আজ: শনিবার | ২৪শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ৭ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪২ হিজরি | বিকাল ৩:২৬

সংবাদের পাতায় স্বাগতম

গুমের ৬ বছর পর হাজির

ডান্ডিবার্তা | ০১ অক্টোবর, ২০২০ | ৭:৩৪

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
২০১৪ সালের মে মাসে অপহরণের পর হত্যার উদ্দেশ্যে গুম করা হয় যুবক মামুনকে। এমন অভিযোগ করে দুই বছর পর ২০১৬ সালের মে মাসে নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানায় একটি মামলাটি দায়ের করা হয়। এই মামলায় ১৬৪ ধারায় মাকসুদা বেগম নামে এক নারী প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দিও দিয়েছেন বলে তদন্ত রিপোর্টে উল্লেখ করে পুলিশ। জবানবন্দিতে মাকসুদা বলেছেন, মামুনকে খুনের উদ্দেশ্যে গুমের জন্য সিএনজিতে তোলার কথা। এই মামলায় গ্রেফতারের পর বিভিন্ন মেয়াদে কারাবাসের পর মামলার ছয় আসামি বর্তমানে জামিনে আছেন। মামলার চার্জশিটও দিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি। গতকাল বুধবার মামলাটি নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচার নিষ্পত্তির জন্য পাঠানো হয়। এদিকে সবাইকে চমকে দিয়ে মামলার ৪ বছর পর আদালতে এসে সশরীরে হাজির হন ভিক্টিম মামুন। মামলায় ছয় বছর পূর্বে ২০১৪ সালের ১০ মে তিনি অপহরণ হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ যেন সারাদেশে তোলপাড় সৃষ্টি করা নারায়ণগঞ্জের দেওভোগের কথিত গণধর্ষণ ও হত্যার পর সশরীরে ফিরে আসা স্কুলছাত্রী জিসা মনি কান্ডের পুনরাবৃত্তি। মামলার ভিক্টিম ফিরে আসাতে পুরো মামলাটিই ‘বানোয়াট ও হয়রানিমূলক’ দাবি করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাড. এমদাদ হোসেন। পাশাপাশি তিনি তার মক্কেলদের অযথা হয়রানি করা হয়েছে উল্লেখ করে বাদী ও তদন্তের সাথে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের শাস্তি দাবি করেছেন। রাষ্ট্র ও মামলার বাদীপক্ষের কাছে ক্ষতিপূরণেরও দাবি জানান তিনি। অ্যাড. এমদাদ হোসেন বলেন, দীর্ঘ ৪ বছর পর মামলাটির বিচার নিষ্পত্তির জন্য সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আদালতে আসে। এই মামলাতে জামিন নেওয়ার জন্য আমি আদালতে উপস্থিত হই। পরে গিয়ে দেখি যাকে অপহরণ ও গুম করার অভিযোগে মামলাটি হয়েছে সেই ভিক্টিম আদালতে সশরীরে উপস্থিত হয়েছেন। অথচ এই মামলার দুই আসামি তাসলিমা ও রফিক দেড় বছর জেল খেটেছেন। অন্যান্য আসামিরাও বিভিন্ন মেয়াদে কারাযাপন করেছেন। যাকে হত্যার করার ঘটনা নিয়ে মামলা সেই ভিক্টিম সশরীরে উদ্ধার হলো। আইনজীবী হিসেবে আমি আমার মক্কেলদের হয়রানি ও অযথা জেল খাটার কারণে বাদী ও তদন্তের সাথে সম্পৃক্ত পুলিশ কর্মকর্তার বিচার চাই। আমার মক্কেলদের হয়রানি করার জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করি। মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে মামুনের পিতা আবুল কালাম বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করে। তবে মামলায় ঘটনার উল্লেখ রয়েছে দুই বছর পূর্বের। মামলায় বলা হয়েছে, ২০১৪ সালের ১০মে মামুনকে অপহরণ করা হয়েছে। এ মামলায় মামুনের সাথে মামলার আসামি তাসলিমার প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে তাসলিমা, তার বাবা রকমত আলী, আপন ভাই রফিকুল ইসলাম, খালাতো ভাই সাগর, মো. সোহেল, মামা সাত্তার মোল্লাকে আসামি করা হয়। বাদী মামলায় বলেছেন, তাসলিমার সাথে বাদীর ছেলে মামুনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তাসলিমা তার খালা আমেনার বাসায় থেকে গার্মেন্টসে চাকরি করতো। ২০১৪ সালের ১০ মে তাসলিমা মামুনকে ফোন করে ফতুল্লা লামাপাড়াতে নিয়ে আসে। পরে খালার বাড়িতে আটকে রাখে। আসামিরা গ্রেফতারের পর বিভিন্ন মেয়াদে কারাযাপন করেছেন। আসামিদের চারজন জজ আদালত থেকে এবং দুইজন হাইকোর্ট থেকে জামিনে আছেন। আসামিপেক্ষের আইনজীবী অ্যাড. এমদাদ বলেন, বাদী ঘটনা দেখাইছে ২০১৪ সালের ১০ মে। অথচ মামলা করেছে ২ বছর পর ২০১৬ সালের ৯ মে। এর পূর্বে কোনো প্রকার জিডিও করে নাই বাদী। এই মিথ্যা মামলার পর বাদী নিজেই দেশ ছেড়ে কুয়েতে গা ঢাকা দিয়েছে। মামলার আসামি তাসলিমা বলেন, মামুন আমাকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। আমি রাজি হই নাই। পরে সে আমাকে প্রায় সময়ই বিরক্ত করতো। প্রায় বছরখানেক পর শুনি তাকে অপহরণের মামলা দেওয়া হইছে। এর আগে মামুনকে প্রেমের জালে ফাঁসাইছি বইলা আমাকে নির্যাতনও করছিল মামুনের পরিবারের লোকজন। অ্যাড. এমদাদ জানান, মামলাটি ফতুল্লা থানা পুলিশ থেকে সিআইডিতে দেওয়া হয়। সিআইডি মামলাটির চার্জশিট দিয়েছে। চার্জশিটে সিআইডি অনেক খোঁজখুজির পরও পায়নি উল্লেখ করেছে। জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে মামলাটির বিচার নিষ্পত্তির জন্য সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আদালতে পাঠানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *