আজ: শুক্রবার | ২৯শে মে, ২০২০ ইং | ১৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ৬ই শাওয়াল, ১৪৪১ হিজরী | সকাল ৭:৪৭
শিরোনাম: স্বাস্থ্যবিধি মেনে ৩১মে থেকে ব্যাংকে স্বাভাবিক লেনদেন চলবে     না’গঞ্জে ৩১মে থেকে বিপনীবিতানসহ সকল দোকানপাট স্বাস্থ্যবিধি মেনে খুলছে     আড়াইহাজারে ঝোপে যুবতির লাশ উদ্ধার     দেশে একদিনে করোনা শনাক্ত ছাড়ালো ২ হাজার২৯, মৃত্যু ১৫     গত ২৪ ঘন্টায় না’গঞ্জে করোনা আক্রান্ত ৬৫জন, মোট আক্রান্ত ২৪৯০     কাশিপুরে চিকিৎসার নামে মানসিক প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণ,ধর্ষক আটক     বিশেষ ব্যবস্থায় সীমিত আকারে পাসপোর্ট বিতরণ শুরু করেছে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস     যুক্তরাষ্ট্রে ৪৪ বছরের যুদ্ধের প্রাণহানীর রেকর্ড ভাঙ্গলো     কথা রাখল না নেপাল,খুলে দেওয়া হলো এভারেস্টের দরজা     আইসিসি ও বিসিসিআইয়ের মধ্যে বিভেদ,কর না দিতে পারলে ভারত থেকে বিশ্বকাপ সরে যাবে    

সংবাদের পাতায় স্বাগতম

দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সুন্দর দেশ ভুটান

ডান্ডিবার্তা | ২০ মে, ২০২০ | ২:৫৬

সোহেল রানা
দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সুন্দর দেশ ভুটান। ড্রাগনের দেশ নামে পরিচিত দেশটির প্রায় ৩৮,৩৯৪ বর্গকিলোমিটারের পুরোটাই ভ্রমণ স্বর্গ।চলার পথে দু’পাশে উচু নিচু সুন্দর পাহাড়, চারপাশে মনরম পরিবেশে তাকালে চোখ জুড়িয়ে যায় । দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিমে ভারত। চীনের সঙ্গে ভুটানের প্রায় ৪৭০ কিমি এবং ভারতের সঙ্গে প্রায় ৬০৫ কিমি সীমানা রয়েছে। ভুটান ভ্রমণের প্রধান প্রধান শহর হল থিম্পু, পুনাখা, বুমথাং , পারো এবং টাইগারনেস প্রতিটি শহরেই আছে চোখ ধাঁধানো প্রাচীন জং, পাহাড়ের বাঁকে বাঁকে দর্শনীয় অনেক স্থান, বৌদ্ধ মন্দির আর সর্বত্রই ভালো কিছু মানুষ।আর ভুটানের অধিবাসীদের অত্যন্ত ভালো। তবে ভুটানের সবখানেই আকর্ষণীয় প্রাচীন এই জংগুলোই। এগুলো আসলে প্রাচীন দুর্গ। এখন সেখানে থাকেন ভিক্ষুরা। অনেক জং’য়ে এখনও চলে প্রশাসনিক কাজকর্ম। প্রাচীন এ জংগুলোর নির্মাণশৈলী যেমন অপরূপ তেমনি এর কারুকার্যময়। প্রতিটি জংয়ের সারা শরীর জুড়ে শোভিত নানান শিল্পকর্ম ।ভুটানের রাজধানী থিম্পু। এ শহরে অনেক জংয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সিমতোখা জং।শহর থেকে প্রায় তিন মাইল দক্ষিণে অবস্থিত এ জংয়ের প্রতিষ্ঠাতা সাবড্রং গুয়াং নামগিয়াল।
ডান্ডিবার্তা সাংবাদিক সোহেল রানা ভুটান ভ্রমনের কথা জানান, বিশ্বাস করুণ ভুটানের থিম্পু, পুনাখা, বুমথাং , পারো এবং টাইগারনেস প্রতিটি শহরেই ঘুরার মতো বেশ সুন্দর দর্শনীয় স্থান চার দিকে মেঘ, যেন মেঘ আপনাকে স্পর্শ করতে আসছে। পাহাড় গেসে উঠে অনেক হোটেল, বাড়ান্দা থেকে তাকালেই পাহাড় আর মেঘ যেন হাতের নাগালে। কি অপরূপ দৃশ্য না দেখলে বিশ্বাস করতে পারবেন না। রাতের থিম্পু শহর আরো সুন্দর লাগে, হাটতে আরো ভালো লাগে, কোন প্রকার ছিনতাই ভয় নেই। এবং থিম্পুর অধিবাসীরা অনেক বিনয়ী। তবে ভ্রমনে ৩ থেতে ৪ জন এক সাথে হলে একটি ট্যাক্সি ভাড়া, খাওয়া দাওয়া, হোটের ভাড়া সব খরচ অনেক কমে যাবে। তাই আমি মনে করি অল্প খরচে ভ্রমনের জন্য খুব সুন্দর দেশ হবে ভুটান।
রাতের থিম্পু শহর।
থিম্পু শহরে আছে মেমোরিয়াল চোর্টেন, ন্যাশনাল লাইব্রেরি, টেক্সটাইল মিউজিয়াম, ক্লক টাওয়ার, ফারমার্স মার্কেটসহ আরও অনেক দর্শনীয় স্থান। শহরের পাশে পাহাড়ের এক চূড়ায় বসে থিম্পুকে দেখভাল করেন বিশাল আকৃতির এক বুদ্ধমূর্তি।শহরের যে কোনো জায়গা থেকেও এটিতে দেখা যায়। পাহাড়ের উপরে প্রায় ২০০ ফুট উঁচু বুদ্ধমূর্তি ছাড়াও ব্রোঞ্জের তৈরি নানা মূর্তি আছে এখানে। জায়গাটির নাম বুদ্ধা পয়েন্ট। থিম্পু শহর থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ভুটানের সবচেয়ে উঁচু স্থান পুনাখা। হিমালয় দেখার আদর্শ স্থান এটি।থিম্পু থেকে পুনাখার পথে ৩০ কিলোমিটার দূরে দোচুলা পাস। ৩,৯৮৮ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এ জায়গা ভুটানের মানুষের কাছে একটি পবিত্র স্থান।জায়গাটিতে নভেম্বরের শেষ থেকে ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে বরফ পড়ে।এছাড়া দোচুল পাসের আরেকটি আকর্ষণ হল ড্রুক ওয়াংগাল লাখাং মন্দির। দোচুলা পাহাড়ি পথে ৪০ কিলোমিটার সামনে গেলে পুনাখা। পুনাখা জং, ফার্টিলিটি টেম্পল, পো চু এবং মো চু নদীর বৈচিত্রময় রূপ পুনাখার অন্যতম আকর্ষণ।ভুটানের দুই নদী মো চু এবং পো চু। পাহাড়ের বাঁকে বাঁকে বয়ে চলেছে নদী দুটি। ভুটানের মানুষের বিশ্বাস মো চু নারী। আর পো চু পুরুষ। পো চু এবং মো চু এসে মিলেছে পুনাখায়। স্থানীয় ভাষায় চু শব্দের অর্থ নদী। থিম্পু শহরের পাশে বৃদ্ধা পয়েন্টে বুদ্ধমূর্তি।পারো শহরের এক প্রান্তে পারো ভ্যালির ৯০০ মিটার উপরে বৌদ্ধ মন্দির টাইগার্স নেস্ট। স্থানীয়দের বিশ্বাস, গুরু রিন পোচে এক বাঘিনির পিঠে চড়ে এ পাহাড় চূড়ায় পৌঁছে সাধনায় বসেছিলেন। এরপর থেকেই এই জায়গাটি পরিচিতি পায় ‘টাইগার্স নেস্ট’ নামে।তবে এর আরেক নাম তাকশাং বৌদ্ধ বিহার। জায়গাটি বেশ দুর্গম, বড় একটা অংশ উঠতে হয় পায়ে হেঁটে।
পারো শহরেই ভুটানের একমাত্র বিমানবন্দর। এই শহরের আরেক বিশেষ জায়গা হল পারো জং বা রিনপুং জং। পারোর সবচেয়ে বড় জং এটি। ১৬৪৬ সালে ভুটানের পশ্চিমাঞ্চলের প্রশাসনিক কেন্দ্র ও ভিক্ষুদের বসবাস কেন্দ্র হিসেবে এই জংটি নির্মাণ করেন সাবড্রং গুয়াং নামগিয়াল।
যাতায়াত ও থাকা
বাংলাদেশ থেকে সড়ক ও আকাশপথে ভুটান জাওয়ায় যায়।
ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ড্রুক এয়ারের বিমান যায় ভুটান। বাংলাদেশ থেকে বায়রোডে যাওয়া চমৎকার এক জারননি, ভুড়িমারি বর্ডার দিয়ে পার হয়ে সড়ক পথে ভারতের শিলিগুড়ি হয়ে ফুন্টসলিং দিয়ে ভুটান প্রবেশ করা যায়। সে ক্ষেত্রে ভারতের ট্রানজিট ভিসার প্রয়োজন হবে। ভুটানে বাংলাদেশি পর্যটকদের পোর্ট এট্রি ভিসা দেওয়া হয়। প্রতিটি শহরেই বিভিন্ন মানের হোটেল আছে। সাধারণ মানের হোটেলগুলোর প্রতি দিনের ভাড়া ৮শ’ থেকে ২ হাজার রুপি (ভুটানের টাকা)।
ভুটানে ভ্রমণে সবচেয়ে ভালো সময় মার্চ থেকে মে এবং সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর মাস।তবে অন্যান্য সময়েও যেতে পারেন। অগাস্ট থেকে সেপ্টেম্বরে গেলে বাগানে আপেল পাওয়া যাবে।থিম্পু, পুনাখা কিংবা পারো শহরের দোকান পাট সন্ধ্যার পর পরই বন্ধ হতে শুরু করে। কেনাকাটা থাকলে আগেভাগেই সেরে ফেলা উচিৎ।
ভুটানের বেশিরভাগ দোকানে ভারতীয় রূপির প্রচলন আছে। এছাড়া স্থানীয় মুদ্রা ‘নু’র মূল্যমানও ভারতীয় মুদ্রার মতোই।পারো ভুটানের একমাত্র বিমানবন্দর। সরকারী বিমান সংস্থা ‘ড্রুক এয়ার’ ছাড়া অন্য কোনো যাত্রবাহী বিমান এ বন্দরে ওঠানামা করে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *