News

ডিএনডিবাসীর দু:খ লাগবে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান শামীম ওসমান

ডান্ডিবার্তা | 17 February, 2020 | 2:59 pm

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
নানা জটিলতায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা তথা ডিএনডির মেগা প্রকল্প এখন অনেকটাই অনিশ্চয়তার পথে। প্রকল্পের প্রায় ৫৪ ভাগ শেষ হলেও বিভিন্ন স্থানীয় জটিলতার কারণে বাকি কাজ শেষ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এই বিশাল প্রকল্পের প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে আরডিপিপি (পুন: প্রকল্প প্রস্তাব) একনেকে পাস করানো নিয়ে সৃষ্ট আমলাতান্ত্রিক জটিলতা। জানা গেছে, প্রকল্পের প্রস্তাবিত আরডিপিপি’র ফাইলটি পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ে যেতেই সময় লেগেছে প্রায় ১৪মাস। ফলে ডিএনডি’র পুন: উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (আরডিপিপি) দ্রুত একনেকে পাস না হলে ডিএনডিবাসীর স্বপ্নের এই প্রকল্প মুখ থুবড়ে পরবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে কয়েক যুগ ধরে দখলে থাকা ডিএনডি এলাকার প্রায় ৮৯ কিলোমিটার উদ্ধার হওয়া খাল এবং নতুন করে খনন করা খালগুলো আবারো বেদখল হয়ে যাবে। ফলশ্রুতিতে গত ২ বছরে প্রকল্পে ব্যয় করা অর্থ ও পরিশ্রম দুটিই ভেস্তে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। অপরদিকে প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের দাবী, প্রকল্পের আরডিপিপি পাস হলে পুরো ডিএনডি এলাকাটি দেশের অন্যতম একটি পরিকল্পিত ও সুন্দর এলাকায় যেমন পরিণত হবে তেমনি কৃত্রিম জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে চিরতরে মুক্তি পাবে ডিএনডি এলাকার কমপক্ষে ৩৫লাখ মানুষ। জানা গেছে, ডিএনডি’র প্রায় ৩০ লাখ বাসিন্দার দুই যুগের কৃত্রিম জলাবদ্ধতা আর অবর্ণনীয় দুর্ভোগের স্থায়ী সমাধান করতে সরকার একটি মেগা প্রকল্প গ্রহণ করে। ২০১৬ সালের ৯ আগস্ট একনেকের সভায় ৫শ ৫৮ কোটি টাকার এই মেগা প্রকল্পটি পাস হওয়ার খবরে সিদ্ধিরগঞ্জ, ফতুল্লা, ঢাকার ডেমরা সহ আশপাশের এলাকায় আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। ২০১৭ সালের ১৫ অক্টোবর তৎকালীন পানি সম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের উপস্থিতিতে বিশাল জনসভার মাধ্যমে এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হয়। ২০১৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর এই প্রজেক্ট সম্পন্ন করতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে সেনাবাহিনীর চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পর ওই বছরের ৫ডিসেম্বর থেকে কাজ শুরু করে সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কন্সট্রাকসন ব্রিগেডের অধিনস্থ ১৯ ইঞ্জিনিয়ারিং কন্সট্রাকশন ব্যাটেলিয়ন। এদিকে প্রকল্পের কাজ চলতি বছরের জুনে সম্পন্ন হওয়া কথা থাকলেও দেখা দেয় নানা প্রতিবন্ধকতা। জানা গেছে, ইতোমধ্যেই সেনাবাহিনীর তড়িৎ গতির কাজ দৃশ্যমান হওয়ার পরপরই কৃত্রিম জলাবদ্ধা থেকে ধীরে ধীরে মুক্তি মিলতে শুরু করে ডিএনডিবাসীর। গত ২বছরে সেনাবাহিনী পুরো ডিএনডি এলাকার ৯৩দশমকি ৯৯ কিলোমিটার খালের মধ্যে ৮৮দশমিক ৯৫কিলোমিটার খাল উদ্ধার এবং ৬৩দশমিক ৭৭কিলোমিটার অবৈধ স্থপানা উচ্ছেদ করতে সক্ষম হয়েছে। পাশাপাশি ডিএনডির এই প্রজেক্টে থাকা নতুন ও আধুনিক পাম্পগুলোও ইতোমধ্যে আনা হয়েছে বলে জানা গেছে। সেনাবাহিনী সূত্রে জানা গেছে, নতুন করে আনা পাম্পগুলোর সাথে যুক্ত হয়েছে অত্যাধুনিক ডিভাইস যাতে পাম্পগুলো সয়ংক্রিয়ভাবেই পানি টানার কাজ করবে। এতে বাঁচবে বিশাল বিদ্যুৎ খরচও। তবে সূত্র জানায়, প্রকল্পের আওতাধীন ডিএনডি’র নিজস্ব জায়গায় অবৈধভাবে গড়ে উঠা ২৭টি মসজিদ, ১১টি মাদ্রাসা, ১৩টি সরকারী-বেসরকারী স্কুল ও কলেজ, একটি মন্দির, ১টি পুলিশ চেক পোস্ট, ৪টি পেট্রোল পাম্প ও ওয়াসার পাম্প হাউস, ৫টি বেসরকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে যা উচ্ছেদ করার ক্ষেত্রে বিশাল জটিলতা রয়েছে। ইতোমধেই প্রায় ২৮জন অবৈধ দখলদার উচ্চ ও নি¤œ আদালতে রীট করার কারণেও উচ্ছেদ অভিযানে বাধা পেতে হচ্ছে সেনাবাহিনীকে। তবে ডিএনডির এই মেগা প্রজেক্টের সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রকল্পটির রিভাইস প্রকল্প প্রস্তাবটি একনেকে পাস হওয়ার জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে এই প্রকল্পটির যে ব্যয় ধরা হয়েছিল সেখান থেকে নানা কারণে প্রকল্প ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে (প্রস্তাবিত) প্রায় সাড়ে ৬শ কোটি টাকা। প্রকল্পে ডিপিপি ও আরডিপিপির তুলনামূলক বিবরনীতে দেখা গেছে, ভূমি অধিগ্রহণের জন্য অনুমোদিত ডিপিপিতে ১শ ৭০কোটি টাকা ধরা হলেও অধিগ্রহনের পরিশোধিত অর্থের পরিমাণ সরকার ৩গুন বৃদ্ধি করায় আরডিপিপিতে ব্যয় বেড়েছে আরো ১শ কোটি টাকা। শিমরাইল, আদমজীনগর, পাগলা, ফতুল্লা, শ্যামপুরের পাম্প হাউজ ও পাম্পিং স্টেশনের জন্য ডিপিপিতে ধরা হয়েছিল ৬শ ৩৭কোটি টাকা কিন্তু আরডিপিপিতে ব্যয় বৃদ্ধি করা হয়েছে আরো ৪শ কোটি টাকার উপরে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, ক্রয়কৃত পাম্প অনুযায়ী ডিজাইন সংশোধন ও পাম্প অটোমেশনের কারণে অর্থের বৃদ্ধি করা হয়েছে। খালগুলোর নাব্যতা রক্ষার কারণে ১ (ওয়ান) ভেল্টের স্থলে ২(টু) ভেল্টের কালভার্টের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই খাতে ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাড়ে ৪শ কোটি টাকা। এছাড়া ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকায় খাল পুন:খনন, বর্জ্য অপসারণ, পরিবহন খাতে ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে ৫৫১শতাংশ। পাশাপাশি পুরো ডিএনডি এলাকায় ওয়াক ওয়ে নির্মাণ, খাল সুরক্ষায় সোর পাইল নির্মাণ, পাম্প হাউজের আউটফল ক্যানেল নির্মাণ, ইউটিলিটি শিফটিংসহ কয়েকটি খাতে ডিপিপিতে ব্যয় ধরা হয়নি বলে সেখানেও ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে শত ভাগ। ফলে অনুমোদিত প্রকল্পের ৫৫৮কোটি টাকা ব্যয়ের বিপরীতে প্রস্তাবিত আরডিপিপিতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১হাজার ২৯কোটি টাকার বেশী। ডিএনডি’র এই মেগা প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তারা জানান, আমরা এই প্রজক্টকে সাসটেইনেবল (টেকসই) করতেই আরডিপিপি তৈরী করেছি। পুরো ডিএনডি এলাকাটি যাতে দেশের অন্যতম দৃষ্টিনন্দন এবং আগামী কয়েক যুগে যাতে এই এলাকাটিতে কোন কৃত্রিম জলাবদ্ধতা সৃষ্টি না হয় সেবিষয়টি আমরা গুরুত্ব দিয়েছি। পাশাপাশি আরডিপিপি অনুযায়ী প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে পুরো ডিএনডি এলাকায় ফের ইরিগেশন শুরু হবে। তবে প্রকল্পের সামনে স্থানীয় বাধার মধ্যে অন্যতম হলো মূলত এখানে ডাম্পিং নেই এবং খালগুলোর নিচ দিয়ে গ্যাস, বিদ্যুতের, ওয়াসা, টেলিফোনসহ বিভিন্ন লাইন রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব লাইন সরিয়ে নিতে আমাদের কোন সহযোগিতা করছে না বলে পদে পদে বাধার সম্মুখীন হতে হয়। তবে এই মেগা প্রজেক্টের ভবিষ্যত নিয়ে সবচেয়ে বড় বাধা বা ইস্যু প্রস্তাবিত প্রকল্প প্রস্তাবটি অনুমোদন করানো বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। তারা বলেছেন, আরডিপিপিটি একনেকে পাস না হলে এই ২বছরের পরিশ্রম ও অর্থ ভেস্তে যাবে। কারণ, উদ্ধার হওয়া খালগুলো ইতিমধ্যেই আবারো দখল ও অসচেতনার কারণে পূর্বের অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে। ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনের এমপি শামীম ওসমান জানান, হাতিরঝিলের মত এলাকাকে কিভাবে দেশের অন্যতম দৃষ্টিনন্দন একটি জায়গায় রূপ দেয়া যায় সেটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেখিয়েছেন। ডিএনডির লাখ লাখ মানুষ এখন এই প্রকল্পে প্রধানমন্ত্রীর হাতের ছোঁয়া চাইছেন। আমাদের বিশ^াস আরডিপিপিও তিনি একনেকে পাস করাবেন কারণ তিনি ডিএনডি’র ৩৫লাখের উপর মানুষের দুঃখ বুঝেন বলেই এই মেগা প্রকল্প উপহার দিয়েছিলেন। প্রকল্প ঘোষণার পর হাজার হাজার মানুষ তার জন্য দোয়া করেছেন। আরডিপিপি পাস হলে পুরো ডিএনডি এলাকাটি হবে রাজধানীর চেয়ে দৃষ্টিনন্দন ও সুপরিকল্পিত একটি এলাকা।

[social_share_button themes='theme1']

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
৩৩০
সুস্থ
৩৩
মৃত্যু
২১

বিশ্বে

আক্রান্ত
১,৬০৫,২৭৭
সুস্থ
৩৫৬,৯২৫
মৃত্যু
৯৫,৭৫১