Home » শেষের পাতা » স্কুল ছাত্র ধ্রুব হত্যায় খুনিদের গ্রেপ্তার দাবিতে মানববন্ধন

তারা একে অপরের বিরুদ্ধে

০৬ ডিসেম্বর, ২০২১ | ৭:২০ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 54 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (নাসিক) নির্বাচনে দলীয়ভাবে অংশ নিচ্ছে না বিএনপি। তবে মেয়র পদে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন বিএনপি নেতা সাখাওয়াত হোসেন খান ও এটিএম কামাল। মেয়র পদে অন্যান্য প্রার্থীর পাশাপাশি পরস্পরের বিরুদ্ধেও লড়বেন একই দলের দুই নেতা। দুইজনে আবার একই কমিটির নেতা। তাদের মধ্যে আবার সাখাওয়াত হোসেন খান গত নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর বিপরীতে বিপুল ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন। নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা আগেই দিয়েছিলেন মহানগর বিএনপির সহসভাপতি অ্যাড. সাখাওয়াত হোসেন খান ও সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল। গতকাল রোববার দুপুরে তারা দু’জনই জেলা নির্বাচন অফিসারের কার্যালয় থেকে মেয়র পদে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। বিএনপি দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। এদিকে আলোচনা উঠেছে, বিএনপির দুই নেতা প্রার্থী হওয়ায় দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভাজন তৈরি হয়েছে। দলীয় নেতা-কর্মীরা কাকে সমর্থন দেবেন তা নিয়ে পড়েছেন দোলাচলে। আবার সিটি মেয়র পদে প্রার্থীতা ঘোষণা করায় তাদের উপর ক্ষুব্ধ বিএনপির একটি অংশ। তারা বলছেন, দলীয়ভাবে এই নির্বাচনেও অংশ নেবে না বিএনপি। স্থানীয় নির্বাচন তাদের কাছে মুখ্য নয়। দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করাই নেতাদের লক্ষ্য। তাই তারা সিটি নির্বাচন নিয়ে কিছু ভাবছেন না। মহানগর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সবুর খান সেন্টু বলেন, ‘বর্তমান শাসক আওয়ামী লীগ সরকারের আওতায় ২০১৮ সালের পরে কোনো সিটি নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করেনি। সারাদেশে এখন একতরফা নির্বাচন হচ্ছে। ইউপি নির্বাচনগুলো এর উদাহরণ। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। বিএনপি তার গঠনতন্ত্র মোতাবেক চলে। এই দলে শৃঙ্খলা রয়েছে। আমাদের এখন সবচেয়ে বড় কাজ কীভাবে বেগম খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসা প্রদান করা যায়। আন্দোলন-সংগ্রামেই আমরা সম্পৃক্ত। দল যেহেতু নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে না, সেখানে দলের কোনো কর্মকর্তার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার অধিকার নেই। যদি কেউ নির্বাচনে যেতে চায় তাহলে তাকে পদত্যাগ করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে হবে। এটাই নিয়ম।’ ২০১১ সালে প্রথম সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দলই অংশ নিয়েছিল। ওই নির্বাচনে তিনজন হেভিওয়েট প্রার্থী ছিলেন। একদিকে আওয়ামী লীগের ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী, শামীম ওসমান অন্যদিকে বিএনপির অ্যাড. তৈমুর আলম খন্দকার। ভোটের একদিন আগে তৈমুর আলম খন্দকার দলীয় সিদ্ধান্তে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালে মূল লড়াইটা হয় আইভী ও শামীমের মধ্যে। ওই দফা নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয় পান আইভী। ২০১৬ সালে দ্বিতীয় দফায় সিটি নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে অংশ নেন ডা. আইভী। ওইবার ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেন সাত খুন মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী হিসেবে আলোচনায় আসা সাখাওয়াত হোসেন খান। ওই নির্বাচনেও প্রায় ৮০ হাজার ভোটের বিরাট ব্যবধানে বিজয়ী হন ডা. আইভী। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দলীয় প্রতীকের বাহিরে সাখাওয়াত-কামালের নিজস্ব ভোট ব্যাংক নেই। মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন না করতে পারলে তাদের অবস্থা হবে শোচনীয়। কেননা নারায়ণগঞ্জে ধানের শীষ প্রতীকের যে ভোটব্যাংক আছে দলগত ভাবে নির্বাচন না করলে তার কতটুকু তারা পাবেন তা নিয়ে রয়েছে আলোচনা। অন্যদিকে নৌকার প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর দলীয় ভোটের বাহিরে রয়েছে নিজস্ব ভোট ব্যাংক। নগরীর ফ্লোটিং ভোটারের (যারা মার্কা না দেখে প্রার্থীকে ভোট দেন) সিংহভাগ ভোট পাবেন মেয়র আইভী। তাই মেয়র পদে মূল লড়াই আইভীর সঙ্গে না হয়ে হবে সাখাওয়াত-কামালের লড়াই। যে লড়াইয়ে জানা যাবে কে বেশি জনপ্রিয়। উল্লেখ্য, গত ৩০ নভেম্বর নাসিক নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে ইসি। তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১৫ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ। ভোটগ্রহণ হবে আগামী বছরের ১৬ জানুয়ারি।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *