Home » প্রথম পাতা » শ্রী কৃষ্ণের জন্মাষ্টমী আজ

গোগনগর সংঘাতের নাটের গুরু যিনি

২৭ জুন, ২০২২ | ৮:৩১ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 25 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট গোগনগরে চলছে দু’পক্ষের মধ্যে একের পর এক সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা। গত ২০ জুন রাতে পুরান সৈয়দপুর এলাকায় জলিল সুপার মার্কেট ও পুরান সৈয়দপুর মসজিদের দক্ষিন পাশে একটি বসত বাড়ীতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মো: জলিল বাদি হয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় গোগনগর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান রুবেল আহমেদসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ দায়ের করে। মামলার বাকি আসামীরা হলেন, মো: ইমরান (৩৪), রানা (২০), আনসার (৩৭), রিহান (২৩), হিমু (২৩), শাওন (৩০), শুভ (২৪), নয়ন (২৬), বিল্লাল (৩৫), শ্যামল (২৪) ও সেলিম (২৪), নাজমুল (২২)। এদিকে থানায় অভিযোগ দায়ের করায় তার পরের দিন অর্থ্যাৎ ২১ জুন দিবাগত রাত ১১টায় সন্ত্রাসীরা দ্বিতীয় দফায় জলিল মার্কেটে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করে। এদিন সন্ত্রাসীরা পুরো মার্কেটে ভাংচুর চালিয়ে ধ্বংসস্তুপে পরিনত করে। শুধু তাই নয়, গত শুক্রবার দিবাগত রাতে জলিল মার্কেটে তৃতীয় দফা হামলা চালিয়ে দোকানে থাকা সমস্ত মালামাল লুট করে নেয় সন্ত্রাসীরা। লুটপাট হওয়া মালামালের আনুমানিক মূল প্রায় তিন লক্ষ টাকা। এসব ঘটনায় কমপক্ষে ৬ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে গুরুত্বর আহত দুই জনের একজন বিদেশের একটি হাসপাতালে এবং আরেকজন ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এসব হামলার বিষয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, এসব হামলা মামলার পিছনে গোগনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজর আলীর মদদ রয়েছে। তিনিই মূলত দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্ধ লাগিয়ে ফয়দা হাসিল করার চেষ্টা করছেন। কেননা, এই দুই পক্ষই ফজর আলীর নিজস্ব বাহিনী হিসেবে পরিচিত। গত গোগনগর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী ফজর আলী পক্ষে এই দুটি পক্ষই জোরালো ভূমিকা পালন করেছেন। দিনরাত ফজর আলীর জন্য তারা মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট প্রার্থণা করেছেন। নিজেদের অর্থ খরচ করে গোগনগরের বিভিন্ন স্থানে ব্যানার ফ্যাস্টুন এমনকি লিফলেট বিলিও করেছেন তারা। তখন তারাই ছিলো ফজর আলীর মূল শক্তি। তাদের জোরালো ভূমিকার কারণেই সেই নির্বাচনে ফজল আলী বিজয়ী হতে পেরেছেন বলেও কেউ কেউ মনে করেন। অথচ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর পরই সেই ফজর আলী রাতারাতি পাল্টে গেছেন। তারা আরও বলেন, একটা মানুষ এত তারাতারি কিভাবে মানুষের সাথে পল্টি নিতে পারে ফজর আলীকে না দেখলে বুঝতে পারতাম না। তিনি মূলত গোগনগরে সকল ষড়যন্ত্রের মূল হোতা। আমরা জেনেছি, তার সামনেই সেদিন রাতে জলিলের বাড়ি ঘরে সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট করছে। শুধু তাই নয়, তার সামনেই জলিলের মার ঘরে এবং তার ছেলে রানা-সোহেলের মটরসাইকেলে আগুন দেয়া হয়েছে। তিনি ইচ্ছে করলেই ওই সময় বাধা দিতে পারতেন। কিন্তু তিনি সেটা করেন নি। বরং সেই আগুনে তিনি ঘি ঢেলে দিয়েছিলেন। কেননা, এসব হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সদর মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলেও সেটি আজও পর্যন্ত মামলা হয়নি। অথচ হামলাকারিদের দায়ের করার মামলায় উল্টো ভুক্তোভোগীরা বাড়ি ঘর ছেড়ে পলাতক রয়েছে। এই ঘটনায়ও ফজর আলীর অদৃশ্য হাত রয়েছে বলেও এলাকাবাসী অভিযোগ করেন। তারা বলেন, ফজর আলী চাইলে যে কোন মহুর্ত্বে এসব ঘটনার সমাধান করতে পারতেন। তিনি এখনও ইচ্ছে করলে দুই পক্ষকে ডেকে মিলিয়ে দিতে পারেন। কিন্তু তিনি সেটা করছেন না। কারণ, এই দুই পক্ষকে দৌড়ের ওপর রাখতে পারলেই তাদের অর্থ উপাজর্নের বৈধ-অবৈধ মাধ্যমগুলোকে ফজর আলীর আয়ত্ত্ব করতে পারবেন, ভাগ বসাতে পারবেন তাদের এসকল ব্যবসা বাণিজ্যে। তাই তিনি এই পক্ষকে নিয়েই একের পর এক ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে ফজর আলীকে একাধীক বার ফোন দেওয়া হলেও তার নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়। যারফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *