আজ: শুক্রবার | ২৯শে মে, ২০২০ ইং | ১৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ৬ই শাওয়াল, ১৪৪১ হিজরী | সকাল ৭:৪৬
শিরোনাম: স্বাস্থ্যবিধি মেনে ৩১মে থেকে ব্যাংকে স্বাভাবিক লেনদেন চলবে     না’গঞ্জে ৩১মে থেকে বিপনীবিতানসহ সকল দোকানপাট স্বাস্থ্যবিধি মেনে খুলছে     আড়াইহাজারে ঝোপে যুবতির লাশ উদ্ধার     দেশে একদিনে করোনা শনাক্ত ছাড়ালো ২ হাজার২৯, মৃত্যু ১৫     গত ২৪ ঘন্টায় না’গঞ্জে করোনা আক্রান্ত ৬৫জন, মোট আক্রান্ত ২৪৯০     কাশিপুরে চিকিৎসার নামে মানসিক প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণ,ধর্ষক আটক     বিশেষ ব্যবস্থায় সীমিত আকারে পাসপোর্ট বিতরণ শুরু করেছে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস     যুক্তরাষ্ট্রে ৪৪ বছরের যুদ্ধের প্রাণহানীর রেকর্ড ভাঙ্গলো     কথা রাখল না নেপাল,খুলে দেওয়া হলো এভারেস্টের দরজা     আইসিসি ও বিসিসিআইয়ের মধ্যে বিভেদ,কর না দিতে পারলে ভারত থেকে বিশ্বকাপ সরে যাবে    

সংবাদের পাতায় স্বাগতম

ছাত্রলীগ নেতা মান্নানকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা

ডান্ডিবার্তা | ২২ আগস্ট, ২০১৯ | ৯:৫৮

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক এমএ মান্নানকে অবাঞ্ছিত ঘোষনা করে স্থানীয় মুসলিমনগর পঞ্চায়েত কমিটির আয়োজনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকী ও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভা ও কাঙ্গালীভোজ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। মান্নানসহ তার বাহিনীর সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজিসহ সকল অপকর্মের অতিষ্ঠ হয়ে মান্নানকে ছাড়াই পঞ্চায়েত কমিটি এ আয়োজন করেন। মান্নান একজন সরকারী দলের প্রভাবশালী নেতা হলেও তার অপরাধ কর্মকান্ডে এলাকাবাসী আস্তে আস্তে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। মান্নানের অপকর্ম অতিমাত্রায় বৃদ্ধি পাওয়ায় এলাকায় জন বিস্ফোরণ ঘটে। তাই মান্নানকে অবাঞ্চিত ঘোষনা করে মান্নানকে ছাড়াই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকী পালিত হয়। তবে মান্নানকে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রন না করা হলেও অতিথিদের গাড়ি বহরে অনুষ্ঠান মঞ্চে প্রবেশ করার চেষ্টা করলেও বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মান্নান বিরোধী নানা ধরনের শ্লোগান দেন। এলাকার পরিস্থিতি বেগতিক দেখে নিজের গা বাঁচাতে মান্নান জনৈক এক আওয়ামীলীগ নেতার গাড়িতে বসে থাকে। তার পরও অতিথিদের উপস্থিতিতে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মান্নানকে চাঁদাবাজ হিসাবে আখ্যায়িত করে শ্লোগান দেন। গতকাল বুধবার দুপুরে ফতুল্লার মুসলিমনগর এলাকায় স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান ফজলুল হক সরকারের বাড়ির সামনে মুসলিমনগর পঞ্চায়েত কমিটির উদ্দ্যোগে ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকী ও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভা ও কাঙ্গালীভোজ অনুষ্ঠানে এমন ঘটনা ঘটে। এদিকে মুসলিমনগর এলাকার শান্তিপ্রিয় জনগন এলাকায় শান্তি চায়। তারা কোন সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজের হাতে জিম্মি হিসাবে থাকতে চায় না। তাই মান্নান সহ তার সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজ বাহিনীর বিরুদ্ধে গত কয়েকদিন ধরে এলাকাবাসী জোট বাধতে শুরু করে। সম্প্রতি পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষ্যে মুসলিমনগর এতিমখানা মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠান নিয়ে মান্নান তার গ্রুপ নিয়ে বিরোধীতা করেন। স্থানীয় পঞ্চায়েত কমিটি ঈদের জামাতের আয়োজন করেন। কিন্তু মান্নান সহ তার গ্রুপের লোকজন ঈদের জামাত বাতিল করতে নানা ভাবে ষড়যন্ত্র করে। একপর্যায়ে ঈদের জামাত যাতে এতিমখানা মাঠে না হতে পারে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে অভিযোগ করেন। সকল কিছুর উপেক্ষা করে পঞ্চায়েত কমিটি নিয়মতান্ত্রিক ভাবে এলাকার সকলস্তরের লোকদের নিয়ে এতিমখানা মাঠে ঈদের জামাতের আয়োজন করেন এবং বিশাল ভাবে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু মান্নান নিজের অবস্থান ঠিক রাখতে পঞ্চায়েত কমিটির বিরোধীতা করে তার গ্রুপের লোকজন ঈদগাহে নামাজ আদায় না করে মসজিদে নামাজ আদায় করে। এ নিয়ে মুসলিমনগর গ্রামে দুই ভাবে বিভক্ত হয়। মান্নান থানা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক হওয়ায় তার মাঝে অহঙ্কারে পরিনত হয়। আর সে সরকারী দলের প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় একক ভাবে প্রভাব বিস্তার করতে চায়। বিশেষ করে মুসলিমনগর কবরস্থান কমিটি ও মসজিদ কমিটি নিয়েও মান্নান নোংড়া খেলায় মেতে উঠে। আর মান্নানের নোংড়া খেলার কারনে পঞ্চায়েত কমিটি মান্নান বিরোধী একটি শক্তি একজোট হয়। মান্নানকে অবাঞ্চিত ঘোষনা করেন এবং পঞ্চায়েতের সাথে মান্নানের সাথে কোন সম্পর্ক থাকবে না। আর মান্নান সহ তার বলয়ের লোকজন ছাড়া মুসলিমনগরে পঞ্চায়েত কমিটি ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকীর আয়োজন করেন। এ অনুষ্ঠান বানচালসহ বিভিন্ন ভাবে ষড়যন্ত্র করতে থাকে এই মান্নœান। কিছুতেই সফল হতে পারেনি মান্নান। বুধবার দুপুরে মুসলিমনগরে পঞ্চায়েত কমিটির আয়োজনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হলেও মান্নান অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেনি। তবে মঞ্চের ২০ গজ দুরে আওয়ামীলীগ নেতার গাড়িতে বসে থাকতে দেখা যায়। নিজ এলাকায় অনুষ্ঠানের দলের প্রভাবশালী নেতারা উপস্থিত হলেও মান্নানকে সভাস্থলে প্রবেশে বাধা নিষেধ ধাকায় অংশগ্রহন করতে পারেনি। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। আর এলাকার বিক্ষুব্ধ জনতা মান্নানের বিরুদ্ধে নানা ধরনের শ্লোগান দিতে থাকলে অনুষ্ঠানে বক্তব্যরত ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক শওকত আলী জনতাকে শান্ত করেন এবং মান্নান ও পঞ্চায়েতের বিরোধের অবসানের আশ^াস দেন। অনুষ্ঠানে মুসলিমনগর এলাকায় স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান ফজলুল হক সরকারের সভাপতিত্বে ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোশারফ হোসেনের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি এম সাইফউল্লাহ বাদল। এতে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক শওকত আলী, সিনিয়র সহসভাপতি আসাদুজ্জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক বদিউজ্জামান বদু প্রমুখ। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা রঞ্জিত ম-ল, মতিউর রহমান মতি, কামালউদ্দিন মাতবর, আজিমউদ্দিন মাতবর, শফিকুল ইসলাম, ইদ্রিস আলী মাতবর, এনায়েতনগর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাজ্জাক মাষ্টার, এনায়েতনগর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সামসুল হক, আওয়ামী লীগ নেতা আতাউর রহমান জীবন, জাতীয় পার্টি নেতা হাজী আওলাদ হোসেন, ফতুল্লা ছাত্রলীগের সহসভাপতি শরীয়ত উল্লাহ বাবু, বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ নেতা ইব্রাহিম খলিল, ছাত্রলীগ নেতা সামসুজ্জামান খোকন, যুবলীগ নেতা সোহেল মিয়া, ইব্রাহিম, খলিলুর রহমান টিটু, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা নোমান আহাম্মদ, নাজমুল হোসেনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *