Home » শেষের পাতা » সোনারগাঁয়ে এক হাজার পরিবারের জন্য বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করলেন এমপি খোকা

জাহাঙ্গীরের অব্যাহতি নিয়ে আ’লীগে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

০১ ডিসেম্বর, ২০২০ | ৭:৫৪ পূর্বাহ্ন | ডান্ডিবার্তা | 226 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম আওয়ামীলীগকে ‘আওয়ামী লীগ স্বাধীনতা বিরোধী দল’ বলে বক্তব্য দেয়ার পর তাকে দল থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছিল। এরপর থেকেই জাহাঙ্গীর আলমের পক্ষে বিপক্ষে বক্তব্য দিচ্ছেন নেতারা। জাহাঙ্গীর আলমকে অব্যাহতি দেয়ায় নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের একাংশ নেতারা সন্তুষ্ট প্রকাশ করে বলছেন, কর্মীবিহীন নেতা জাহাঙ্গীর বিভিন্ন সময়ে উস্কানীমূলক বক্তব্য দিয়ে দলের মধ্যে বিভেদ সৃুিষ্ট করে আসছে। তারই ধারাবাহিগতায় অব্যাহতি দেয়ার পরও দলের বিভাজন সৃষ্টি করতে চাইছে জাহাঙ্গীর। এরইমধ্যে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহিদ বাদলকে উদ্দেশ্যকে বিষোদগারও করেছেন জাহাঙ্গীর। তবে জাহাঙ্গীরের পক্ষেও বক্তব্য দিচ্ছে জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের কয়েকজন নেতা। তাদের মতে, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী শোকজ, কার্যকরী কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের অনুমোদনসহ কয়েকটি ধাপ পেরোনোর পর অব্যাহতি করতে হতো। কিন্তু সেসব না মেনে সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক তাদের একক সিদ্ধান্তে এমনটা করতে পারেন না বলেও মত তাদের। গত ২৪ নভেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। দলীয় প্যাডে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই এবং সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদলের স্বাক্ষরিত অব্যাহতিপত্রে বলা হয়েছ, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থেকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে স্বাধীনতা বিরোধী দল হিসেবে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে বক্তব্য রাখার অপরাধে জাহাঙ্গীর আলমকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। জাহাঙ্গীর আলম ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতা উল্লেখ করে আনোয়ার হোসেন বলেন, জাহাঙ্গীর আলম ছাত্রজীবন থেকেই জেল-জুলুম-অত্যাচার-নির্যাতন শিকার করে এই পর্যায়ে এসেছে। দলের মধ্যে তার অনেক ত্যাগ আছে। জিয়াউর রহমান, বিএনপির আমলে সে জেল খেটেছে। আন্দোলন সংগ্রাম করছে। সে তো আর ভেসে আসা নেতা না। আসলে জাতীয় পার্টির এমপির নামফলক ভাঙার ঘটনাকে অন্যখাতে প্রবাহিত করার জন্যই এই প্রচেষ্টা। কিন্তু আনোয়ার হোসেনের বক্তব্যের পাল্টা জবাবে মহানগর আওয়ামীলীগের আরেক নেতা জানান, জাহাঙ্গীর বিএনপির সরকার আমলে তাদের সাথে আতাঁত করে বিশেষ সুবিধা নিয়েছিলেন। সে আবার দলের ত্যাগী নেতা হয় কি ভাবে। বরং বর্তমানে নিজের পদ-পদবী ব্যবহার করে নিজের সুবিধা আদায় করছেন। দলীয় কোন কর্মসূচীতে জাহাঙ্গীরকে রাজপথে দেখা না গেলেও উস্কানীমূলক বক্তব্যে তিনি সরব থাকেন। জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল কাদির বলেন, আমি জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি, অথচ আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। দলের কাউকে অব্যাহতি দিতে হলে কমিটির সকল সদস্যকে অবহিত করে সভা ডাকতে হবে। সভার সিদ্ধান্ত থেকে কেন্দ্রে সুপারিশ হবে। কিন্তু এরকম কিছু তো হয়নি। সুতরাং এভাবে তো কাউকে অব্যাহতি দেওয়া যায় না। তাও আবার দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদের কাউকে। সাধারণ সম্পাদকের পরেই যার অবস্থান। মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আরাফাত বলেন, এই দলের সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনা। এটা কোনো রিকশা সমিতির কমিটি না। এই সংগঠনের সুনির্দিষ্ট গঠনতন্ত্র রয়েছে। কেউ দলের বিরুদ্ধে কোনো কার্যক্রম বা বক্তব্য দিয়ে থাকলে তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে। এক্ষেত্রে তেমনটা হয়নি। এগুলা আসলে রাজনীতির মধ্যে পড়ে না। তিনি আরও বলেন, জাহাঙ্গীর ভাই তোলারাম কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি, কলেজ ছাত্রছাত্রী সংসদের নির্বাচিত জিএস, শহর যুবলীগের সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন। প্রসঙ্গত, গত ২১ নভেম্বর বিকেলে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে জাতীয় পার্টির সাংসদ লিয়াকত হোসেন খোকার বিরুদ্ধে মহানগর আওয়ামী লীগের মানববন্ধনে অন্যান্য নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম। সোনারগাঁয়ে জিআর ইনস্টিটিউশনে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের নামফলক ভেঙে ফেলার প্রতিবাদে এ কর্মসূচি পালিত হয়। ওই মানববন্ধনে বক্তব্য দেওয়ার এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগ স্বাধীনতা বিরোধী দল উল্লেখ করেন জাহাঙ্গীর আলম।

Comment Heare

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।