Home » শেষের পাতা » বন্দরে ২৭টি পূজামন্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

তৈমূরের প্রার্থীতায় বিপাকে আ’লীগ

০২ জানুয়ারি, ২০২২ | ৮:৪৭ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 110 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশ নির্বাচনে মেয়র পদের ৭ প্রার্থীই চষে বেড়াচ্ছেন নগরীর সর্বত্র। সকলেই বিভিন্ন প্রতিশ্রুতর মাধ্যমে ভোট প্রার্থনা করে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু সরকার দলীয় প্রার্থী সেলিনা হায়ত আইভীর বিজয়ে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এড. তৈমূর আলম খন্দার। তৈমূরের প্রার্থীতায় বিপাকে পড়েছে আইভী শিবির। সেই সাথে প্রতিদিনই আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা নারায়ণগঞ্জে এসে আইভীর পক্ষে সামাবেশ করে যাচ্ছেন। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আইভীর জন্য বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে তৈমূর আলম খন্দকার। আইভীর বিজয় নিশ্চিত জেনে আইভী বিভিন্ন সমাবেশে নাসিক নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীদের আহবান জানিয়েছেন অংশ নিতে। মনোনয়ন সংগ্রহের সময় নির্ধারন হলে বিএনপির ৩জন মনোনয়ন সংগ্রহ করেন। তখনও তৈমূর আলম মনোনয়ন নেননি। তখন আইভী ছিলেন ড্যাম কেয়ার। শেষ মূহুর্তে তৈমূর মনোনয়ন সংগ্রহ করায় কিছুটা বিচলিত হন আইভী শিবর। তখনও তাদের মধ্যে তেমন চিন্তা ছিল না। নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে আইভী শিবিরে ততই চিন্তা দানা বাধতে শুরু করেছে। আর এতে করে আইভী কিছুটা বিচলিত হয়ে পড়ছেন। যার দরুন আইভীকে সংবাদকর্মরা নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করলে তিনি মাঝে মধ্যে উত্তেজিত হয়ে যান। নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাািশত সংবাদ থেকে জানা যায়, আইভী জালকুড়িতে নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর আগে সাংবাদিকরা তাকে প্রশ্ন করতে শুরু করেন। দুটি প্রশ্নের উত্তর দেবার পর তৈমূর আলম খন্দকারের অভিযোগ তোলার বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করেন একজন গণমাধ্যমকর্মী। কিছুটা কৌশলী উত্তর দেন আইভী। এরপরেই দলের পার্টি অফিসে সাংসদের উপস্থিতিতে কার্যক্রম পরিচালনা বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিতেই উত্তেজিত হন আইভী। বলে উঠেন, ‘এইটা আপনে অন্য বিষয় টেনে আনছেন, আমি কাজ করতে আসছি আমাকে কাজ করতে দেন’। তার এমন উত্তেজিত মন্তব্যের পরেই দ্রুত সরে যান গণমাধ্যমকর্মীরা। তখন স্থানীয় এক লোক বলে উঠেন তার এমন আচরণ নতুন কিছু নয়। নিজের মনমতো প্রশ্ন না হলেই চটে যান তিনি। এদিকে সংবাদকর্মীদের মন্তব্য আইভীর এমন আচরণ দেখে সকলেই অভ্যস্ত। অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকারকে এক বা দুই বার নয়, অসংখ্যবার তাকে প্রশ্ন করা হয়েছে তিনি শামীম ওসমানের ভরসায় নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন কিনা? প্রতিবারই তিনি শান্তভাবে নিজের অবস্থান জানিয়েছেন। কে কোন গণমাধ্যমে কাজ করেন তা বেঁছে বেঁছে তিনি উত্তর দেননি। একই প্রশ্ন একাধিকবার ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে করা হলেও উত্তর দিয়েছেন নিজের মত করে। গণমাধ্যমকর্মীদের বরণ করে নেয়ার এমন উদাহরণ বার বারই দেখিয়েছেন তৈমূর। মনোনয়ন ক্রয় থেকে শুরু করে প্রচার প্রচারণার ২য় দিন পর্যন্ত অসংখ্যবার তৈমূর মুখোমুখী হয়েছেন গণমাধ্যমের। প্রচার প্রচারণার মাঝখানে বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মী তাকে আটকে জানতে চেয়েছেন তাদের অজানা থাকা প্রশ্নের উত্তর। কাউকেই নিরাশ করেননি তিনি। শান্ত ভাবে উত্তর দিয়ে সহায়তা করেছেন গণমাধ্যমকর্মীকে। অন্যদিকে ঠিক বিপরীত অবস্থানে আইভী। মনোনয়ন ক্রয় এবং জমার দিন আসেননি নির্বাচন অফিসে। আইভী গণমাধ্যমের মুখোমুখি হবার ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী। নিজ বাসায় গণমাধ্যম কর্মীদের ডেকে নিয়ে দিয়েছেন আলাদাভাবে ব্রিফিং। প্রবেশকালেও গণমাধ্যমকর্মীদের ছিলো বাধ্য বাধ্যকতা। ফলে অনেকেই সেই ব্রিফিং এ যুক্ত হতে পারেননি। নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্ধের দিনে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হলেও তা ছিলো খুবই সংক্ষিপ্ত। ফলে নির্বাচনের গণসংযোগকালে তার কাছে প্রশ্ন নিয়ে হাজির হয়েছেন অনেক সাংবাদিক। কিন্তু প্রশ্ন তার কাছে কিছুটা বিব্রতকর মনে হলেই উত্তেজিত হয়ে দ্রুত সরে যেতেন আইভী। রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গণমাধ্যমের সামনে যারা কথা বলতে চাননা মূলত নিজেদের দুর্বলতা নিয়ে চিন্তিত থাকেন। ফলে আইভী বরাবরই গণমাধ্যম কর্মীদের প্রশ্ন নিয়ে এড়িয়ে যেতে চান। অন্যদিকে বিপরীত অবস্থানে থাকেন স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকার। তাকে যেকোন সাংবাদিক যা প্রশ্ন করতে চায় তা শুনেন এবং উত্তর দেন নির্ভয়ে। এদিকে আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান দিপু নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাদের উদ্দেশ্য বলেন, তারা নির্বাচনকে সামনে রেখে যে কোনো অঘটন অথবা যে কোনো নাশকতামূলক কর্মকান্ড করতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন। তিনি এক প্রতিক্রিয়াত তিনি এ ধারনা কথা ব্যক্ত করেন। দিপু বলেন, আসলে নির্বাচনকে সামনে রেখে এবং তৈমূর আলম খন্দকারকে সামনে রেখে তারা বিভিন্ন উস্কানিমূলক কথাবার্তা এবং সাম্প্রদায়িকমূলক কথাবার্তা বলে নারায়ণগঞ্জে দাঙ্গা হাঙ্গামা করতে চায়। তিনি আরও বলেন, সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে তাদের নিশ্চিত পরাজয় জেনেই তারা মুখোশের আড়ালে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হয়েও তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ষড়যন্ত্র করার জন্য নির্বাচনে দাঁড়িয়েছে।  আমরা দেখছি নির্বাচনকে সামনে রেখে উগ্র মৌলবাদী শক্তি বিভিন্ন মামলার আসামী এবং জামায়াত শিবির জঙ্গির এজেন্টরা তৈমূর সাহেবের কাছে আসছে। এ আইনজীবী নেতা বলেন, আমরা আশঙ্কা করছি উগ্র সাম্প্রদায়িক কথা বলে শহরে দাঙ্গা করতে চাইতেছে তারা। আর তার এ বক্তব্যে এক প্রতিক্রীয়া বিএনপির একাধিক নেতা বলেন, আওয়ামীলীগের পায়ের তলার মাটি সরে গেছে তৈমূর আলম প্রার্থী হওয়ার পর। তারা ভাবতে পারেনি তৈমূর আলম প্রার্থী হবেন। আর তৈমূর আলম প্রার্থী হওয়ার বিএনপিসহ সাধারণ মানুষ তার প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে এবং তার জনপ্রিয়তা বাড়ছে। আর এ সকল অবস্থা দেখে আইভী শিবিরের মাথা খারাপ হয়ে গেছে তাই তারা আবোল তাবোল বলছেন। আমরা নির্বাচন নিরপেক্ষ চাই। জনগণ যাকে ভোট দিবে আমরা জনগণের রায়কে মেনে নেব। আরা যদি নির্বাচন নিয়ে ইঞ্জিয়ারিং করা হয়ে তবে নারায়ণগঞ্জ থেকে সরকার পতনের আন্দোলন শুরু হবে। তবে নির্বাচন পুরোদমে জমে উঠেছে। ভোটাররা নির্বাচনী উৎসব উপভোগ করছে। সাধারণ মানুষ চায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। যাতে মানুষ নির্বিঘেœ ভোট কেন্দ্রে এসে ভোট দিতে পারেন।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *