আজ: সোমবার | ৬ই জুলাই, ২০২০ ইং | ২২শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১৫ই জিলক্বদ, ১৪৪১ হিজরী | রাত ১১:৫৪

সংবাদের পাতায় স্বাগতম

জিলকদ মাস মর্যাদার মাস,এ মাসের ঐতিহাসিক স্মরণীয় ঘটনা

ডান্ডিবার্তা | ২৬ জুন, ২০২০ | ১২:৪২

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট কুরআনের ঘোষিত সম্মানিত চার মাসের একটি জিলকদ। যে কোনো রক্তপাতমূলক কাজই এ মাসে হারাম। জিলকদ মাস মর্যাদার মাস। হিজরি বছরের ১১তম মাস এটি। বিভিন্ন কারণে ইসলামের ইতিহাসে এ মাসটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

দীর্ঘ ৪ মাসের ধারাবাহিক ইবাদতের পর পুনরায় ইবাদত-বন্দেগির প্রস্তুতি নিতে সাময়িক বিশ্রাম ও সাধারণ ইবাদতের মাস হলো জিলকদ। এ মাসেরও রয়েছে কিছু স্বাভাবিক আমল ও ইবাদত। আর ঐতিহাসিক কিছু ঘটনার জন্য জিলকদ মাস বিখ্যাত। মাসটির স্বাভাবিক আমল-ইবাদত ও ঐতিহাসিক সংক্ষিপ্ত ঘটনার বর্ণনা তুলে ধরা হলো-

জিলকদরে স্বাভাবিক আমল ও ইবাদত
– এ মাসের ১, ১০, ২০, ২৯ ও ৩০ তারিখ রোজা পালন করা।
– নিয়মিত আমল আইয়ামের বিজের রোজা ১৩, ১৪ ও ১৫ জিলকদ পালন করা।
– সপ্তাহের নিয়মিত আমল সোম ও বৃহস্পতিবারের নফল রোজা পালন করা।
– বেশি বেশি কুরআন তেলাওয়াত ও সালাতুত তাসবিহ নামাজ আদায় করা।
– সম্ভব হলে ওমরা পালন করা। কেননা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ জিলকদ মাসেই ওমরাহ পালন করেছেন। যদিও এ বছর করানাভাইরাসের কারণে ওমরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে।
– হজের পরিপূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করার মাসও এটি।
– আত্মত্যাগের ইবাদত কুরবানির প্রস্তুতি গ্রহণ করা।

এ মাসের ঐতিহাসিক স্মরণীয় ঘটনা
– কুরআনের ঘোষিত হারাম ৪ মাসের একটি হলো জিলকদ। তাই যুদ্ধবিগ্রহসহ যে কোনো রক্তপাতমূলক ঘটনা এ মাসে নিষিদ্ধ।
– এ জিলকদ মাসের প্রথম দিনই ইসলামের প্রথম সন্ধি ঐতিহাসিক হুদায়বিয়ার সন্ধি সংঘটিত হয়।
– এ মাসেই ঐতিহাসিক বাইয়াতে রেদওয়ান প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
– এ মাসেই হজের বিধান এসেছে। ৮ জিলকদ মুসলমানদের জন্য জীবনে একবার হজ পালনকে ফরজ করা হয়েছে।
– হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম ও ঈসা আলাইহিস সালাম জিলকদ মাসের ২৫ তারিখ জন্ম গ্রহণ করেন।
– ঐতিহাসিক তথ্য মতে জানা যায় যে, ২৫ জিলকদ পবিত্র নগরী মক্কায় পবিত্র কাবা শরিফের প্রথম ভিত্তি স্থাপিত হয়।
– রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিজরি সপ্তম বছরের জিলকদ মাসে প্রথম ওমরাহ পালন করেছিলেন।
– পরবর্তীতেও এ জিলকদ মাসেই বাকি ওমরাহগুলো সম্পন্ন করেছিলেন।
– বর্তমান সময়েও অধিকাংশ হজ পালনকারীরাও জিলকদ মাসেই ওমরাহ পালন করে থাকেন।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে জিলকদ মাসে পরিপূর্ণ বিশ্রাম গ্রহণ করে হজের মাস ও মহররমের রোজা এবং ইবাদত-বন্দেগির জন্য প্রস্তুতি নেয়ার তাওফিক দান করুন। জিলকদ মাসে যাবতীয় অন্যায় ও অনাচার থেকে বিরত থেকে জিলকদ মাসের পবিত্রতা রক্ষা করার তাওফিক দান করুন। জিলকদ মাসের স্বাভাবিক আমল ও ঐতিহাসিক ঘটনাগুলো থেকে শিক্ষা গ্রহণ ও আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *