Home » শেষের পাতা » বন্দরে ২৭টি পূজামন্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

গডফাদারেই শান্তি!

১১ জানুয়ারি, ২০২২ | ৭:৫৩ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 128 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত আওয়ামীলীগ নেতা শামীম ওসমান নেতাকর্মীদের কাছে প্রিয়ভাজন। বাম ঘরানার কিছু নেতার কাছে শামীম ওসমান অপাংতেয়। বেগম খালেদা জিয়ার লংমার্চ ঠেকিয়ে দিয়ে কিংবা গোলাম আজমকে নারায়ণগঞ্জে নিষিদ্ধসহ ঘাতক দালালদের প্রতীকি বিচার করে গডফাদার উপাধি পাওয়া শামীম ওসমান নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে এখন অনেকটাই যেন কিংবদন্তি। নাসিকের গত নির্বাচনের মত এবারের নির্বাচনে তার শূন্যতা শুধু তার অনুসারিরা নয় বরং কেন্দ্রের বাঘা বাঘা নেতারা উপলব্ধি করেছে তা তাদের বিভিন্ন সময়ে বক্তব্য থেকে প্রকাশ পেয়েছে। সেই শামীম ওসমান গতকাল সোমবার শহরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে জনাকীর্ণ সাংবাদিক সম্মেলনে প্রকাশ্যে নৌকার পক্ষে কাজ করার ঘোষণা দিয়ে আবারো আলোচনায় এসেছেন। হাজার হাজার কর্মী যখন বঙ্গবন্ধু সড়ক অবরুদ্ধ করে বিভিন্ন শ্লোগান দিচ্ছিলেন তখন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন উপলক্ষ্যে নির্বাচনী এলাকায় সাংবাদিক সম্মেলন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে ক্ষমা চেয়ে এমপি শামীম ওসমান বলেছেন, ‘আমার প্রেসকনফারেন্স করার কথা না, ঠিকও না। আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি নির্বাচন কমিশনের কাছে। আমি একজন আইন প্রণেতা। আইন প্রণেতা হয়ে আইন ভঙ্গ করা নিজের কাছেই নিজেকে অপরাধী মনে হয়। তিনি বলেন, ‘আমি অবাক হই, আমি কেন সাবেজেক্ট হই সবসময়। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন একটা ছোট সিটি করপোরেশন। মাত্র ৫ লাখ ভোট। কিন্তু আমার পাশেও একটা এলাকা আছে ফতুল্লা। সেখানে তিনটি ইউনিয়নে ভোট ছয় লাখের ওপরে। এখানেও তো নির্বাচন হলো কয়দিন আগে। এই নির্বাচন কেউ টেরই পেল না। আমিও গেলাম না। কথাও বললাম না। নির্বাচনও হয়ে গেল। কিন্তু এই নির্বাচনটা (সিটি নির্বাচন) আসলেই কেন একটা সমস্যা হয়ে যাচ্ছে। কথায় আছে, গরীবের বউ যেন সবার ভাবি হয় না। আমার অবস্থা হয়েছে এই। কেউ বলে আমি ওনার, ওনিও বলে আমি ওনার। দুইজন দুইজনকে দিয়ে দিতে চায়। কি একটা পরিস্থিতিতে পরেছি আমি জানি না। আমি এতো দিন চুপ ছিলাম এজন্য যে এটা আমার কাজ না। এভাবে আমার চুপ থাকাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ভাবে ইস্যু তৈরি করা হচ্ছে এবং আমার দলকে ক্ষতি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কেউ বলে উল্টা দিকে নেমে ক্ষতি করছে। কেউ বলে সাথে হেঁটে ক্ষতি করছে। সেই কারণে আমি ভাবলাম আমরা কথা বলাটা উচিত।’ নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে শামীম ওসমান বলেছেন, ‘আজকে নেতাকর্মীদের উজ্জবিত করার জন্য। আমি যদি নির্বাচন কমিশনের চোখ লুকিয়ে কাজ করতে পারি তাহলে নৌকার পক্ষে কাজ করবোই। নাসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী নিজের দলের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানকে ‘গডফাদার’ আখ্যা দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী তৈমূর আলম তার লোক বলে যে মন্তব্য করেছিলেন। ওই প্রসঙ্গে শামীম ওসমান বলেন, যে মন্তব্য করে তার কাছে জিজ্ঞাসা করা উচিত যে কেন করে। এখন কারো যদি মনে হয় আজকে তোমাকে ফাদার বলবো, কালকে ব্রাদার বলবো, পরশু তোমাকে গডফাদার বলবো, তবে যাই বলেন, গডমাদার বইলেন না। কে কি বললো তাতে আমি কিছু মনে করি না। এ বলাবলিতে আমার কিছু যায় আসে না। কেউ যদি বলে শান্তি পায় তাহলে পাক, আমার সমস্যা নেই।’ তিনি বলেন, গত সাত আট বছর ধরে একটা মহল যারা আওয়ামী লীগ করেনা কিন্তু ছায়াতলে আছে। রাজাকারের ছেলে যার বাবার জানাযা দিয়েছে মুজাহেদি। যদি শত্রুতা থাকত, ওই পর্যায়ের নেতা আমি না। তারপরেও আমি ভেবেছি শহরটা যেমন চাই তেমনটা হয়নি। ধর্মীয় কারণে গিয়েছি গোরস্থানে, রাজনৈতিক কারণে গিয়েছি বাসায়। আমার বাবা মা ভাই মারা যাওয়ার পর কেঁদেছি, কিন্তু সেদিনের মতো এত কাঁদিনি। উল্টো আমার বিরুদ্ধে প্রেস রিলিজ চলে এলো। আমার মনে হয় কেউ করিয়েছে। শামীম ওসমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন আমি নীলকন্ঠি। আমার দায়িত্ব আমার নেত্রীকে ফলো করা। কেউ বলে শান্তি পেলে পাক, তাতে আমার কী।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *