএনপি তার রাজনীতিকে বিভ্রান্তির চোরাবালিতে একদিকে যেমন ডুবিয়েছে। অন্যদিকে হটকারী আন্দোলনের পথে গিয়ে সরকার বিরোধী দমন নির্যাতনের মুখে পড়ে মামলার জালেই বন্দী ও সাংগঠনিক শক্তিই ক্ষয় করেনি, কার্যত রাজনীতির গতিপথ থেকেই বিচ্যুত হয়ে পড়েছে। তাদের মতে, গত নির্বাচনে ভোটের যে দৃশ্য ঘটেছে সারা দেশে তা প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়েছে বিএনপি। যার ফলে তারা আরো অনেকটা পিছিয়ে পড়েছে। বিএনপি জামায়াতকে দূরে রেখে নিজেদের শক্তি পরীক্ষার যে চ্যালেঞ্জ নিয়েছিল, সেখানে হোঁচট খেয়েছে বিএনপি। খোঁদ নারায়ণগঞ্জ বিএনপি‘র রাজনীতিতে সক্রিয় এমন এক নেতা জানান, দূর্গ হিসাবে খ্যাত নারায়নগঞ্জ জেলা ও নারায়নগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র বর্তমান অবস্থান সাধারন নেতাকর্মীদের মাঝে প্রশ্ন বিদ্ধ করেছে। তৃনমূল নেতাকর্মীদের দাবী- দলের এই দুঃসময়ে নারায়নগঞ্জ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনসমূহ এর নিস্ক্রীয়তা থেকে উত্তরনে যোগ্য নেতৃত্বের হাত ধরে এগিয়ে যেতে হবে। সকল ভয়কে জয় করে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনের চাকাকে আরো গতি দিতে হবে। বিএনপি‘র মত এতো বড় একটা দলের “ওয়ান ম্যান শো” নেতা তৈরী করে বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের মাঝে কোন্দল তৈরী করা চলবে না। রাজানৈতিক কুট কৌশল দলের তৃনমূল থেকে শুরু করে নারায়নগঞ্জ জেলা ও মহানগর পর্যায়ে একের পর এক বিভেদ সৃষ্টি করছে। বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এড. তৈমূর আলম খন্দকার, বিএনপি নেতা কাজী মনিরুজ্জামান মনির, অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, সাবেক সাংসদ এড. আবুল কালাম,  এড. সাখাওয়াত হোসেন খান, এটিএম কামাল, নারায়নগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সাংসদ গিয়াস উদ্দিন, আড়াইহাজারের আতাউর রহমান আঙ্গুর, রূপগঞ্জের মোস্তাফিজুর রহমান দিপু ভুইয়া, সোনারগাঁয়ের আজাহারুল ইসলাম মান্নান, অধ্যাপক রেজাউল করিম সহ সকলের উচিত দলকে কিভাবে শক্তিশালী করা যায়, কিভাবে নতুন সদস্য নেওয়া যায় দলের জন্য সেই দিকে দৃষ্টি দেয়া উচিত বলে মনে করেন বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। কিন্তু তারা প্রত্যেকেই আজ নিজ নিজ বলয় তৈরিতে এবং নিজ নিজ স্বার্থ হাসিলে ব্যস্ত হওয়ার কারণে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে শোচনীয় অবস্থা বিরাজ করছে বলে মনে করেন তৃণমুলের এ নেতাকর্মীরা।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *