আজ: শনিবার | ২৪শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ৭ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪২ হিজরি | বিকাল ৩:১৭

সংবাদের পাতায় স্বাগতম

কোন্দল নিরসনে নয়া কমিটি জরুরী

ডান্ডিবার্তা | ০১ অক্টোবর, ২০২০ | ৭:২৬

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
নারায়ণলগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের নেতৃত্ব নিয়ে রয়েছে নানা সমালোচনা। নেতাদের কোন্দলের কারণে নেতৃত্ব নিয়ে সমালোচনা বেশি হচ্ছে। সুযোগ পেলেই কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে এক জন আরেক জনের সমালোচনা করেন। মূলত নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ কয়েকদিন পর পরই বিভিন্ন ইস্যুতে কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। বিশেষ করে আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজমের সাথেই তাদের বেশি সাক্ষাৎ হয়ে থাকে। আর এসব সাক্ষাতের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য থাকে একে অপরের নালিশ কিংবা সাংগঠনিক বিষয় তুলে ধরা। তবে একে অপরের বিরুদ্ধে নালিশ দেয়াটাই বেশি হয়ে থাকে। তারই ধারাবাহিকতায় এবার ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজমের কাছে একজন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে নালিশ দিয়ে এসেছেন। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের নেতারা প্রকাশ্যেই বিভিন্ন অনুষ্ঠানে একে অপরের বিরুদ্ধে মন্তব্য করতে দেখা যায়। তাই বিতর্কিত নেতাদের বাদ নিয়ে নতুন নেতাদের হাতে নেতৃত্ব তুলে দেয়ার দাবী উঠেছে। অন্যদিকে, জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের বিরোধ নিরসন ও মহানগর আওয়ামীলীগের মেয়াদহীন কমিটি নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েই গেছে। এর জন্য জেলার আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের সাংগঠনিক দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তৃনমূলের নেতাকর্মীরা। কর্মীদের অভিযোগ, মেয়দহীন কমিটিগুলো নতুন করে ঢেলে না সাজানোর ফলে নতুন নেতৃত্ব উঠে আসছে না। এর ফলে রাজনীতিতে যারা সক্রিয় রয়েছে তাদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। এর জন্য আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরাই দায়ি। যদিও মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন দাবী করেছেন একজন সাংসদের প্রভাবের কারণে মেয়ার শেষ হলেও মহানগর আওয়ামীলীগের নতুন কমিটি হচ্ছে না। তবে দলের একাধিক সূত্রে জানাগেছে, নতুন নেতৃত্ব গড়ে না ওাায় পদ আকড়ে থাকা নেতাদের মধ্যে স্বেচ্ছাচারিতা বাড়ছে। এর ফলে কর্মীদেও মূল্যায়ন কমে গেছে। তবে আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে আরো চাঙ্গা রাখতে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনগুলোতে নতুন করে ঢেলে সাজানো ছাড়া বিকল্প কোন পথ নেই এমন দাবি আওয়ামী লীগের তৃনমূলের। রাজনৈতিক বোদ্ধা মহলের মতে, নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ বিগত যে কোন সময়ের চেয়ে শক্তিশালী। টানা তৃতীয় বারের মত আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় থাকায় নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগের শক্ত অবস্থান তৈরী হলেও নেতাদের বিরোধা গাংগঠনিক ভাবে অনেকটা পিছিয়ে পড়ছেন। প্রবীন রাজনীতিকদের মতে, স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং সাবেক সংসদ সদস্য একেএম সামসুজ্জোহা ও পৌর সভার সাবেক চেয়ারম্যান আলী আহমদ চুনকার সাথে বিরোধ দেখা দেয়। এর ফলে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে উত্তর-দক্ষিন মেরুরর রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়। যা বর্তমানেও অব্যাহত রয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এই কোন্দল নিরসনে নতুন করে ত্যাগীদের নেতাকর্মীদের নিয়ে কমিটি গঠন জরুরী বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *