Home » প্রথম পাতা » দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, করোনা শনাক্ত হয়েছে ৬ হাজার ৩৬৪

জনসমাগমে মহা বিপদের আশ

১৯ জুলাই, ২০২১ | ৬:২৬ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 14 Views

নারায়ণগঞ্জে করোনার পরিস্থিতি ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে। লকডাউন শিথিলের পর শহরে মানুষের ভীড় বেড়েই চলেছে। হাট বাজার, মার্কেট বিতনী বিতান ফুটপাত শুধু মানুষ আর মানুষ। নেই স্বাস্থ্য বিধি মানার প্রবণতা। এরই মধ্যে গতকাল শনিবার নারায়ণগঞ্জে করোনার রেকর্ড সংখ্যক করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হয়েছেন ১৯২ জন এবং ইতিমধ্যে মারা গেছেন ২ শতাধিক। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় রোগী শনাক্তের হার ৩১.২৬ শতাংশ। এ নিয়ে নারায়ণগঞ্জে করোনা পজেটিভ রোগীর সংখ্যা দাড়ালো সাড়ে ১৬ হাজার জন এবং এপর্যন্ত মারা গেছেন ২৩৪ জন। এদিকে নারায়ণগঞ্জে করোনা আক্রান্তদের অধিকাংশ ডেল্টা ভেরিয়েন্ট হবে ধারণা করছেন শহরের খানপুরে অবস্থিত করোনা বিশেষায়িত হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আবুল বাশার। তিনি এ বিষয়টিক আতঙ্কের বললেও মানুষ এটাকে ড্যামকেয়ার ভাবছেন। তিনি জানান, মানুষকে সচেতন হবে। নতুবা সামনে কঠিন বিপদ অত্যাসন্ন। গত শনিবার রাতে সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্লান্টের জন্য লিকুইড অক্সিজেন এসেছে। তবে রোগী যদি বেড়ে যায় সেক্ষেত্রে অক্সিজেন সাপোর্ট দেওয়া কষ্টসাধ্য হয়ে যাবে। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে নারায়ণগঞ্জে করোনা পরিস্থিতি প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের এখানে যে পিসিআর টেস্ট হয়েছে এর মধ্যে ৩৪ শতাংশের করোনা পজিটিভ এসেছে। যেখানে দেড় মাস আগেও ছিল ৪ থেকে ৬ শতাংশ পজিটিভ আসতো। হাসপাতালে আসা রোগীদের অনেকেরই অক্সিজেনের প্রয়োজন হচ্ছে। অনেকেরই আইসিইউ এর প্রয়োজন হচ্ছে। যেভাবে মানুষ স্বাস্থ্যবিধি না মেনে চলাচল করছে আমি শংকিত যে ভবিষ্যতে কি হবে।’ তিনি বলেন, ‘বেশিরভাগ রোগীর শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। জ্বর ঠান্ডা গলাব্যাথা পাতলা পায়খানা। ফুসফুস সংক্রমিত হয়ে মৃত্যু হচ্ছে। করোনাভাইরাস মানুষের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয় তখন অন্যান্য ভাইরাস শরীরের প্রবেশ করে নানান রোগে আক্রান্ত করে। এখানে বয়সের কোনো সীমা নাই। সবাই আক্রান্ত হচ্ছে।’ খানপুর হাসপাতালে নিয়মিত তদারকি করতে যান নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকু। তিনি বলেন, ‘কয়েকদিন আগেও যারা খাবার পায় না। কাজ নেই বলে বাসা ভাড়া দিতে পারছে না বলে নানা বক্তব্য দিয়েছে। তাহলে আজ কেন সবাই মার্কেটে? রাস্তায় এতো মানুষ কি করছে? মার্কেটিং করা কি জীবনের চেয়ে বেশি জরুরী? অনেকেই বলেছে সিটি করপোরেশন কেন খাবার দেয় না? সরকার কেন খাবার দেয় না? এখন তারাই কেনাকাটা নিয়ে ব্যস্ত। আমি আজকে চাষাঢ়া থেকে দুই নং রেল গেট যেতে আধা ঘণ্টার বেশি যানজটে বসে থাকতে হয়েছে কারণ রাস্তায় এতো মানুষ বের হয়েছে যে শহরের যানজট লেগে গেছে। এসব দেখে খুব দুঃখ হয়।’ তিনি বলেন, ‘এতদিন ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ছাড়া সীমান্তবর্তী এলাকায় করোনা সংক্রামণ বেশি ছিল। আমাদের এখানে কম ছিল। কিন্তু যে হারে মানুষ বের হচ্ছে তাতে আমরা নিজেরা নিজেদের বিপদ ডেকে আনছি। সরকার বা প্রশাসন কি করবে আমরা নিজেরা যদি সচেতন না হই। সবার আগে নিজেকে সচেতন হতে হবে। তবেই করোনা থেকে মুক্তি পেতে পারবো।’ তিনি আরো বলেন, ‘এক সপ্তাহ আগেও নারায়ণগঞ্জে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ছিল কম। দিন দিন আক্রমনের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। গত দুই দিনে ৫/৬ জন মারা গেছে। প্রতিদিন ৬০০ থেকে ৭০০ মানুষ করোনা টেস্ট করার জন্য আসছে। এছাড়া প্রতিদিন গড়ে ২০০ জন নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছে। এ ভয় কি কারো মধ্যে নেই? তিনি বলেন, ‘এভাবে যদি চলতে থাকলে তাহলে নারায়ণগঞ্জ আবারও সারা বাংলাদেশের মধ্যে হটস্পট হবে। ঈদের পরে কি ঘটবে সেটা নিয়ে শঙ্কা। আর তখনই করোনায় আক্রান্ত সংখ্যা বাড়বে। আমার মনে হচ্ছে তখনই একটা মরণকামড় দিবে। পাশাপাশি কি ভয়াবহ পরিস্থিতি হবে সেটা চিন্তা করতেই আমার কষ্ট হয়। আমি বলে বুঝাতে পারবো না করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি হাসপাতালে শুয়ে থেকে কি কষ্ট পায়। আমাদের সর্তক হওয়া ছাড়া বিকল্প কোন পথ নেই। করোনা সুরক্ষায় সরকার যে দিক নির্দেশনা দিয়েছে অবশ্যই এগুলো পালন করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। সবাই ভালো থাকলে ঈদ আমরা করতে পারবো। তাই সবাইকে সচেতন হওয়ার আহবান জানাচ্ছি।’

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *