আজ: বৃহস্পতিবার | ৪ঠা জুন, ২০২০ ইং | ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১২ই শাওয়াল, ১৪৪১ হিজরী | সকাল ১০:৫৯

সংবাদের পাতায় স্বাগতম

ক্ষমতাসীন দলের প্রবীনরা সক্রিয় হচ্ছে

ডান্ডিবার্তা | ১৬ মে, ২০১৯ | ১১:৪৮

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরপরই নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ প্রশাসনকে বেশ কঠোর হতে দেখা যায়। ক্ষমতাসীন কিংবা ক্ষমতাসীন দলের বাইলে হোক জেলা পুলিশ প্রশাসনের এই কঠোরতায় রেহাই পাচ্ছে না কেউই। অনেকেই আবার নিজেদেরদের ক্ষমতাকে গুটিয়ে গা ঢাকা দিয়ে আত্মগোপনে চলে যাচ্ছেন। তবে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ প্রশাসনের এই কঠোরতায় সন্ত্রাসী কিংবা সুবিধাভোগী নেতারা ভীত হলেও প্রকৃত রাজনীতিবিদরা ভীত নয়। তারা ঠিকই নিজেদের অবস্থান ঠিক রেখে কাজকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন। পুলিশ প্রশাসন তাদের দিকে নজর দেয়ার মতো কোন কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না। জানা যায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নারায়ণগঞ্জে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে অ্যাকশনে যান নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ। দিন দিন তার কঠোরতার মাত্রা বাড়তে শুরু করছে। এ নিয়ে তিনি ক্রমশ বাহবা কুড়াচ্ছেন। নারায়ণগঞ্জবাসীর কাছে ক্রমশ জনপ্রিয় ও আস্থা অর্জন করতে শুরু করেছেন। ছাড় পায়নি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুল করিম বাবু, ১৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কবির হোসাইন, মহানগর শ্রমিক লীগের সেক্রেটারী ও সাবেক কাউন্সিলর কামরুল হাসান মুন্না থেকে শুরু করে আরো অনেকে। বন্দর উপজেলার ফরাজীকান্দায় কাউসার নামের একজন ব্যবসায়ীর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদাবাজীর ঘটনায় গত ১৮ এপ্রিল শহরের পাইকপাড়া এলাকা থেকে ডিবির একটি টিম আব্দুল করিম বাবুকে গ্রেফতার করে যিনি আওয়ামীলীগের নেতা ও কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একটি মামলায় বাবুকে গ্রেফতার করা হলেও পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলা দায়ের করা হয়। বর্তমানে তিনি ক্ষমতাসীন দলের একজন নেতা হয়েও কারাগারে রয়েছেন। এদিকে ভূইগড়ের রূপায়ন টাউনে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তাকে বেধড়ক পেটানোর ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। যিনি বর্তমানে জেলা কৃষকলীগের সভাপতি হিসেবে দয়িত্ব পালন করছেন। সেই সাথে গত ২১ এপ্রিল যুবলীন নেতা পরিচয়দানকারী মোফাজ্জল হোসেন চন্নুকে অস্ত্র সহ গ্রেফতার করা হয়েছে। এসকল ঘটনায় বর্তমান ক্ষমতানসীন দলের অনেক নেতাই আড়াল হয়ে গেছেন। তবে আওয়ামীলীগের প্রকৃত নেতারা আড়ালে হয়ে যাননি। তারা ঠিকই তাদের সমর্থিত নেতাকর্মীদের নিয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। কোন কোন সময় পুলিশ প্রশাসনের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বক্তব্যও দিচ্ছেন প্রকৃত নেতারা। প্রকৃত নেতাদের বক্তব্য হচ্ছে, সন্ত্রাসীরা কোন দলের না। তারা সবসময় রাজনৈতিক দলের আশ্রয় নিয়ে সুবিধা লাভ করে। প্রয়োজন শেষে আবার অন্য দলে পল্টি মারে। সুতরাং সন্ত্রাসী মার্কা নেতা দিয়ে কখনও দলের উপকার হয় না। এরা সবসময় দলের জন্য ক্ষতিকর। ফলে তাদের মনে ভয়ও বেশি। মূলত আওয়ামীলীগের প্রকৃত নেতা যারা তারা কখনই ভীত হয় না। তারা সবসময় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়েই থাকেন। পুলিশ প্রশাসন যতই কঠোর হোক না কেন তাদের ভীত হওয়ার কোন কারণ নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *