Home » প্রথম পাতা » ওসমান পরিবারের সাথে কোন দ্বন্দ্ব নেই: আইভী

জয়ের কৌশল নিয়ে প্রার্থীরা ব্যস্ত

১৪ জানুয়ারি, ২০২২ | ৫:৪৫ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 60 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

আগামী রবিবার নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তৃতীয় বারের মত ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। আজ শুক্রবার মধ্যরাত থেকে সকল প্রকার প্রচার প্রচারনা শেষ হবে। নাসিকের বিগত দুইটি নির্বাচনে ভোটারদের মধ্যে এত উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা যায়নি। আনন্দমূখর উৎসবের নগরীতে পরিনত হয়েছে নারায়ণগঞ্জ। আর এবারের নাসিক নির্বাচনের দিকে দৃষ্টি এখন সকলের। শীতের সকালে কুয়াশাভেদি ঝলমলে কোমল রোদ্দুর। নগরের প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে চলে কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের প্রচার প্রচারনা। নাসিকের মেয়র পদে ৭জন প্রার্থী থাকলেও সকলের দৃষ্টি আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকারের দিকে। দু’জনেরই কর্মী সমর্থকদের প্রচার প্রচারনা চলছে সমান তালে। আইভী ও তৈমূরের মধ্যে ভোট যুদ্ধ হলেও এবারও নাসিক নির্বাচনে ঘুরে ফিরে সবার প্রশ্ন শামীম ওসমানকে নিয়ে। গত ১০ জানুয়ারি শামীম ওসমান দীর্ঘ নিরবতা ভেঙ্গে নৌকার পক্ষে কাজ করার ঘোষণা দেয়ার পরও তাকে নিয়ে খোদ আওয়ামীলীগের মধ্যে চলছে আলোচনা। যদিও শামীম ওসমান ১০ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক ভাবে নৌকার পক্ষে কাজ করার ঘোষণা দিলেও তার অনুসারিরা গত ২০ ডিসেম্বর থেকেই মাঠে রয়েছে। শামীম ওসমান বার বার বলছেন, নৌকার বিরুদ্ধে যাওয়ার উপায় নেই। নারায়ণগঞ্জ বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনা তথা নৌকার ঘাটি। এখানে নৌকা অবশ্যই জয়লাভ করবে। গত বুধবার মধ্যরাতে একটি বেসরকারি টেলিভিশনে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই শামীম ওসমানের মাঠে নামা নিয়ে মন্তব্য করার পর মাঠ পর্যায়ের শামীম ওসমানের অনুসারিদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে বলছেন, নৌকার জন্য আমরা মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই মাঠে আছি। এদিকে নির্বাচনী প্রচারনাকালে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাসহ সরকার বৃহস্পতিবার থেকে ১১ দফা নির্দেশনামা জারি করলেও এসব নির্দেশনা প্রচার প্রচারনায় কোন প্রার্থীই মানছে না। এ ব্যপারে সিভিল সার্জন ডা. ইমতিয়াজ বলেন, শুক্রবার মধ্যরাত থেকে নারায়ণগঞ্জে স্বাস্থ্যবিধি কার্যকর হবে। তখন কড়াকড়ি ভাবে সবাইকে বিধিমালা মানতে বাধ্য করা হবে। একবার পৌরসভা ও ২বারের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী তৃতীয় বারের মত নাসিকের মেয়র প্রার্থী হয়েছেন। ভোর থেকে রাত্রি পর্যন্ত অবিরাম প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন। যেখানেই যাচ্ছেন, সেখানেই ভোটারদের ভালোবাসার পুস্প বৃষ্টিতে ভিজছেন। তিনি হাত নেড়ে হাসিমুখে ভোটারদের ভালোবাসার জবাব দিচ্ছেন, কখনও উৎসুক নারীর হাতে রাখছেন সাহসী হাত। ভোটের মাঠে ধৈর্যশক্তি অটুট রাখার অদম্য চেষ্টা সেলিনা হায়াৎ আইভীর। শামীম ওসমানদের নিয়ে কথা বলতে চান না আইভী! গণসংযোগকালে শামীম ওসমান প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নে কিছুটা বিরক্ত হন আইভী।, তিনি বলেন, ‘এই কথা শুনতে শুনতে আমি হয়রান হয়ে গেছি। আপনারা আমাকে মাঠে কাজ করতে দিচ্ছেন না। একজনকে কেন বারবার টেনে নিয়ে আসেন আপনারা? উনি তো নৌকার লোক, নৌকার বাইরে কোথায় যাবেন?’ এবার নাসিক নির্বাচনে তরুণ ও নারী ভোটাররা নিয়ামক শক্তি হিসাবে কাজ করবে। যার পক্ষে তরুণ ও নারী ভোটাররা ঝুকবে সেই প্রার্থীই বিজয়ী হবে বলে এমনটা মনে করছে নগরবাসী। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের আর মাত্র ১দিন বাকি। রবিবার সকাল থেকে ভোট গ্রহণ শুরু। আর এই ভোট নিয়ে চলছে নানা সমীকরণ। জয়ের জন্য প্রতিনিয়ত নিজেদের মতো করে কৌশল নিয়ে এগোচ্ছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার। ভোটারদের মন জয়ে দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। নির্বাচনে মেয়র পদে জয়-পরাজয়ে নিয়ামক বা ফ্যাক্টর কারা হবেন, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। প্রার্থীর যোগ্যতা-অযোগ্যতা নাকি দলীয় প্রতীক, নারী নাকি নতুন ভোটার-কারা নির্ধারণ করবেন নগরপিতা-নগরজুড়ে এমনই আলোচনাই সকলের মধ্যে। গত কয়েক দিনে নাসিকের ২৭টি ওয়ার্ড ঘুরে ও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এবারের নির্বাচনে মেয়র পদে জয়-পরাজয়ে আরও কিছু ফ্যাক্টর কাজ করবে। দলীয় প্রতীক বা নিজস্ব ভোটারদের সঙ্গে ব্যক্তি ইমেজ তো থাকবেই। প্রধান দুই মেয়র প্রার্থীর যিনি এসব ভোট নিজের বাক্সে নিতে পারবেন, তিনিই হাসবেন বিজয়ের হাসি। আর ভোটারদের প্রত্যাশা-ভয়হীন পরিবেশে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে বেছে নিতে চান তারা। যেখানে ঘটবে তাদের মতের প্রতিফলন। সুখে-দুঃখে পাশে পাবেন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের। নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে এবার ৫ লাখ ১৭ হাজার ৩৫৭ ভোটার। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৯ হাজার ৮৩৪ এবং মহিলা ভোটার ২ লাখ ৫৭ হাজার ৫১৯ জন। এবার নাসিকে প্রথম ভোট দিবেন ৪২ হাজার ৪২৬ জন ভোটার। এরা যেদিকে যাবে সেই মার্কার পাল্লা ভারি হবে। এদিকে বাংলাদেশ ইর্য়ান মাচের্ন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি লিটন সাহার বিরুদ্ধে টানবাজার এলাকায় ভোট ক্রয়ের একটি ভিডিও গত বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, জনৈক প্রার্থীর পক্ষে লিটন সাহা ধর্মের দোহাই দিয়ে ভোট ক্রয় করছে এবং হিন্দু ধর্মালস্বীদের দেবতা মহাদেবের শপথ করিয়ে ভোট প্রার্থনা করছে। বুধবার রাতেই বাসদের সমন্বয়কারী নিখিল দাস এ ব্যপারে একটি স্ট্যাটাস দেন। তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটারদের হুমকি দিয়ে ভোট চাওয়ার অভিযোগ করে লিটন সাহাকে গ্রেফতারের দাবি জানান। এ ব্যপারে লিটন সাহার সাথে একাধিক বার মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে সিটি নির্বাচনের সহকারী রির্টানিং কর্মকর্তা মতিউর রহমান জানান, কেউ অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে আওয়ামীলীগ মনোনীনত প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী গতকাল বৃহস্পতিবার দিনভর ১৬, ১৭ ও ১৯নং ওয়ার্ডে প্রচার প্রচারনা চালান। স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকার ১১ ও ১৫নং ওয়ার্ডে প্রচার প্রচারনা চালান। সকালে আইভী ১৬নং ওয়ার্ডে প্রচারনাকালে শত শত নারী পুরুষ ছুটে এসে তার উপর পুস্পবৃষ্টি বর্ষণ করে। এই ওয়ার্ডটি সেলিনা হায়াৎ আইভীর নিজের এলাকা। তৈমূর আলম খন্দকার প্রচারনাকালে গতকাল নেতাকর্মীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে দুরত্ব বজায় রাখার জন্য বার বার অনুরোধ জানান। দুই প্রার্থীই নৌকা ও হাতি মার্কায় ভোট দিয়ে তাদের জয়যুক্ত করার আহবান জানা। আওয়ামীলীগ মনোনীনত মেয়র প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যদি অবনতির দিকে যায় তাহলে প্রশাসন তো আছেই। নিশ্চই তারা এটা দেখবে। আমার ওইটা দেখার সময় নেই। আমার জনগণের কাছে যেতে হবে। তাদের ভোট চাইতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রশাসন দেখবে। এখানে যৌথভাবে প্রশাসন কাজ করছে। এটা দেখভাল করার দায়িত্ব তাদের। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে সমস্যা হতেই পারে। আমি মনে করি প্রশাসন অত্যন্ত সচেতন। তারা এগুলো দেখভাল করবে। আমি আমার ভোটারদের বলবো উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে যাবেন। নারায়ণগঞ্জে এর আগেও তিনটা নির্বাচন হয়েছে। সেখানেও টান টান উত্তেজনা ছিল। কিন্তু সবাই ভোট দিতে গিয়েছে, পরিবেশও অত্যন্ত সুন্দর ছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অনুরোধ করবো নারায়ণগঞ্জের পরিবেশটা যেন এমন সুন্দর ও উৎসবমুখর থাকে এবং সে ব্যবস্থা যেন তারা করে। স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারের নেতাকর্মী ও নির্বাচনী এজেন্টের গ্রেফতার প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, আমি জানি না কাকে কোথায় ধরা হচ্ছে। আমি শুধু শুনেছি বিএনপির এক নেতাকে ধরা হয়েছে তার নামে হেফাজতের মামলা ছিল। আর কাকে ধরা হয়েছে এটা আমি জানি না আমার জানার বিষয়ও না। এটা প্রশাসন দেখবে। আমি সারাদিন ব্যস্ত, আমি কোনো সহিংসতার সঙ্গে জড়িত না। কাউকে কখনও বলিনি কাউকে গ্রেফতার করেন। আমি শুধু চাই ভোটকেন্দ্র যেন পরিষ্কার থাকে। কোনো সন্ত্রাসী যেন ভোটকেন্দ্রে ঝামেলা করতে না পারে। স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকার নির্বাচনী প্রচারনাকালে বলেন, নাসিক নির্বাচনে পুলিশের কার্যক্রমের কারণে একটা ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। তবে ‘জনগণ ভীত না। আমার নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ আছি। আন্তর্জাতিক দূতাবাসের যারা আছেন পাশাপাশি মানবাধিকারকর্মী যারা আছেন সবাইকে বলবো, আপনারা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করুন। কেন আমাদের নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি পুলিশ যাচ্ছে’। শুধু তাই নয় বিএনপি করেনা অথচ যারা আমাকে সমর্থন দিয়েছে তাদেরকেও হয়রানি করা হচ্ছে। তৈমূর আলম বলেন, ‘আমার দলের নেতাকর্মীরা তো নৌকায় ভোট দেবে না। সরকারি দলের নেতাকর্মীদের কমিটি ভেঙে দিচ্ছে। কারণ তারা নৌকার পক্ষে কাজ করছে না’। তিনি আরও বলেন, ‘কাউকে ধমক ও গালি দিয়ে তো কাজ করানো যায় না। নারায়ণগঞ্জের জনগণের কাছে মেসেজটা ক্লিয়ার যে, তাদের মধ্যে বিরাট ফাটল। ঢাকা থেকে মেহমানরা এসেও এই ফাটল মেটাতে পারেনি। হাতি এখন জনগণের মার্কা। হাতির মাধ্যমেই পরিবর্তন আসবে’। এদিকে নানা নাটকীয়তার পর শামীম ওসমান নৌকার পক্ষে কাজ করার ঘোষণা দিলেও তাকে নিয়ে সন্দেহ দূর হচ্ছে না। আইভী নিজেও এখনো তার প্রতিশ্রুতিকে আস্থায় নিতে পারছেন না। ওসমান পরিবার সক্রিয়ভাবে আইভীর জন্য মাঠে থাকলে নৌকার বিজয় অনেকটা সহজ হবে। কিন্তু কোনো কারণে ওসমান পরিবার তৈমুরের দিকে ঝুঁকে পড়লে আইভীকে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে। তাই শামীম ওসমানের ভূমিকা কী হবে, তা দেখার জন্য ভোটের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তবে আওয়ামীলীগের শরীকদল গুলি সেভাবে মাঠে নামেনি। এমনকি যারা সরকার বিরোধী বক্তব্য দেয়ার পরও আইভীর ছায়াতলে আছে সেই ত্বকীমঞ্চ ও কতিপয় সুশিল বিবৃতির মাধ্যমেই নিজেদের সমর্থন জানান দিয়ে রেখেছে। তবে নাসিকের তৃতীয় নির্বাচন অন্য দুইটি নির্বাচনের চাইতে উৎসব মূখর তা নারায়ণগঞ্জের ২৭টি ওয়ার্ডের অলিগলিসহ শহরের প্রধান প্রধান সড়কগুলিই বলে দেয়।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *