Home » প্রথম পাতা » শ্রী কৃষ্ণের জন্মাষ্টমী আজ

কোন পথে হাঁটছে আ’লীগ!

০৫ আগস্ট, ২০২২ | ৯:৫০ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 69 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে কোন পথে হাঁটছে আওয়ামীলীগ এমন মন্তব্য সাধারণ মানুষের। প্রতিপক্ষের অফিসে গুলি। কাজ বাগাতে সংঘর্ষ, বিভিন্ন সেক্টর দখলসহ নানা অভিযোগ এখন আওয়ামীলীগের মাথায়। আওয়ামীলীগ রাজনীতির মাঠে নেই বললেই চলে। বিএনপির আন্দোলনের মুখে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগ পিছিয়ে পড়েছে। বিভিন্ন সভায় আওয়ামীলীগ নেতারা বিএনপির বদনাম করলেও মাঠে নামতে পারছে না। এ সকল অভিযোগ রাজনৈতিক বোদ্ধা মহলের। তবে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগ বিগত এক দশকের উপরে ক্ষমতায় থেকে বিরোধী দলকে প্রতিহত না করে নিজেদের প্রতিহত করার মধ্যেই ব্যস্ত ছিল। নিজেদের কোন্দলের রাজানীতি করেই তারা সময় পার করেছেন। আওয়ামীলীগ নিজেদের বিরুদ্ধে নিজেরা বড় বড় সভা সমাবেশ করেছে কিন্তু দেশের উন্নয়নের প্রচার করতে তা একদিনও করেনি। তবে নিজেদের বদনাম রটাতে যে সভা করেছে সে সভায় নাম মাত্র সরকারের উন্নয়ন মূলক বক্তব্য দিলেও সরকারের উন্নয়নের প্রচারের জন্য একটি সভাও আয়োজন করেনি। মাঠ পর্যায়ের একাধিন নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শীর্ষ কতিপয় নেতা নিজেদের আখের গুছাতে ব্যস্ত ছিল। রাজনৈতিক চর্চা করার মত সময় তাদের কাছে হয়নি। তারা রাজনীতিকে ব্যবসা হিসাবে নিয়েছে। টাকা খরচ করে পদ দখল করে পরে পদ পদবী ব্যবহার করে ফায়দা হাতিয়ে নেয়া। কিন্তু তৃনমূলের খবর রাখারও সময় তাদের এত বছরে হয়নি। এদিকে বিএনপি নেতারা বলছেন, আওয়ামীলীগ হত্যা, গুম ও হয়রানি মামলা দিতে পটু। গতকাল তারা রূপগঞ্জে কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা দিপু ভ’ইয়ার অফিসে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও গুলি বর্ষণ করেছে। তারা রাজনীতির মাঠে মোকাবেলায় ব্যর্থ হয়ে সন্ত্রাসী পন্থা বেছে নিয়েছে। আমরা এ ঘটনার নিন্দা জানাই। বিএনপি নেতাদের দাবি, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, মহিলালীগ ও যুবমহিলালীগের নেতাকর্মীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও মার্কেটের দোকানের কর্মচারীরা বলেন, শুনেছি রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ভুলতা এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল বের করবে। এমন খবরে উপজেলা ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, যুবলীগ ও মহিলালীগের নেতাকর্মীরা ভুলতা এলাকায় সমবেত হয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। বিকাল ৩টার দিকে একদল নারী-পুরুষ লাঠিসোটা নিয়ে বণিক সমিতির অফিস ও দিপু ভূঁইয়ার অফিসে অতর্কিত হামলা ও ভাংচুর চালায়। তবে তারা কারা চিনেননা বলে জানান দোকান কর্মচারীরা। নারায়ণগঞ্জ জেলার যুগ্ম আহবায়ক ও রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহবায়ক অ্যাডভোকেট মাহফুজুর রহমান হুমায়ুন বলেন, ভোলা ছাত্রদলের সহসভাপতি নুরুল আমিন হত্যার বিচারের দাবীতে রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ভুলতা এলাকায় বিক্ষোভ করার কথা ছিলো। সংঘর্ষের আশঙ্কায় পরে সেই কর্মসূচি বাতিল করা হয়। সম্ভবত এ খবরে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল সিকদার, নাজমুল হাসান সবুজ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক নাঈম ভূঁইয়া, যুবলীগ নেতা আলামিন ও উপজেলা মহিলালীগের সাধারণ সম্পাদক শীলা রাণী পালের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা ভুলতা এলাকায় সমবেত হয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। একপর্যায়ে উত্তেজিত নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় বিএনপির কার্যকরী পরিষদের সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুর অফিসে হামলা ও ভাংচুর চালায়। পরে তার মালিকানাধীন গাউসিয়া মার্কেটের ব্যবসায়ি সমিতির অফিস ভাংচুর করে। এছাড়া সিদ্ধিরগঞ্জে যুবলীগ নেতাকর্মীদের উপর হামলা করে পাল্টা মার খেয়েছে তাঁতী লীগ নেতাকর্মীরা। পাল্টা পাল্টি সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ১০ জন আহত হয়েছেন। ব্যাপক ভাংচুর করা হয়েছে দুইটি দলীয় কার্যালয়। আদমজী ইপিজেডের ভিতরে একটি গার্মেন্টস কারখানায় নির্মাণ সামগ্রী সরবরাহের কাজ নিয়ে বিরোধের জের ধরে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটা থেকে বিকেল সাড়ে তিনটা পর্যন্ত সুমিলপাড়া এলাকায় তিন দফা এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আদমজী ইপিজেডের ঠিকাদার হিরা জানায়, চার্মিন নামে একটি নির্মাণাধিন গার্মেন্টস কারখানায় ইট, বালু সরবরাহ, রং ও টাইলস বসানোর কাজ পেয়েছি। কাজ প্রায় শেষের পথে। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা তাঁতী লীগের আহবায়ক লিটন ওরফে গুজা লিটন কাজটি জোর করে নিয়ে নিবার চেষ্টা করছে। এরজের ধরে দুপুর আড়াইটার দিকে লিটন ও ডজনের অধিক মামলার আসামি সেলিম মজুমদারের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জন লোক ইপিজেডের ভিতরে চার্মিন গার্মেন্টসে গিয়ে আমার ম্যানেজার ইকবালকে টেনে হেঁচড়ে বেধরক মারধর করে। তাকে রক্ষা করতে গেলে ইব্রাহীম ও শামীমকেও মরধর করা হয়। পরে তারা সুমিলপাড়া গিয়ে যুবলীগ নেতা আক্তার হোসেনের অফিসে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করে। আক্তার হোসেন বলেন, হিরার সঙ্গে আমিও ইপিজেডে কাজ করি। একারণে আমার অফিসে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করেছে। আওয়ামীলীগের মধ্যে এ অবস্থা দেখে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তারা বলেছে স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি বঙ্গবন্ধুর গড়া আওয়ামীলীগ এমন হতে পারে না। আওয়ামীলীগের সহযোগি সংগঠন অপরাধ কর্মকান্ড ঘটারে এর দায় মূল কমিটির নেতাদের উপরই বর্তায়। কারণ তারা সঠিক ভাবে সহযোগি সংগঠনগুলি নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হচ্ছেন। তাই অনেকে বলছেন আওয়ামীলীগ এখন কোন পথে হাঁটছে। এভাবে আওয়ামীলীগ কর্মকান্ড চলতে থাকলে সামতে তাদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *