আজ: রবিবার | ২৯শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১৪ই রবিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি | সকাল ৭:১৫

সংবাদের পাতায় স্বাগতম

তরুণদের নেতৃত্বে প্রাণ পাবে রাজনীতি!

ডান্ডিবার্তা | ২১ নভেম্বর, ২০২০ | ৮:০২

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে দ্বন্ধ কোন্দল আর স্বার্থ হাছিলের রাজনীতিবীদদের বিরুদ্ধে একের পর এক বিতর্কিত কর্মকান্ডের অভিযোগ উঠেই আসছে। ক্ষমতাসীসদল কিংবা ক্ষমতার বাহিরে থাকা দলগুলোর নেতৃবৃন্দের মাঝে উঠে আসা এ ধরনের অভিযোগ দীর্ঘদীনের। তবে এক্ষেত্রে ক্লিন ইমেজের পরিচয় দিয়ে আসছে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে থাকা তরুন নেতৃবৃন্দ। বিভিন্ন জাতীয় সমস্যা কিংবা সামাজিক সমস্যা সমাধানে সিনিয়র নেতৃবৃন্দ থেকে অনেকটাই এগিয়ে তরুন নেতৃবৃন্দ। সম্প্রতি করোনাকালীন দুঃসময়ে আওয়ামীলী-বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিকদলের তরুন নেতৃবৃন্দও নানা ভাবে সাধারন মানুষের পাশে থেকেছেন। এমনকি করোনাকালীন দুঃসময়ের শুরু থেকে কৃষকের ধান কেটে দেয়া, করোনা সংক্রমন থেকে নিরাপদ থাকার জন্য লিফলেট বিতরন এবং রাতের আধারে সাধারন মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরনসহ বিভিন্ন সহযোগিতার মাধ্যমে ইতিমধ্যে অলোচনায় রয়েছে নারায়ণগঞ্জের তরুন নেতৃত্ব। মানব সেবার মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে কৌশলগত দিক দিয়ে সিনিয়রদের চেয়ে বেশ জোড়ে সোরে এগিয়ে যাচ্ছেন নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব দান দান কারি উদীয়মান নেতারা। আর এই সকল নেতৃত্ব স্থান দখল করা নেতাদের বিরুদ্ধে নেই তেমন কোন বির্তকিত কর্মকান্ডের অভিযোগ। এ সকল তরুণ নেতাদের মধ্যে যারা বর্তমান ক্ষমতাশীন দলের অন্তভূক্ত তাদের মধ্যে বেশ দাপটিয় কায়দায় সমালোচনা ছাড়াই সুনামের সাথে রাজপথ কাপিয়ে যাচ্ছেন তরুন নেতৃবৃন্দ। তবে ক্ষমতাসীনদলের তরুন নেতৃবৃন্দের মধ্যে অধিকাংশই ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ রয়েছেন। শুধু তাই নয় সারাদেশে যখন ছাত্রলীগকে নিয়ে নানা অপকর্মের তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশ হতে থাকে। এক্ষেত্রে সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র নারায়ণগঞ্জের তরুন নেতৃবৃন্দের রাজনীতির প্রেক্ষাপট। এছাড়াও নারায়ণগঞ্জের তরুন রাজনীতিবীদরা রাজনীাতর পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তাদের দক্ষতার প্রমান দিয়ে আসছেন। সাবেক জেলা ছাত্রলীগের কমিটিতে নেতৃত্ব দেয়া সভাপতি শেখ সাফায়েত আলম সানি ও সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সুজনের নেতৃত্বে থাকা কমিটির আদর্শ অনুসরন করেই বর্তমানে জেলা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ তাদের রাজনৈতিক কর্মকান্ড সেভাবেই অনুসরন করে রাজনীতি করে আসছেন বর্তমান তরুন রাজনীতিবীদ। এদিকে, বর্তমান জেলা ছাত্রলীগের কমিটির বয়স প্রায় আড়াই বছরেরও বেশি অতিবাহিত হলেও তেমন কোন সফলতা দেখাতে পারেনি। তবে এই কমিটির সভাপতি আব্দুল আজিজ সুনামের সাথেই তার সাংগঠনিক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। যা আগামী দিনে তার রাজনৈতিক পথকে আরও সুগম করবে বলে ধারণা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। অপরদিকে, প্রায় ৩য় দফা ক্ষমতার বাহিরে থাকা বিএনপির সহযোগী সংগঠনগুলোর তরুণ নেতৃবৃন্দরা রাজনৈতিক মামলা হামলার শিকার হওয়ার পরও দল থেকে পিছু হটেননি। বর্তমান নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতৃত্ব দেয়া সিনিয়র নেতাদের চেয়ে এই তরুণ উদীয়মান নেতারা দলকে সাংগঠনিক ভাবে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন বেশ জোড়ে সোড়ে। এই সকল তরুণ নেতৃবৃন্দদের মধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে সাংগঠনিক দক্ষতার পরিচয় দিয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছেন মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আবুল কাউছার আশা, মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি সাহেদ আহম্মেদ, সাধারণ সম্পাদক মমিনুর রহমান বাবু। যারা রাজনৈতিক অঙ্গনে মামলা হামলার শিকার হয়েও সাংগঠনিক ভাবে নিজেদের পাশাপাশি সংগঠনকে চাঙ্গা করে রেখেছেন পারদর্শীতার সহিত। তবে মজার বিষয় হলো, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত রানা পদ ভাগিয়ে আনতে সক্ষম হলেও হয়ে আছেন একঘরে। গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকলেও সংগঠনটিকে শক্তিশালী করার পিছনে নেই তার পরিশ্রম। উল্টো মাদক ব্যবসায়ী হওয়ার অভিযোগে বেশীর ভাগ সময় থাকেন আত্মগোপনে। ফলে সংগঠনের সকল কাজ একাই করে যাচ্ছেন সভাপতি আবুল কাউছার আশা আর তাকে সহযোগীতা করছেন কমিটির অন্যান্য সদস্যরা। এদিকে, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের ক্ষেত্রে ঘটছে ঠিক উল্টো। বেশ কয়েকদিন পূর্বে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুর রহমানের বাড়ি থেকে মাদক সহ আটক করা হয় আওয়ামী লীগ নেত্রীর ছেলেকে। ঠিক একই ধারায় সভাপতি আনোয়ার সাহাদাত সায়েম সমালোচনায় জড়িয়ে পড়েছে ক্যাসিনো ব্যবসায়ী ও তার খালাতো ভাই সেলিম প্রধানের কারণে। সেই দিক দিয়ে এই সংগঠনের নেতাদের সমালোচনার কোন কমতি নেই। অপরদিকে, জেলা ছাত্রদলের ক্ষেত্রে সভাপতি মশিউর রহমান রনি নিজের কমিটিকে পূর্নাঙ্গ রূপ দিতে ব্যর্থ হয়েছেন ডাক-ঢোল পিটিয়ে। এক কথায় বলা চলে আওয়ামী পরিবারের সন্তান রনি ঘর গুছাতে ব্যর্থ হওয়ার পরও দেশ গুছাতে মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন। সে নিজের কমিটিকে সাজাতে না পারলেও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের পদের লোভ সামাল দিতে পারেনি। তবে সেখান থেকেও মুখ থুবড়ে পড়েছেন ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে আসা এই নেতা। আর সাধারণ সম্পাদক খাইরুল ইসলাম সজিব যার স্বপ্ন ছিলো সোনারাগাঁ থানা কমিটির পদে থাকার। কিন্তু বাবার অর্থের জোড়ে সোনার হরিণ “জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদ” হাতে পেয়ে গেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোন পারদর্শীতা দেখাতে সক্ষম হননি। শুরু থেকে দিয়ে যাচ্ছেন ব্যর্থতার পরিচয়। সব মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে ক্ষমতাশীন দল আওয়ামী লীগ ও রাজপথে আন্দোলনে থাকা বিএনপি এর সহযোগী সংগঠনের নেতৃত্ব দেয়া উদীয়মান তরুণ রাজনীতিবিদরাই আগামী দিনে নারায়ণগঞ্জের নেতৃত্ব দিয়ে তাদের ধারাবাহিতকা অব্যাহত রাখবে। সেই সাথে এই সকল নেতৃত্বের মাধ্যমেই নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে সুবাতাস বইবে বলে আশা করেন বিশ্লেষকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *