আজ: রবিবার | ১২ই জুলাই, ২০২০ ইং | ২৮শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ২১শে জিলক্বদ, ১৪৪১ হিজরী | সন্ধ্যা ৭:৪৩

সংবাদের পাতায় স্বাগতম

জুনের মধ্যে নাসিম ওসমানের স্বপ্ন পূরন: সেলিম ওসমান

ডান্ডিবার্তা | ০১ মে, ২০১৯ | ১:২৫

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
সদর-বন্দর আসন থেকে চারবার নির্বাচিত প্রয়াত সাংসদ নাসিম ওসমানের দেখা অসমাপ্ত স্বপ্নের সকল কাজ গুলো চলতি বছরের জুন মাসের মধ্যে বাস্তবে রূপ নিবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তাঁর স্থলাভিষিক্ত হওয়া অত্র আসনের বর্তমান সাংসদ মেঝ ভাই সেলিম ওসমান বলেছেন। দশম জাতীয় সংসদে প্রয়াত নাসিম ওসমানের শূণ্য আসনে উপনির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর অদ্যবদি তিনি প্রয়াত বড় ভাই নাসিম ওসমানের প্রক্সি দিচ্ছেন বলেই বলে আসছেন। নাসিম ওসমানের রেখে যাওয়া অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন হলে তিনি বন্দরে ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য আরো বেশ কিছু বৃহৎ উন্নয়নের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ শুরু করবেন। যার মধ্যে বন্দরের ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য সরকারী কদমরসুল কলেজকে পূর্নাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা, পাশাপাশি শহরের নারায়ণগঞ্জ কলেজের মত বন্দরেও একটি উন্নত মানের প্রাইভেট কলেজ নির্মাণ করা, লেখাপড়ার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের খেলাধূলার জন্য বন্দর উপজেলায় একটি স্টেডিয়াম, বন্দরবাসীর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে বৃহৎ আকারে পূর্ণাঙ্গ সরকারী হাসপাতালে রূপান্তর করবেন। পাশাপাশি সরকারী অর্থায়নে ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে উপজেলা কেন্দ্রীয় মসজিদ, ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে উপজেলা কেন্দ্রীয় মাদ্রাসা নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন এমপি সেলিম ওসমান। গতকাল মঙ্গলবার সকালে বন্দরে নাসিম ওসমান মডেল হাইস্কুল মাঠে বড় ভাই প্রয়াত সাংসদ নাসিম ওসমানের ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত মিলাদ ও দোয়ার অনুষ্ঠানে নাসিম ওসমান সম্পর্কে স্মৃতিচারন করতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সেলিম ওসমান বলেন, আমার রাজনীতি করার কোন ইচ্ছা ছিলো না। জীবনে কোনদিন এমপি হবো তা কোনদিন স্বপ্নেও ভাবি নাই। কিন্তু আমার বড় ভাইয়ের মৃত্যুর পর তাঁর ভালবাসার মানুষদের অনুরোধ এবং আমার মায়ের নির্দেশে আমি নির্বাচন করেছি। নাসিম ওসমানের প্রক্সি দিতে এসেছি। প্রথমেই আমি নাসিম ওসামনের ভালবাসার মানুষদের কাছ থেকে তার ইচ্ছা গুলো সম্পর্কে জেনেছি এবং সেগুলো বাস্তবায়নে সবাইকে নিয়ে কাজ করে গেছি। আর এখানে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছেন আপনারা সবাই আমাকে সহযোগীতা করে। নাসিম ওসমান আর ফিরে আসবেনা এটা সত্য। কিন্তু নাসিম ওসমানের স্থান আমাদের সকলের অন্তরে। সেলিম ওসমানের মত আর কেউ হতে পারবেনা এটা সত্য নয়। আজকে নাসিম ওসমানের নামে গড়া এই স্কুলের বাচ্চাদের মধ্যেই আছে ভবিষ্যত বাংলাদেশের বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা, নাসিম ওসমান, সেলিম ওসমান। তাদেরকে তৈরি করতে হবে, আর এটাই হচ্ছে আমার কাজ। ভবিষ্যত প্রজন্মকে আধুনিক সুশিক্ষায় শিক্ষিত করা, তাদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং শিল্পায়নের মাধ্যমে তাদের উপার্জনশীল করে গড়ে তোলা। তাদের হাত ধরেই শক্ত হয়ে দাড়াবে একটি উন্নত বাংলাদেশ, শেখ হাসিনার স্বপ্ন ভিশন-২০২১ এবং ২০৪১, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা। তবে আমার কাজ মনে হয় প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। নাসিম ওসমানের যখন কাজ শেষ হয়ে গেছে আল্লাহ তাকে নিয়ে গেছে। আমারো শেষ হবে আবার এখানে নতুন কেউ আসবে। নাসিম ওসমানের স্বপ্নের শীতলক্ষ্যা নদীতে নাসিম ওসমান সেতুর কাজ দ্রুত বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শীতলক্ষ্যা নদীতে আরো একটি সেতুর অনুমোদন দিয়েছেন। বাকি রইলো বন্দরের রাস্তাঘাটের উন্নয়ন। এখন পর্যন্ত আমার হাতে যে সকল কাগজপত্র আর বরাদ্দ রয়েছে সেগুলো বাস্তবায়িত হলে মনে হয়না বন্দরে আগামী ৫০ বছর আর কোন চাহিদা থাকবে। এরমানে আগামী ৫০ বছর আমার আর কোন কাজ নাই। তিনি আরো বলেন, আমার বাবা, ভাই যেভাবে কাজ করে গেছেন আমিও সেই ভাবেই কাজ করেছি। আমি আপনাদের উন্নয়নের স্বপ্ন দেখালাম, সেটি বাস্তবায়নে আপনারা সহযোগীতা করবেন। নাসিম ওসমান, আর সেলিম ওসমানকে বাচিয়ে রাখতে হলে শুধু ভবন নির্মাণ করলে হবেনা, ভবিষ্যত প্রজন্মকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে। নাসিম ওসমানের স্মৃতিচারন করতে গেলে বলে শেষ করা যাবে না। তাই আপনারা যারা নাসিম ওসমানের সাথে কাজ করেছেন। নাসিম ওসমানের সম্পর্কে যা যা জানেন তা লিখিত আকারে জানান। চেষ্টা করবো আগামী জুন মাসের মধ্যে আপনাদের সেই লেখনী দিয়ে নাসিম ওসমানকে নিয়ে একটি প্রকাশনা বের করতে। তখন আর নাসিম ওসমানকে হারিয়েছি বলতে হবেনা। নাসিম ওসমানের স্বপ্ন তখন এই ভবিষ্যত প্রজন্মই বাস্তবায়ন করবে। ভাল কাজ করতে গেলে বাধা আসবেই। এ ব্যাপারে আপনাদের সাবধান থাকতে হবে। যারা বর্তমানে আছেন তাদের যদি আপনাদের ভাল না লাগে ভবিষ্যতে প্রয়োজনে আপনাদের রায়ের মাধ্যমে বদলে নিবেন। সব শেষ আমি বলবো, রশিদ ভাই আপসোস করে বলে গেছেন নাসিম ওসমান নাকি উনার কাছে বলেছেন তাঁর টাকা ছিলনা তাই তিনি সময়মত সঠিক কাজটি শেষ করতে পারেনি। আমি বলবো নাসিম ওসমান বলে গেছেন তার স্বপ্নের বাস্তবায়ন হবে। আমি কঠোর পরিশ্রম করে দুহাত ভরে উপার্জন করবো আর সেই উপার্জন দিয়ে নাসিম ওসমানের স্বপ্ন এবং আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের উজ্জল ভবিষ্যত গড়ার জন্য কাজ করে যাবো। জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক আবুল জাহের এর সভাপতিত্বে মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, বন্দর থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি এম,এ রশিদ, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি এর সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল, মহানগর জাতীয় পার্টির আহবায়ক সানাউল্লাহ সানু, কলাগাছিয়া ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সভাপতি বাচ্চু মিয়া, ১৮নং ওয়ার্ড জাতীয় পার্টির সভাপতি পলি বেগম, জেলা শ্রমিক পার্টির সভাপতি আবুল খায়ের ভূইয়া, জেলা মহিলা পার্টির সভানেত্রী আঞ্জুমান আরা ভূইয়া, ১৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফয়সাল আহম্মেদ সাগর, ২১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হান্নান সরকার, ২২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সুলতান আহম্মেদ, ২৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শামসুজ্জোহা, কলাগাছিয়া ইউনিনের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন প্রধান, বন্দর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন, মুছাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেন, ধামগড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাসুম আহম্মেদ, মদনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম,এ সালাম সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *