Home » প্রথম পাতা » পদ্মা সেতু জাতির আরেক বিজয়

কোনমতে নৌকার জামানত রক্ষা

১৯ নভেম্বর, ২০২১ | ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 131 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

বন্দরে সদ্য অনুষ্ঠিত হওয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৫ টি ইউনিয়নের ভেতর ২টিতে কোনমতে জামানত রক্ষা করেছে আওয়ামী লীগের প্রার্থী। নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করলেও মহাজোটের অন্তর্ভুক্ত জাতীয় পার্টির কাছে শোচনীয় পরাজয় ঘটেছে ২ প্রার্থীর। ক্ষমতাসীন দলের এমন পরাজয় বিব্রতকর বলছেন আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা। গত ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ৪টি ইউনিয়নে পরাজয় বরণ করে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়াই করেও জয় ছিনিয়ে এনেছে স্বতন্ত্র ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা। তবে এর ভেতর ২টি ইউনিয়নে কোনমতে জামানত রক্ষা করায় এসব এলাকায় সাংগঠনিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। ক্ষমতাসীন দলের এমন পরাজয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বেশ কিছু আওয়ামী নেতা। উপজেলার বন্দর ও মুছাপুর ইউনিয়নের ভোট পর্যালোচনা করে দেখা যায় দুটি ইউনিয়নেই জামানত কোনমতে রক্ষা করেছেন নৌকার প্রার্থী। তাদের বিপরীতে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছে জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা। অবশ্য বিজয়ী উভয়েই এই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আসীন রয়েছে। অন্যদিকে পরাজিত আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা নির্বাচনে নতুন এবং ততটা পরিচিত মুখ নয় বলেও মন্তব্য করেছেন কেউ কেউ। ভোটের হিসেবে দেখা যায়, বন্দর ইউনিয়নে মোট ভোটার রয়েছেন ২৫ হাজার ৫৬ জন। এর ভেতর ভোট প্রয়োগ করেছেন ১৬ হাজার ৪৫৯ জন। বাতিল হয়েছে ৪৪৩ ভোট। বিজয়ী জাতীয় পার্টির প্রার্থী এহসান উদ্দিন আহমেদ লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ১৩ হাজার ৮০৮ টি ভোট। বিপরীতে নৌকার প্রার্থী মোক্তার হোসেন পেয়েছেন ২ হাজার ৬৫১টি ভোট। জামানত রক্ষার জন্য এই ইউনিয়নে অন্তত ২ হাজার ৫৭টি ভোট প্রয়োজন ছিলো। সেই টার্গেট পূরন করে মাত্র ৫৯৪ ভোট বেশী পেয়েছেন মোক্তার হোসেন। একইভাবে মুছাপুর ইউনিয়নে মোট ভোটার রয়েছেন ২১ হাজার ৭০১ জন। এর ভেতর নির্বাচনে ভোট প্রয়োগ করেছেন ১৬ হাজার ৮১০ জন। বাতিল হয়েছে ৩৭৭ ভোট। বিজয়ী জাতীয় পার্টির প্রার্থী মাকসুদ হোসেন লাঙল প্রতীকে পান ১২ হাজার ৮৪২ টি ভোট। বিপরীতে নৌকার প্রার্থী মজিবুর রহমান পান ২ হাজার ৬৪৭ টি ভোট। জামানত রক্ষার জন্য এই ইউনিয়নে অন্তত ২ হাজার ১০১ টি ভোট প্রয়োজন। সেই টার্গেট পূরন করে মাত্র ৫৪৫ টি ভোট বেশী পেয়েছেন মজিবুর রহমান। উপজেলা নির্বাচন অফিসার আব্দুল কাদির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ পূরণ করতে না পারলে তার জামানত বাতিল বলে গণ্য হবে। এবারের ইউপি নির্বাচনে জামানত বাবদ চেয়ারম্যান প্রার্থীরা যেই ৫ হাজার টাকা জমা দিয়েছেন। ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী নৌকা প্রতীক নিয়ে টেনেটুনে জামানত রক্ষার বিষয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জি এম আরাফাত বলেন, বন্দর ও মুছাপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ শক্তিশালী প্রার্থী দাঁড় করাতে পারেনি। যিনি শক্তিশালী ছিলেন তারা নির্বাচনে অনাগ্রহ দেখিয়েছে। যেই কারনে মোক্তার হোসেনের মত প্রার্থীকে বন্দরে নৌকা দিতে হয়েছে। আর মুছাপুর নিয়ে আমাদের নতুন করে কিছু বলার নেই। গত ১৩ বছর ধরে দুইটি ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রী যথেষ্ট উন্নয়ন করেছেন। তারপরেও কেন এত কম ভোট পেলো আওয়ামী লীগ তা খতিয়ে দেখা দরকার। এই দায় জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা এড়াতে পারে না। তাদের যাচাই বাছাই করে দেখা উচিৎ ছিলো এই প্রার্থী পাশ করবে কিনা। কিংবা শক্তিশালী প্রার্থী কেন নির্বাচনে আসতে অনাগ্রহ দেখাচ্ছেন। বন্দরের ৫টি ইউনিয়নের ভেতর ৪টিতেই নৌকার পরাজয় কোন আওয়ামী লীগ নেতা মেনে নিতে পারে না। একই বিষয়ে জানতে চাওয়া হয় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই এর নিকট। তিনি বলেন, স্থানীয় সাংসদ যখন লাঙলের পক্ষে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করান তখন আমাদের কি করার থাকে? কে কার সাথে হাত মিলিয়ে থাকে তা সবাই দেখতে পায়। লাঙল যদি এখানে না থাকতো তাহলে আমাদের অবস্থান ভালো হতো। আওয়ামী লীগকে বিভক্ত করে সব লাঙলের দিকে টেনে নেয়া হয়েছে। আর করোনার কারনে আমরা নেতাকর্মীরা একত্রিত হতে পারিনি। এসব কারনেও কিছুটা ব্যর্থ হয়েছি আমরা।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *