Home » শেষের পাতা » স্কুল ছাত্র ধ্রুব হত্যায় খুনিদের গ্রেপ্তার দাবিতে মানববন্ধন

ক্ষমতাসীনদের গ্রুপিংয়ে হাতি লাভবান

০৪ জানুয়ারি, ২০২২ | ৮:০৯ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 81 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

আগামী ১৬ জানুয়ারী নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। নির্বাচন নিয়ে মেকানিজমে ব্যস্ত রাজনীতিকরা। স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকারকে বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা পদ থেকে অব্যাহতি দেয়ার পর এনিয়েও ভিন্ন ভিন্ন মন্তব্য করেছেন স্থানীয় আওয়ালীগ নেতারা। বিভিন্ন ইস্যুতে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা যখন গ্রুপিংয়ে ব্যস্ত যখন নিজের অবস্থান শক্ত করার মিসনে নেমেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকার। হাতি প্রতীক নিয়ে প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পাড় করছেন তৈমূর আলম খন্দকার। তার দাবী, পদ থেকে অব্যাহতি দেয়ায় তিনি এখন গণমানুষের হলে লড়াই করবেন। জানাগেছে, নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগের বিরোধ দীর্ঘদিন ধরেই। এতে সাংগঠনিক ভাবেও দল ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। যার সেই বিরোধীদের প্রভাব পড়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোেেরশনের নির্বাচনে। হকার ইস্যুতে যেসকল নেতাদের বিরুদ্ধে মেয়র আইভী মামলা করেছিল সেই সদল নেতারা আইভীর প্রচারণায় নামতে অনীহা প্রকাশ করছেন। কেন্দ্রীয় চাপ থাকলেও নেতাদের দাবী, আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে, হয়রানি করিয়েছে। আজ আমাদের এতো প্রয়োজন কেন। মূলত স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতাদের বিরোধ  হকার ইস্যুকে কেন্দ্র করে ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারী স্থানীয় আওয়ামীলীগের দুই পক্ষের নেতাদের মধ্যে সংঘর্ষ রূপ নিয়েছিল। এবার  নাসিক নির্বাচনকে সামনে রেখে গ্রুপিং চলছে। প্রতিবারই সিটি নির্বাচনের আগে স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতাদের মধ্যে নতুন করে বিরোধ দেখা দেয়। এবারও একই দৃশ্য দেখা গেছে। তবে বিরোধ মেটাতে প্রতিদিনই নারায়ণগঞ্জে আসছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। এদিকে, নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে তৈরী হওয়া মেরুকরণের কারনে মনোবল হারাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের কর্মীরা-এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। নারায়ণগঞ্জ আওয়মীলীগের শুরু থেকে ওসমান পরিবার ও চুনকা পরিবারের মধ্যেকার দ্বন্দ্ব যেনো আওয়ামী লীগের সাধারণ কর্মীদের গ্যাড়াকলে ফেলেছে এমনটাই অভিযোগ করেছেন কর্মীরা। বিরোধী দলের উত্তাপে রাজনৈতিক মাঠ সরগরম না থাকলেও উত্তর ও দক্ষিন মেরুর রাজনৈতিক গ্যাড়াকলে আটকে গেছে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের ভবিষৎ।  ঘটনাসূত্রে প্রকাশ, নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে উত্তর মেরু-দক্ষিণ মেরু বিভাজনের সৃষ্টি প্রয়াত দুই নেতা আলী আহমদ চুনকা ও একেএম সামসুজ্জোহার সময় থেকে। বংশ পরম্পরায় সেই বিরোধ লালন করে এসেছেন ডা: সেলিনা হায়াত আইভী ও একেএম শামীম ওসমান। এই বিরোধের সূত্র ধরে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগে গড়ে উঠেছে দুইটি বলয়। শামীম ওসমান নিয়ন্ত্রিত উত্তর মেরুর ও আইভীর নেতৃত্বে নেতাকর্মীদের নিয়ে গড়ে উঠেছে দক্ষিণ মেরু। আইভীর দক্ষিণ মেরুর তুলনায় শক্তিশালী অবস্থানে ছিলো শামীম ওসমানের উত্তর মেরু। উত্তর মেরুতে একই পরিবার থেকে দুই ভাই (সদর-বন্দর আসনে সেলিম ওসমান ও ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনে শামীম ওসমান) সংসদ সদস্য হওয়ায় তাদের এই শক্তি দক্ষিণ মেরুর তুলনায় ছিলো অনেক বেশী। জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগে সহ সহযোগী অঙ্গ-সংগঠনের প্রতিটি কমিটিতে রয়েছে আলাদা আলাদা দুটি বলয়। যার একটি উত্তর মেরুর ওসমান পরিবার বলয়, অন্যটি চূনকা পরিবারে দক্ষিন মেরুর বলয়। নাসিক নির্বাচন ইস্যুতে এখনো নিশ্চুপ রয়েছেন শামীম ওসমান। তাছাড়া নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর অহমীকার কারণে পিঠিয়ে রয়েছেন সেলিনা হায়াত আইভী। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নিজের বিজয় নিশ্চিতে ব্যস্ত রয়েছেন তৈমূর আলম খন্দকার। এমনকি পদ থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়ার পরও তিনি জানিয়েছেন, আমার লস নাই। বরং অব্যাহতি দেয়ায় দলীয় ভাবে চাপ মুক্ত থাকতে পারবো। এতে করে নির্বাচনী মাঠে বেশি সময় দিতে পারবো।

 

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *