Home » শেষের পাতা » মেয়াদি সুদের ফাঁদে জিম্মি হত-দরিদ্র জনগোষ্ঠী

তৈমূরের বিরুদ্ধে আইভীর সর্বশক্তি দিয়ে লড়াই

০৭ জানুয়ারি, ২০২২ | ১১:৪৮ পূর্বাহ্ণ | ডান্ডিবার্তা | 77 Views

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট

নৌকার প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভীর পক্ষে মাঠে গোটা আওয়ামী লীগ। কেন্দ্রীয় নেতাদের থেকে শুরু করে জেলা মহানগর ও দলীয় অংগ সংগঠন সক্রিয়ভাবে মাঠে নেমেছে তাদের দলীয় প্রার্থীর জন্য। অপরদিকে বিএনপির সকল পদ হারিয়ে ‘ভয়ে কাঁপে কাপুরুষ, লড়ে যায় বীর’ শ্লোগানে একাই লড়ছেন হাতি প্রতিকের তৈমূর আলম খন্দকার। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভীকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে প্রায় প্রতিদিনই নারায়ণগঞ্জ আসছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। দিচ্ছেন বিভিন্ন নির্দেশনা। গঠন করছেন একের পর এক কমিটি। গত বুধবার রাতে শহরের চাষাড়া বাঁধন কমিউনিটি সেন্টারে নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সমন্বয়ক ও দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, সদস্য সচিব মির্জা আযম এমপিসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে যুবলীগের ২৯৭ সদস্যের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। এরআগে মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগ ২৯ সদস্যের পৃথক কমিটি করা হয়েছে নির্বাচন পরিচালনার জন্য। এছাড়া স্বাচীপসহ বিভিন্ন অংগ সংগঠনের পক্ষ থেকেও আলাদা নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। বুধবার বিকেলে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে সিদ্বিরগঞ্জে বিশাল কর্মী সভা করেছে কেন্দ্রীয় নেতারা। আজ শুক্রবার বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে বন্দরে আরেকটি কর্মী সভায় কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এসব কর্মী সভায় দলীয় মেয়র প্রার্থী সেলিনা হায়াত আইভী উপস্থিত না থাকলেও কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা নৌকা প্রতিকে ভোট চেয়ে বক্তব্য রাখছেন। দীর্ঘদিনের রাগ-অভিমানে ঘরে থাকা নেতা-কর্মীদেরও ঘর থেকে বের করে এনে নির্বাচনী কাজে নামিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। যেটা আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভীর জন্য ‘সাপে ভর’ হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, নৌকা প্রতিকে মেয়র হয়েও এতো বছর আইভীর কাছ থেকে নুন্যতম মুল্যায়ন পায়নি দলীয় নেতা-কর্মীরা। সুবিধাবাদী ও বাম দলীয়দের নিয়ে চলেছেন তিনি। যারা সকালে আইভীর পাশে আর বিকেলে রাজপথে সরকার ও দলীয় প্রধাণ শেখ হাসিনাকে নিয়ে নানা কূরুচীপূর্ণ মন্তব্য করে আসছিলো। এছাড়া দল সরকারে থাকার পরও অনেক নেতা-কর্মীর নামে একের পর এক মামলা দিয়ে হয়রানীর ফলে এবার জোরালো দাবী ছিলো আইভীকে যেন নৌকা দেয়া না হয়। অবশেষে দলীয় প্রধাণ শেখ হাসিনা নারায়ণগঞ্জের মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন সেলিনা হায়াৎ আইভীর হাতে তুলে দেন। এনিয়ে দলের অভ্যন্তরে রাগ ক্ষোভ অভিমান ছিলো অনেকের। কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশনায় সেই রাগ অভিমান ভূলে মাঠে কাজ শুরু করেছেন অভিমানীদের অনেকেই। অপরদিকে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সেলিনা হায়াত আইভীর প্রধাণ প্রতিপক্ষ হিসেবে যাকে ধরা হচ্ছে সেই স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকার বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টাসহ দলীয় সকল পদ হারিয়ে একাই লড়ে যাচ্ছেন বীরের মতো। এমনটাই অভিমত নগরবাসী অনেকের। সর্বশেষ গত বুধবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সদস্য পদ থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত ২৬ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়কের পদ থেকে তৈমূরকে সরিয়ে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হিসেবে মনিরুল ইসলামকে দায়িত্ব দেয় বিএনপি। ওই ঘটনার নয় দিন পর গত ২ জানুয়ারী বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পদ থেকে তৈমূর আলমকে প্রত্যাহার করা হয়। এরপর থেকে দলীয় অনেক নেতাকেই আর প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছেনা তৈমূরের পাশে। বহিস্কারের ভয়ে নারায়ণগঞ্জের বিএনপি নেতারা অনেকেই চুপসে গেছেন। তারপরও একে একে পদ দলীয় পদ হারিয়ে থেমে নেই তৈমূর আলম। সরকারদলীয় প্রার্থী ও আওয়ামী লীগের সর্বশক্তি নিয়োগের পরও তাদের সাথে পাল্লা দিয়ে সমানতালে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। বুকে সাহস নিয়ে বীরের মতো একাই লড়ছেন শক্তিধর প্রতিপক্ষের সাথে এমন অভিমত তৈমূর পন্থিদের।

Comment Heare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *