Home » প্রথম পাতা » রূপগঞ্জ ভ’মি অফিসে অনিয়মই যেন নিয়ম

টার্গেট আইভীর নমিনেশন

২০ নভেম্বর, ২০২১ | ৮:৪৮ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 190 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

মানববন্ধনের ব্যনারে লেখা ছিল ‘জিউস পুকুর সহ জেলার অন্যান্য দেবোত্তর সম্পত্তি উদ্ধারের দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ’। তবে সমাবেশে বক্তারা কথা বলেছেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর নৌকার মনোনয়ন নিয়ে। তাকে যেন আসন্ন সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী নৌকার মনোনয়ন না দেন সেই দাবিই জানিয়েছেন সমাবেশের আয়োজক হিন্দু নেতারা। এমনকি মনোনয়ন দিলেও নির্বাচনে শেখ হাসিনার নৌকার বিরুদ্ধে দাঁড়াবেন বলেও ঘোষণা দেন তারা। গতকাল শুক্রবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত সমাবেশে এমনটা দেখা যায়। সূত্র বলছে, ১৯৭৯ সালে লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দিরের সেবায়েতের মাধ্যমে জিউস পুকুরের কিছু অংশ বিক্রি হয়েছে। সেই জমি কিনেছেন অনেকেই। ক্রয়সূত্রে মালিক হয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর আত্মীয়দের কয়েকজনও। মেয়র নিজে এই সম্পত্তির মালিকানার সাথে কোনোভাবেই জড়িত নন। দীর্ঘ ৩৫-৪০ বছরে এই জমির বিষয় নিয়ে কখনই প্রশ্ন তোলা হয়নি। প্রশ্ন উঠেছে গত একবছর যাবৎ। প্রশ্নটা ‘জিউস পুকুরের সম্পত্তি দেবোত্তর বলে রক্ষার’ দাবিতে উঠলেও মূল উদ্দেশ্য আসন্ন সিটি নির্বাচনে মেয়র আইভীর নৌকার মনোনয়ন (নমিনেশন) ঠেকানো। বিষয়টি আরও একবার প্রমাণ হয়েছে, শুক্রবার দেবোত্তর সম্পত্তি জিউস পুকুর রক্ষার দাবিতে ব্যানার হাতে নিয়ে হিন্দু নেতাদের আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশের মধ্য দিয়ে। এই সমাবেশে বক্তব্য রাখা হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা দেবোত্তর সম্পত্তির রক্ষার কথা যতবার বলেছেন তার চেয়ে কয়েকগুণ বাড়িয়ে বক্তব্য রেখেছেন আইভীর বিষোদগার করে। প্রায় প্রত্যেক বক্তার বক্তব্যেই এসেছে, মেয়রকে যেন আসন্ন নির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন দেওয়া না হয়। জিউস পুকুর ইস্যুতে যতগুলো কর্মসূচি পালিত হয়েছে, সবকটিতেই আইভীর বিষোদগার করে তাকে যাতে আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়া না হয় কিংবা মনোনয়ন দিলেও ভোট দিয়ে যেন পুনরায় মেয়র নির্বাচিত না করা হয় সেই আহ্বান জানান নেতারা। শুক্রবার পূজা উদযাপন পরিষদ ও হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের যৌথ ব্যানারে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপক কুমার সাহা। সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক শিখন সরকার শিপন, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের জেলা কমিটির আহ্বায়ক প্রদীপ দাস, মহানগরের সভাপতি লিটন পাল, মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অরুন কুমার দাস, সাধারণ সম্পাদক উত্তম সাহা, জাতীয় হিন্দু মহাজোট নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সভাপতি খোকন সাহা, হিন্দু পরিষদের নেতা রিপন ভাওয়াল, কৃষ্ণ আচার্য্য, সুজিত সরকার প্রমুখ। আসন্ন সিটি নির্বাচনে মেয়র আইভীকে নমিনেশন না দিতে আহ্বান জানান অরুন কুমার দাস। এমনকি নমিনেশন দিলেও নির্বাচনে তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। অরুন দাস বলেন, ‘আপনি (মেয়র) সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য কিছুই করেননি। দেবোত্তর সম্পত্তি দখল করে আপনি পার পাবেন না। নির্বাচন সামনে। আমাদের আন্দোলন কিন্তু চলছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ, ওনাকে যেন পুনরায় নমিনেশন না দেওয়া হয়। আগামী নির্বাচনে আমরা আপনার বিরুদ্ধে অবস্থান করবো। অবস্থান করতে বাধ্য হবো।’ খোকন সাহা বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জে হিন্দু সম্প্রদায়ের একমাত্র রক্ষাকর্তা ওসমান পরিবার। আমি বারবার অনুরোধ করে বলছি, যারা হিন্দুদের সম্পত্তি দখল করেছেন তাদের সম্পত্তি ফিরিয়ে দিন।’ শিখন সরকার শিপন বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জকে অস্থীতিশীল করার একটা পায়তরা চলছে। আমাদের কাছে সংবাদ আছে। জিউস পুকুর নিয়ে কিছু সমাবেশ আমরা করেছি। এই সমাবেশ আমাদের অব্যাহত থাকবে। ছদ্মবেশী অসাম্প্রদায়িক ব্যক্তি যারা আছে তাদেরকে আসন্ন নির্বাচনে কোনো অবস্থাতেই যেন নমিনেশন না দেওয়া হয়। এইটা আমরা হিন্দু সম্প্রদায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করবো। আইভীকে নমিনেশন দেওয়া হলে আমরা ভোট বর্জন করবো। পরিষ্কার হিসাব।’ প্রদীপ দাস বলেন, ‘আমরা হতবাক। সাতদিন পর আমরা আরও বড় কর্মসূচির ঘোষণা দেবো। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বলতে চাই, আপনাকে আমরা স্মারকলিপি দিয়েছি। আপনি আমাদের মা। আপনি ব্যবস্থা নিন।’ মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে এমন কর্মসূচি আগেও হয়েছে। ওইসব কর্মসূচিতেও মেয়র আইভীর বিষোদগার করা হয়েছে। তাকে যেন নৌকার মনোনয়ন না দেওয়া হয়, সেই দাবি জানানো হয়েছে। তবে এইসব কর্মসূচিতে সাধারণ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অংশগ্রহণ দেখা যায়নি। মেয়র আইভীর সমর্থকদের বরাবরই অভিযোগ, এইসব কর্মসূচির পেছনে একটি কুচক্রী মহল কাজ করছে। এই নারায়ণগঞ্জে সিটি মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী সকল ধর্মাবলম্বীদের জন্য সমানভাবে কাজ করেছেন। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য মন্দির, শ্মশান নির্মাণ করে দিয়েছেন। মহাশ্মশানে কাজ করা সৎকারকর্মীদের জন্য উন্নত সুবিধাসম্পন্ন পাকা আবাসস্থল করে দিয়েছেন। প্রতি পূজায় অনুদান দেওয়া হয় সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে। মেয়র আইভীই কখনই কোনো ধর্মাবলম্বীকে আলাদা চোখে দেখেননি। তারপরও দেবোত্তর সম্পত্তির নামে যেই কর্মসূচি পালিত হচ্ছে সেসব কেবলই ষড়যন্ত্র। এইসব ষড়যন্ত্র মানুষ বোঝে বলেই সাধারণ জনগণ তাদের পাশে দাঁড়ায় না।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *