Home » প্রথম পাতা » ফতুল্লার কাশিপুরে মোস্তফার অত্যাচারে অতিষ্ট সাধারন মানুষ

কোন্দলের কারণে শঙ্কায় কর্মীরা

২১ নভেম্বর, ২০২২ | ৮:৪৬ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 57 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে তৈরী হওয়া মেরুকরণের কারনে মনোবল হারাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীরা এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। নারায়ণগঞ্জ আওয়মীলীগের শুরু থেকে ওসমান পরিবার ও চূনকা পরিবারের মধ্যেকার দ্বন্ধ যেনো আওয়ামী লীগের সাধারণ কর্মীদের গ্যাড়াকলে ফেলেছে এমনটাই অভিযোগ করেছেন কর্মীরা। অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া নাসিক নির্বাচনের মধ্যদিয়ে স্পষ্ট হয়ে উঠে আওয়ামীলীগের দু-মেরুর দ্বন্ধের বিষয়টি। সম্প্রতি, জেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলনে মেয়র সেলিনা হায়াত আইভী সাংসদ শামীম ওসমানকে ইঙ্গিত করে উত্তেজনামূলক বক্তব্য দেওয়ার পর থেকে দ্বন্ধের বিষয়টি আবারো প্রকাশ্যে চলে এসেছে। দ্বাদশ নির্বাচনের আগ মুহুর্তে ক্ষমতাসীনদলে প্রভাবশালী দুই পরিবারের এমন দ্বন্ধ অব্যাহত থাকলে এর প্রভাব দলে পড়বে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এদিকে বিরোধী দলের উত্তাপে রাজনৈতিক মাঠ সরগরম না থাকলেও উত্তর ও দক্ষিন মেরুর রাজনৈতিক গ্যাড়াকলে আটকে গেছে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের ভবিষৎ। ঘটনাসূত্রে প্রকাশ, নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে উত্তর মেরু-দক্ষিণ মেরু বিভাজনের সৃষ্টি প্রয়াত দুই নেতা আলী আহমদ চুনকা ও একেএম সামসুজ্জোহার সময় থেকে। বংশ পরম্পরায় সেই বিরোধ লালন করে এসেছেন ডা: সেলিনা হায়াত আইভী ও একেএম শামীম ওসমান। এই বিরোধের সূত্র ধরে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগে গড়ে উঠেছে দুইটি বলয়। শামীম ওসমান নিয়ন্ত্রিত উত্তর মেরুর ও আইভীর নেতৃত্বে নেতাকর্মীদের নিয়ে গড়ে উঠেছে দক্ষিণ মেরু। আইভীর দক্ষিণ মেরুর তুলনায় শক্তিশালী অবস্থানে ছিলো শামীম ওসমানের উত্তর মেরু। উত্তর মেরুতে একই পরিবার থেকে দুই ভাই (সদর-বন্দর আসনে সেলিম ওসমান ও ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনে শামীম ওসমান) সংসদ সদস্য হওয়ায় তাদের এই শক্তি দক্ষিণ মেরুর তুলনায় ছিলো অনেক বেশী। জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগে সহ সহযোগী অঙ্গ-সংগঠনের প্রতিটি কমিটিতে রয়েছে আলাদা আলাদা দুটি বলয়। যার একটি উত্তর মেরুর ওসমান পরিবার বলয়, অন্যটি চূনকা পরিবারে দক্ষিন মেরুর বলয়।  নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই ও ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর ঘনিষ্ট জন হলেও সাধারণ সম্পাদক  আবু হাসনাত শহীদ মো: বাদল শামীম ওসমানের বন্ধু। যার লবিং ধরেই ছাত্র রাজনীতি থেকে আওয়ামী লীগের গুরু দায়িত্ব পেয়েছেন ভিপি বাদল। অন্যদিকে, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি কখন কোন পক্ষ্যে থাকেন সেটা স্বয়ং তিনি নিজেও জানেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে কিছুটা দূরত্ব থাকলেও সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা শামীম ওসমানের বন্ধু এটা নারায়ণগঞ্জের সকল মানুষই জানেন। অন্যদিকে যুবলীগ ঘিরেও রয়েছে পরিবারতন্ত্র রাজনীতি। যেখানে সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন ভূইয়া এমপি শামীম পন্থী হলেও সাধারণ সম্পাদক আলী রেজা উজ্জ্বল আইভীর আপন ছোট ভাই। তবে, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ, জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগকে ওসমান বলয়ই দখল করেছেন বলে জানা যায়। মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জুয়েল হোসেন যুবলীগ নেতা সারোয়ার হোসেনের ভাগিনা হিসাবেই রাজনীতের সঙ্গে জড়িত। আর সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহম্মেদ দুলাল প্রধান। অন্যদিকে, ছাত্রলীগের পুরোপুরি নিজেদের কন্ট্রোলে রেখেছেন ওসমান পরিবার। এদিকে, এই দুই মেরুর দ্বন্ধ এখন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে নতুন প্রজন্মের উপর প্রভাব ফেলছে। পরিবারতন্ত্র রাজনীতিতে গ্যাড়াকলে পড়তে হয়েছে সাধারণ কর্মীদের। নিজেদের অধিকার আদায়, কর্মসূচি পালনেও এক না হয়ে আলাদা আলাদা কর্মসূচি পালন করছেন তারা।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *