আজ: রবিবার | ১২ই জুলাই, ২০২০ ইং | ২৮শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ২১শে জিলক্বদ, ১৪৪১ হিজরী | বিকাল ৫:৪১

সংবাদের পাতায় স্বাগতম

দলের স্বার্থে দেখা নেই কামালের

ডান্ডিবার্তা | ০৪ জুন, ২০২০ | ১২:৫০

ডান্ডিবার্তা রিপোর্ট
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল বর্তমানে বসবাস করছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। করোনা ভাইরাসের প্রাদূর্ভাব শুরুর প্রথম দিকে ৯ মার্চ দেশ ছেড়ে আমেরিকায় পাড়ি জমান এই নেতা। গত প্রায় তিনমাসে অসহায় সাধারণ মানুষ বা তার দলীয় দুস্থ্য নেতাকর্মী কাউকেই কোন প্রকার সাহায্য সহযোগিতা তিনি করেননি বরং মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীদের জন্যে দেয়া নজরুল ইসলাম আজাদেরে এক লক্ষ টাকা বিতর্কিত নেতা আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে নিয়ে ভাগাভাগি করে খেয়ে ফেলার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ইতিপূর্বেও বহুবার টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটালেও মহামারিতে দেওয়া ত্রাণের টাকাও যে এটিএম কামাল হজম করে ফেলবেন তা কেউ ঘুনাক্ষরেও ভাবতে পারেননি। তাই অনেক নেতাকর্মী ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, রাজনীতি থেকে এটিএম কামাল শুধু নিয়েই গেলেন, কিছু দিয়ে গেলেন না। সূত্রে প্রকাশ, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল, এর বাইরে তার আর কোন পরিচয় নেই। তিনি কোন ব্যবসা করেন না, না করেন কোথাও চাকুরী। সহায় সম্পদ বলতে শহরের মিশনপাড়ায় ছোট্র একটা ফ্লাট। সেখানেই তিনি পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করেন, পাননা কোন বাড়ি ভাড়ার টাকা। তবে কোন পেশায় না থেকেও বিলাসী জীবন যাপণ করেন এই রাজনীতিবীদ। বছরের বেশীরভাগ সময়েই থাকেন স্বপ্নের দেশ আমেরিকায়। কোন আয় রোজগার ছাড়াই এ ধরনের আয়েশী জীবন যাপনের নেপথ্য কারন নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে রয়েছে চাপা গুঞ্জণ। অনেকে মনে করেন রাজনীতিই হলো এটিএম কামালের পেশা, আয়ের একমাত্র উৎস। সূত্র মতে, নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রহস্যময় এক চরিত্রের নাম এটিএম কামাল। রাজনীতির পথচলায় বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রূপ ধারন করেন তিনি। যেমন গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী এসএম আকরামের নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন তিনি। বিভিন্ন সূত্র মতে আকরামের কাছ থেকে এজন্য বিশাল অংকের একটি টাকাও পান কামাল। কিন্তু নির্বাচনী প্রচারনার কয়েকদিনের মধ্যেই উধাও হয়ে যান তিনি। গুঞ্জণ রয়েছে সরকারী দলের প্রার্থীর কাছ থেকে মোটা অংকের ‘বখশিস’ পেয়ে নির্বাচনী মাঠ চাড়েন সুচতুর কামাল আর বিষয়টি বিশ্বাসযোগ্য করতে তার ছেলেকে গ্রেফতারের নাটক সাজান। নির্বাচনের এই টাকা নিয়ে পাড়ি জমান সুদুর আমেরিকায়। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে মহানগর বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের কমিটি গঠনের নাম করেও অর্থ বানিজ্যের অভিযোগ রয়েছে এটিএম কামালের বিরুদ্ধে। দলের বিভিন্ন কর্মসূচির জন্য নেতাকর্মীদের কাছ থেকে সংগৃহিত অর্থও সঠিকভাবে খরচ না করার কথা জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধীক নেতা। নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল একজন ‘পল্টিবাজ’ নেতা। এ সুবিধাবাদী নেতা যখন যে দিকে বাতাস বয়, সে দিকেই পাল তোলেন। কখনো তাকে দেখা গেছে জেলা বিএনপি’র সভাপতি তৈমূর আলমের কাছের লোক হিসেবে, আবার কিছুদিন পরেই ভোল পাল্টে কখনো সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলী কিংবা গিয়াসউদ্দিনের লেজুরবৃত্তি করতে। ২০০১ পরবর্তী সময়ে এ মুখোশধারী নেতাও বিএনপি’কে পল্টি দিয়ে যোগ দিয়েছিলো একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বিকল্পধারায়। বিএনপি থেকে বিল্পধারায় গিয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সণ বেগম খালেদা জিয়া ও তার পুত্র তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে অশ্লিল ভাষায় বক্তব্যও দিয়েছেন এটিএম কামাল। কিন্তু সেখানে বেশীদিন সুবিধা করতে না পেরে আবারো বিএনপিতে ফিরে আসেন। নিজ স্বার্থের জন্য তিনি দলের মায়া ত্যাগ করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেন না। সূত্র আরো জানায়, এটিএম কামালের রাজনীতির হাতেখড়ি বিএনপি চেয়ারপার্সণ বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা এড. তৈমর আলম খন্দকারের হাত ধরে। দীর্ঘদিন প্রবাস জীবন কাটিয়ে দেশে ফেরা এটিএম কামালের নিজস্ব কোন লোকবল না থাকায় তৈমূরের সান্নিধ্যে থেকে শুরু করেন নিজেকে পরিচিত করার কাজ। তৈমূরের সাথে থাকার প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে চলে যান নতুন গন্তব্যে। এরপর একে একে সাবে এমপি মো: গিয়াসউদ্দিন, মো: আলী, কাজী মনির হয়ে বর্তমানে বাসা বেঁধেছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এড. আবুল কালামের ডেরায়। আর এতে করে ক্ষোভের সঞ্চার হয় নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র তৃণমূলে। একসময় এই আবুল কালামকেই সংস্কারবাদী উল্লেখ করে তার কুশপুত্তলিকা দাহ করেছিলেন এটিএম কামাল। আর আজ নিজ স্বার্থে সেই কালামের সান্নিধ্যেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার স্বপ্ন দেখছেন এটিএম কামাল। তৃণমূলের ক্ষোভের সবচেয়ে বড় কারন হলো এটিএম কামালের বিএনপি ছেড়ে বিকল্পধারায় যোগদান এবং সেখানে সুবিধা করতে না পেওে আবারো বিএনপিতে প্রত্যাবর্তন। যে কামাল একদিন বিকল্পধারায় গিয়ে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছিলেন, সেই কামালই যখন বিএনপির প্রথম সারির নেতা হয়ে যান, তখন তৃণমূলের ক্ষোভ প্রকাশ করা ছাড়া আর কিইবা করার থাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *