Home » শেষের পাতা » স্কুল ছাত্র ধ্রুব হত্যায় খুনিদের গ্রেপ্তার দাবিতে মানববন্ধন

তেলচোরদের কাছে মেঘনা ডিপো জিম্মি

০৫ ডিসেম্বর, ২০২১ | ৮:৫৭ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 55 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

ফতুল্লায় যমুনা তেলের ডিপো শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন প্রায় ৩০ বছর যাবত প্রভাবশালীদের হাতের মুঠোয় বন্দি রয়েছে। এ ইউনিয়নের পদ পদবী ব্যবহার করে হাতেগোনা কয়েকজন কোটি কোটি টাকার সরকারী তেল রাতের অন্ধকারে হাতিয়ে নিচ্ছে-সাধারণ সদস্যদের অভিযোগ। ইউনিয়নের সুনাম রক্ষার্থে সাধারন সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরেই নির্বাচনের জন্য চেষ্টা করছেন। কিন্তু নির্বাচন চাইলেই প্রভাবশালীরা তাদের মারধর করেন।সদস্যদের অভিযোগ, তাদের ইউনিয়নে প্রায় ৬শ’র বেশি সদস্য রয়েছে। এসব সদস্যরা সকলেই ট্যাংকলরীর চালক। আবার এদের মধ্যে কেউ কেউ আছেন সরকারী তেল চুরি করে অঢেল সম্পদের মালিক বনে গেছেন। তাদের মধ্যে আফসু ওরফে ডিব্বাওয়াল আফসু একজন। তিনি এক সময় ডিপোতে তেল কুড়িয়ে বিক্রি করতেন। এখন একাধিক বহুতল বাড়ি, একাধিক ব্রিকফিল্ডসহ শত কোটি টাকার মালিক। তার ছোট ভাই সালাউদ্দিন সেও তেল কুড়াতে এসে এখন কোটিপতি। তাদের মধ্যে আফসু মিয়া ওরফে তেলচোর আফসু মেঘনা তেল ডিপো শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি এবং তার ছোট ভাই সালাউদ্দিন যমুনা তেল ডিপো শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতির পদ দখল করে বসে আছেন।সরকারী তেল ডিপো মেঘনা কে কেন্দ্র করে টোকাই থেকে কোটিপতি বনে যাওয়া তেল চোরা আফসু ওরফে ডিব্বাওয়ালা আফসুর জিম্মিদশা থেকে মুক্তি চায় নির্যাতিত, ভুক্তভোগী চালক- শ্রমিকরা। চাদাঁবাজীর অভিযোগে কয়েকমাস পূর্বে তেল চোরা আফসু- সালাউদ্দিনের ভাতিজা রাজিব কে পুলিশ গ্রেফতার করলেও রহস্যজনক কারনে চাঁদা আদায়ের মূল হোতা মেঘনা তেল ডিপোর চালক- শ্রমিকদের নিকট মূর্তিমাণ আতংক তেল চোরা আফসু ওরফে ডিব্বাওয়ালা আফসু সহ অপর কোনো চাঁদবাজ কে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। কেন্দ্রের নিষেধ থাকলেও জোর করে ফতুল্লার মেঘনা ফতুল্লার সরকারী তেল ডিপো মেঘনা ডিপোর শ্রমিক ফান্ডের নামে ট্যাংকলড়ী থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোেেগ আফসু ওরফে তেল চোরা আফসুর ভাতিজা রাজিব কে আটক করে (৩৫) ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ।এ সময় তেল চোরা আফসুর ছোট ভাই পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায় বলে প্রতক্ষ্যদর্শীরা জানায়। আটক রাজিব ফাজিলপুর এলাকার মৃত গিয়াসউদ্দিনের ছেলে এবং ফতুল্লার শীর্ষ তেল চোর আফসার উদ্দিন আফসুর ভাতিজা।ভুক্তভোগী শ্রমিকেরা জানায়, আফসু ও শাহিনের নেতৃত্বে প্রতিদিনই মেঘনা ডিপোতে তেল নিতে আসা ট্যাঙ্কলড়ি থেকে ১৭০টাকা করে চাঁদা আদায় করে রাজিব ও বাবুল। কখনো কখনো এই চাঁদার পরিমাণ ২ থেকে আড়াইশ টাকা পর্যন্ত নেয়া হয়। কেউ দিতে না চাইলে তাকে মারধরসহ গাড়ি লোড করতে দেয় না চাঁদাবাজরা। বেশ কিছুদিন ধরেই চাঁদা আদায় করতে কেন্দ্র থেকে নিষেধ করা হয়েছিল। কিন্তু তারা সেসব নির্দেশনাও মানেনি। তারা আরও জানায় গত ৩০বছর ধরে ট্যাঙ্কলড়ি শ্রমিক ইউনিয়নে শ্রমিক ফান্ডের নামে তোলা অর্থ একক ভাবেই আত্মসাত করে আসছিলেন তেলচোরা আফসু ওরফে ডিব্বা ওয়ালা আফসু। খোঁজ নিয়ে আরো জানা যায়, মেঘনা ট্যাংকলরি  শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি পদটি বিগত ৩০বছর ধরে আকড়ে ধরে রেখেছে ফাজিলপুর এলাকার মৃত এলাহি বক্সের ছেলে আফসার উদ্দিন ওরফে তেল চোরা আফসু। স্থানীয় পর্যায়ে তাকে তেল চোরা আফসু নামেই চেনে। তবে এই তেলচোরা  আফসু ট্যাঙ্কলড়ি চালক ও হেলপারদের কাছে এক মূর্তমান আতঙ্কের নাম। আফসু এক সময় মেঘনা ডিপোতে বিভিন্ন ট্যাঙ্কলরি তেল টোকাইতো ও মদ খেয়ে প্রতিদিন মেঘনা ডিপোর মেইন গেটে বিভিন্ন পথচারী ও ডিপোতে কর্মরত বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতো বলে জানা যায়। এলাকার অনেকের তথ্যে জানা গেছে, তেলচোরা আফসুর কাছ থেকে হিসেব চাইতে গিয়ে এই ৩০ বছরে একাধিক শ্রমিক মারধরের শিকার হয়েছেন।আফসুর ছোট ভাই আরেক তেল চোর ও যুবদল নেতা সালাউদ্দিনের মাধ্যমে শ্রমিকদের সায়েস্তা করিয়ে থাকেন তেলচোর আফসু। তাদের দুই ভাইয়ের হাতে মারধরের শিকার হয়নি এমন চালক, হেলপার মেঘনা ডিপোতে খুঁজে পাওয়া দুস্কর। ওদিকে নির্বাচন দাবি করায় যমুনা ডিপোর শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি খলিলুর রহমান বাবুলকে বেধড়ক মারধর করেছেন ওই গুণধর দুই ভাই। এ ঘটনায় ফতুল্লায় থানায় ভুক্তভোগি লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন। অনুসন্ধানে গিয়ে জানা গেছে, বিগত ৩০ বছর ধরে এই ডিপোতে শ্রমিক ইউনিয়নের নামে যত চাঁদা উত্তোলন করা হয়েছে তার পুরোটাই গিয়েছে ডিব্বাওয়ালা আফসুর পকেটে। এর একটি টাকাও শ্রমিক কল্যাণে খরচ বা শ্রমিক ফান্ডে নেই। শ্রমিকের রক্ত পানি করা ঘাম ঝরানো এই টাকায় আলিসান বাড়ি, গাড়ির মালিক বনে গেছেন এই তেল চোরা ব্যক্তিটি।ট্যাংঙ্কলড়ি চালক ও শ্রমিক সূত্র জানায়, মেঘনা ডিপোতে একসময় প্রায় কয়েক শতাধিক গাড়ি লোড করতে আসতো। কিন্তু আফসুর যন্ত্রণার কারণে সে সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন এসব গাড়ি থেকে শ্রমিক ইউনিয়নের নামে ১শ ৪০ থেকে ২০০ টাকা এবং মালিক সমিতির নামে ৩০ টাকা করে চাঁদা তিনিই উত্তোলন করছেন।এ টাকাটা শ্রমিকদের কল্যাণে ব্যয় করার কথা থাকলেও একটি টাকাও কোনো শ্রমিকের কল্যাণে ব্যয় করা হয় না বলে অভিযোগ করেছেন ট্যাঙ্কলড়ি চালক হেলপাররা। শুধু চাঁদার টাকাই নয়, বিভিন্ন ট্যাঙ্কলড়ি চালক ও হেলপারদের জিম্মি করে প্রতি গাড়ি থেকে নানা ভাবে ২ থেকে ৫শ টাকা করে জোরপূর্বক আদায় করছে আফসু ও তার সহযোগীরা। এর বাইরেও ডিপোর ভেতর থেকে প্রতিদিন মিটারম্যানদের ব্ল্যাকমেইল করে প্রতি মিটার থেকে তেল আদায় করছে বলে জানা যায়। একাধিক সূত্র থেকে জানা যায়, প্রশাসনের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে মেঘনা ডিপোতে অন্যায়ের রাম রাজত্ব চালিয়ে যাচ্ছে আফসার উদ্দিন ওরফে তেল চোরা আফসু। যার ফলে এসব কিছু সে থানা পুলিশের নাকের ডগা দিয়ে করলেও পুলিশ তার বিরুদ্ধে কোনো রকম ব্যবস্থা নিচ্ছে না।এদিকে নারায়ণগঞ্জের সর্বত্র চাউর রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সংস্থাসহ বিশেষ পেশার অনেককেই ম্যানেজ করে শীর্ষ তেল চোরদের গডফাদার আফসু ও তার অন্যান্য সহযোগীরা গ্রেফতার এড়াতে এবং মামলায় কোন আসামী যাতে না করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা বাহীনির অভিযানে পুঁচকে তেল চোররা গ্রেফতার হলেও আড়ালেই থেকে যায় গডফাদাররা। ফলে কোনভাবেই ডিপোর এ চুরি থামানো যাচ্ছে না।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *